বৃহস্পতিবার, ১৬ Jul ২০২৬, ০৮:৪৮ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : সুন্দর অভিনয় দিয়ে দর্শকের মন জয় করেছেন ছোটপর্দার পরিচিত মুখ শাহেদ আলী। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই অভিনয় করছেন নানা চরিত্রে। একই সঙ্গে মঞ্চ ও টিভির দর্শকদের উপহার দিচ্ছেন ভালো অভিনয়। সেইসঙ্গে বর্তমানে বড়পর্দায়ও রয়েছে তার সরব উপস্থিতি। গুণী এই অভিনেতাকে নিয়ে লিখেছেন ফয়জুল আল আমীন
অভিনয়ের শুরুটা মঞ্চ নাটকের মাধ্যমে। পরিবারের দুই সদস্যও অভিনয়ের সাথে যুক্ত ছিলেন। বাবা শওকত আলী মঞ্চ ও টিভিতে নিয়মিত অভিনয় করতেন। আর দাদা ছিলেন যাত্রার একজন দক্ষ অভিনেতা। নিজের অভিনয়ে আসার গল্প প্রসঙ্গে শাহেদ আলী বলেন, ‘ছোট থেকেই থিয়েটারের প্রতি ঝোঁক ছিল। সেই ইচ্ছেটা পূরণ হয় ১৯৯৭ সালে। আজাদ আবুল কালামের হাত ধরে প্রাচ্যনাটে যোগ দিই। সেই থেকে আজ পর্যন্ত দলটির সঙ্গে আছি। তবে পর্দায় আমার অভিষেক ২০০৫ সালে, গিয়াস উদ্দিন সেলিমের পরিচালনায় মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘হারানোর নাতজামাই’ দিয়ে। মাঝে অমিতাভ রেজা, বদরুল আনাম সৌদ, অনিমেষ আইচ, মেজবাউর রহমান সুমন, সুমন আনোয়ারসহ অনেকের নাটকে কাজ করেছি। তবে নিয়মিত ছিলাম না। এখন নিয়মিত অভিনয় করছি।’
শাহেদ আলী অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটক হলো—মেজবাউর রহমান সুমনের পরিচালনায় ‘রেলস্টেশনের শোনা গল্প’, অমিতাভ রেজা চৌধুরীর ‘একটা ফোন করা যাবে প্লিজ’, অরণ্য আনোয়ারের ‘রূপকথা’, রবিউল আলম রবির ‘মাটনরোস্ট’, সামির আহমেদের ‘অরুণাদয়ের তরুণ দল’, অনিমেষ আইচের ‘গরম ভাত অথবা নিছক ভূতের গল্প’, গিয়াসউদ্দিন সেলিমের ‘অবগুণ্ঠন’ ও ‘অতপর’।
গত জানুয়ারিতে কলকাতায় মুক্তি পায় শাহেদ আলী অভিনীত ‘সিতারা’ চলচ্চিত্র। আশীষ রায়ের পরিচালনায় ওই ছবিতে তিনি অসাধারণ অভিনয় করেছেন। বর্তমানে শাহেদ আলী অভিনীত কয়েকটি ধারাবাহিক নাটক বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে। এগুলো হলো—অরণ্য আনোয়ারের পরিচালনায় মাছরাঙা টিভিতে ‘ফুল এইচডি’, দীপ্ত টিভিতে ‘ভালোবাসার আলো আঁধার’ এবং সুমন আনোয়ারের পরিচালনায় চ্যানেল নাইনে ‘সুখী মীরগঞ্জ’।
বর্তমানে বেশ কয়েকটি ধারাবাহিকের অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটছে তার। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি খন্ড নাটকের শুটিং শেষ করলেন এই গুণী অভিনেতা। এগুলো আগামী বৈশাখে ও ঈদের বিশেষ নাটক হিসেবে বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার হবে। নাটকগুলো হলো—আবু হায়াত্ মাহমুদের পরিচালনায় ‘রাতপ্রহরী ও ফুলনদেবী’, ইমরাউল রাফাতের ‘পাঁচ টন’, সুমন আনোয়ারের ‘সাদা মানুষ’, শিহাব শাহীনের ‘পথ বেঁধে দিলো’ প্রভৃতি।
শুরু থেকেই শাহেদ প্রাচ্যনাটের সঙ্গে আছেন। মঞ্চে তার উল্লেখযোগ্য নাটক হলো—‘দরিয়া খোলা’, ‘সাকার্স সাকার্স’, ‘এ ম্যান ফর অল সিজনস’, ‘রাজা এবং অন্যান্য’, ‘জন্তু’, ‘কৈবল্য’, ‘বোম’, ‘ফৌজ হাট’, ‘তোতা কাহিনি’। এছাড়া মঞ্চে নির্দেশনা দিয়েছেন—‘ফাল্টাটিক মিটার ফক্স’ এবং ‘তুঘলক’ নাটকে। তার শৈশব-কৈশোর কেটেছে পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে। অভিনয়ে অন্তপ্রাণ এই তরুণ পড়াশোনা করেছেন সেন্ট গ্রেগরি স্কুল ও নটরডেম কলেজে। নিজের অভিনীত চরিত্রগুলো সম্পর্কে বলতে গিয়ে শাহেদ বলেন, ‘গতানুগতিক চরিত্রের বাইরে ভিন্ন মাত্রার চরিত্রের প্রতি আমি সব সময়ই দুর্বল।’ তিনি আরো বলেন, ‘অভিনয়ের জন্য চরিত্রকে বোঝা ও পর্যবেক্ষণ করার ক্ষমতা একজন অভিনেতা বা অভিনেত্রীর মধ্যে থাকতে হবে। আমি বরাবরই কোনো একটি চরিত্রে অভিনয় করার আগে স্ক্রিপ্ট ভালোভাবে পড়ি। এরপর ওই চরিত্রটি নিজের ভেতর ধারণ করি। সেইসঙ্গে একজন অভিনেতা বা অভিনেত্রী যদি পাঁচটি বিষয়কে ভেবে তার চরিত্রের অবস্থান ঠিক করে, তবে ওই চরিত্রে সহজেই রূপদান করা যায়। পাঁচ বিষয় হলো—সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, শিক্ষাগত ও পারিবারিক অবস্থান।’
নগরকন্ঠ.কম/এআর