মসজিদ ভেঙে দেয়ায় জামালপুরে দেড় মাস ধরে নামাজ বন্ধ

মসজিদ ভেঙে দেয়ায় জামালপুরে দেড় মাস ধরে নামাজ বন্ধ

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জামালপুর সদরের চাঁদপুর গ্রামে দেড় মাস ধরে নামাজ পড়তে পারছেন না মুসল্লিরা। ইউপি মেম্বারের নেতৃত্বে মসজিদ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুই পক্ষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। যে কোনো সময় দুই পক্ষের মাঝে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।

জামালপুর জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগে জানা যায়, সদর উপজেলার দিগপাইত ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামের দক্ষিণপাড়া গ্রামে জামে মসজিদে নামাজ আদায় করে আসছিলেন এলাকার মুসল্লিরা। মসজিদের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে স্থানীয় ইউপি মেম্বার জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে বিরোধ হলে মুসল্লিরা ওই মসজিদে নামাজ আদায় বন্ধ করে চাঁদপুর দক্ষিণপাড়ায় পাঞ্জেগানা মসজিদ নির্মাণ করে নামাজ আদায় করে আসছিলেন। গত ৯ জুলাই রাতে ইউপি মেম্বার জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে স্থানীয় সিরাজ উদ্দিন, হাসেম, শাহীন, আব্দুল লতিফ, ইসমাইল, আবু বক্কর, মোতালিব, আব্দুল লতিফ, হোসেন আলী ও রেজাউল হামলা চালিয়ে পাঞ্জেগানা মসজিদটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। এরপর থেকে এলাকাবাসীর নামাজ পড়া বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় মুসল্লিরা এ নিয়ে জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দফতরে আবেদন করলেও কোনো কাজে আসেনি। উল্টো মুসল্লিদের হুমকি দিয়ে আসছে ইউপি মেম্বার জাহাঙ্গীর আলম ও তার সাঙ্গোপাঙ্গরা। খবর পেয়ে সম্প্রতি নারায়ণপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আব্দুল আলিম নামে একজন এসআই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও কোনো কাজে আসেনি।

মসজিদ ভাংচুরকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় মুসল্লিদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। যে কোনো সময় এ নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

দিগপাইত ইউপি চেয়রম্যান মিজানুর রহমান জানান, চাঁদপুর গ্রামের পাঞ্জেগানা মসজিদ ভেঙে দেয়ার ঘটনা শুনেছি। ঘটনার পর স্থানীয় কয়েকজন তার সঙ্গে কথা বলেছিলেন। এরপর কেউ আর আসেননি। এখন কী অবস্থায় আছে, সেটা তার জানা নেই।

অভিযুক্ত ইউপি মেম্বার জাহাঙ্গীর আলমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

মোবাইলে চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি নারায়ণপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আব্দুল লতিফকেও।

মসজিদ ভাঙার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা এবং ভেঙে দেয়া মসজিদ পুন:নির্মাণ করে নামাজ পড়ার সুব্যবস্থা করতে সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে- এমন প্রত্যাশা স্থানীয় মুসল্লিদের।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

কোন কমেন্ট নেই

উত্তর দিন