বৃহস্পতিবার, ১৬ Jul ২০২৬, ১০:২৩ পূর্বাহ্ন

ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রীই বর-কনেবাহী নৌকাডুবির কারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে পদ্মায় নববধূসহ নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে বলে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নৌকাডুবির কারণ অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু আসলামসহ সাত সদস্যের কমিটি তাদের প্রতিবেদনে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।

এ দিকে নববধূ সুইটি খাতুন পূর্ণির (১৬) লাশ সোমবার সকালে উদ্ধারের পর চলমান উদ্ধার অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

একই সঙ্গে আগামীতে যেন এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা যায় তার জন্য একটি অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

সোমবার বিকালে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ ঘটনায় জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে রাজশাহী জেলা প্রশাসক (ডিসি) হামিদুল হক এই ঘোষণা দেন।

তদন্ত প্রতিবেদনের দাখিলকৃত প্রতিবেদন অনুযায়ী পদ্মায় বর-কনেবাহী নৌকাডুবির ঘটনার কারণ উল্লেখ করে রাজশাহী জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, মাছ ধরার ইঞ্জিনচালিত ডিঙ্গি নৌকায় ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত (৮-১০ জনের স্থলে ২০-২২ জন) যাত্রীবোঝাই, নদীতে হঠাৎ তীব্র স্রোত এবং বিপরীতমুখী ঝড়ো বাতাসের কারণে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।

দুর্ঘটনার পর প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্তদের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। পরে এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রাথমিক তদন্তে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত ৬২ ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানে বরসহ ৩৩ জনকে জীবিত এবং এক শিশুকে মৃত উদ্ধার করা হয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, পদ্মার চরে গিয়ে বৌ-ভাতের অনুষ্ঠান শেষে অসচেতনভাবে সবাই নৌকায় ওঠেন।

রাজশাহী মহানগরীর শ্রীরামপুরের বিপরীতে পদ্মা নদীর মাঝে দুর্ঘটনার সময় দুইটি নৌকায় বর-নববধূসহ মোট ৪২ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে জেলা প্রশাসনের সার্বিক সমন্বয় ও পরিচালনায় মেট্রোপলিটন পুলিশ, জেলা পুলিশ, নৌপুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বিজিবি ও বিআইডব্লিউটিএ স্থানীয় জেলের একটি সমন্বিত দল পদ্মানদীতে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে।

উদ্ধারকৃতদের মধ্যে পাঁচজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চারজনকে ছেড়ে দেয়া হয় এবং অবশিষ্ট একজন বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি হলেন- নিহত নববধূ সুইটির বাবা শাহীন আলী (৪৮)।

নিখোঁজ ৯ জনের লাশ উদ্ধারে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বিজিবি ও স্থানীয় জেলের সঙ্গে সর্বশেষ যুক্ত হয় বিআইডব্লিউটিএর ডুবুরি দল। এক এক করে সোমবার সকালে সর্বশেষ সুইটি খাতুন পূর্ণির লাশ উদ্ধার হয়।

লাশ উদ্ধারের পর শনাক্তকরণ ও সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। শেষে দাফনের জন্য নগদ ২০ হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান করা হয়। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ মরদেহগুলো স্ব-স্ব ঠিকানায় পাঠানো হয়।

এ ছাড়া দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ইতিমধ্যেই তদন্ত কমিটি তদন্ত কাজ শেষে প্রতিবেদন দাখিল করেছে। এখন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা হবে।

পাশাপাশি কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী আগামীতে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকরী বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হবে। আর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন থেকে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ, বাস্তবায়ন ও তদারকি করা হবে বলেও উল্লেখ করেন জেলা প্রশাসক।

এ সময় ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের কোনো ঘটনা না ঘটে সে জন্য মাছ ধরার নৌকা, যাত্রীবাহী নৌকা ও প্রমোদতরী আলাদা আলাদাভাবে চিহ্নিত করে দেয়া, নৌকার মাঝির বয়স নির্ধারণ করে দেয়া এবং প্রতিটি নৌকায় যাত্রী ধারণ ক্ষমতা লিখে দেয়াসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও তুলে ধরেন জেলা প্রশাসক।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আবু আসলাম, বিজিবি-১ ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফেরদৌস জিয়া উদ্দিন মাহমুদ, রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) বোয়ালিয়া জোনের উপ-কমিশনার সাজিদ হোসেন, রাজশাহীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) ইফতে খায়ের আলম, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স রাজশাহী সদর দফতরের উপ-পরিচালক (ডিডি) আবদুর রউফ, রাজশাহী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আমিনুল হক উপস্থিত ছিলেন।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com