বৃহস্পতিবার, ১৬ Jul ২০২৬, ০৩:৪১ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : জেলার মাটিরাঙ্গার গাজীনগরে গ্রামবাসীর সঙ্গে বিজিবির সংঘর্ষের ঘটনায় বিজিবি’র হাবিলদার ইসহাক আলীর মামলা পুলিশ গ্রহণ করেছে পুলিশ। এদিকে অভিযোগ উঠেছে, নিহত চারজন গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে মামলা দিতে গেলে মামলাটি নেয়নি মাটিরাঙ্গা থানার পুলিশ। এদিকে ওসি বলেছেন, কেউ এপর্যন্ত মামলা দিতে আসেননি। এলে অবশ্যই তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে গ্রহণ করা হবে।
নিহত মো. মফিজ মিয়ার ছেলে মো. মানিক মিয়া জানান, তিনি বৃহস্পতিবার মাটিরাঙ্গা থানায় গিয়ে ৪০ বিজিবি’র হাবিলদার ইসহাক আলীর নাম উল্লেখ করে মামলা করতে চাইলে পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে নিরুৎসাহিত করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে এলাকাবাসী।
মানিক মিয়া বলেন, ‘বাবাসহ স্বজনদের দাফন ও গুলিবিদ্ধ ভাইয়ের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সন্ধ্যার দিকে মাটিরাঙ্গা পৌরসভার কাউন্সিলর আলাউদ্দিন লিটনকে সঙ্গে নিয়ে মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ আমাদের মামলা না নিয়ে বের করে দেন।’
মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র মো. শামছুল হক ও ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. এমরান হোসেন সাংবাদিকদের জানান, থানা বিজিবির বিরুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের মামলা গ্রহণ না করা একজন নাগরিকের আইনগত অধিকারের পরিপন্থি। বিজিবির মিথ্যা মামলার কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভয়-ভীতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। গ্রামের সাধারণ মানুষ গ্রেফতার আতঙ্কে দোকান পাট বন্ধ রেখে ও বাড়িঘর ছেড়ে বনে জঙ্গলে রাত কাটাচ্ছে। এই ঘটনায় এলাকার মানুষের মধ্যে আতংকের পাশাপাশি ক্ষোভ বিরাজ করছে। সংক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর ক্ষোভ উত্তেজনা ক্রমশ: এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. দুলাল মিয়া জানান, মঙ্গলবারের ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সামনে সত্য কথা বলার কারণে সাধারণ গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে বিজিবি মিথ্যা সাজানো মামলা করেছে। আমরা বাড়িঘরে থাকতে পারছিনা। ভয় আর গ্রেফতার আতঙ্কে সারারাত জঙ্গলে কাটাতে হচ্ছে।
মাটিরাঙ্গা থানার ওসি এলাকার সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে বলে দাবি করে বলেন, গ্রেফতার আতঙ্কে হয়তো কেউ কেউ পালিয়ে থাকতে পারেন।
এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন কাজ করছে জানিয়ে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিভীষণ কান্তি দাশ সাংবাদিকদের বলেছেন, সাধারণ মানুষ যেন কোনো ভাবেই হয়রানির শিকার না হয় তা নিশ্চিত করা হবে।
নগরকন্ঠ.কম/এআর