ক্রাইস্টচার্চে হামলাকারীর সবচেয়ে কঠোর সাজার অনুরোধ

ক্রাইস্টচার্চে হামলাকারীর সবচেয়ে কঠোর সাজার অনুরোধ

0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নগরকন্ঠ.কম : নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে হামলাকারী শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদী ব্রেন্টন ট্যারেন্টের সবচেয়ে কঠোর সাজা প্যারোলে মুক্তির সুযোগ না রেখে আজীবন কারাদণ্ড দিতে বিচারকের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন নিহতদের পরিবারের সদস্যরা।

অর্ধশতাধিক মানুষকে হত্যার পরও কোনো অনুশোচনা না থাকা এবং সাজা ঘোষণার শুনানিতে এক আহতের দিকে তাকিয়ে তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়েছেন বলে মনে হওয়ার পর আহত ও নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে এ অনুরোধ জানানো হয়। মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

২০১৯ সালে ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে গুলিতে আহত মিরওয়াইজ ওয়াজিরি মঙ্গলবার যখন দেখেন ট্যারেন্টের ‘চোখে কোনো অনুশোচনা, কোনো লজ্জা নেই’, তখন আদালতে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা বিবৃতি তিনি সরিয়ে রাখেন। এর পরিবর্তে তিনি সরাসরি ট্যারেন্টকে উদ্দেশ্য করে কথা বলেন।

মিরওয়াইজ বলেন, ‘তিনি কোনো কিছুর জন্যই অনুতপ্ত নন।’

ক্রাইস্টচার্চ হাই কোর্টে সাজা ঘোষণার শুনানির দ্বিতীয় দিনে ট্যারেন্টকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আজ আপনাকে সন্ত্রাসী বলা হচ্ছে এবং আপনি বিশ্বের কাছে প্রমাণ করেছেন যে মুসলমানরা সন্ত্রাসী নয়। আমি নিউ জিল্যান্ডের জনগণকে বলতে চাই সন্ত্রাসীর কোনো ধর্ম থাকে না, জাতি বা বর্ণ থাকে না।’

ট্যারেন্টকে উদ্দেশ্য করে শুনানিতে আরও বক্তব্য রাখেন আল নূর মসজিদে হামলায় বেঁচে যাওয়া নাথান স্মিথ।

ট্যারেন্ট তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়েছেন মনে হওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাজ্যে জন্ম নেওয়া স্মিথ বলেন, ‘যদি অবসর সময় পান, যা আপনার পর্যাপ্তই থাকবে। মজার ব্যাপার, তাই না? ওই সময়ে আপনার কোরান পড়ার চেষ্টা করা উচিত। এটা চমৎকার।’

অস্ট্রেলীয় শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদী ট্যারেন্ট ২০১৯ সালের মার্চে ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে বন্দুক হামলা চালিয়েছিলেন। হামলার ঘটনা ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করেছিলেন তিনি। ৫১ জনকে হত্যা, ৪০ জনকে হত্যাচেষ্টা ও সন্ত্রাসবাদের দায় স্বীকার করে নেওয়া ২৯ বছর বয়সী ট্যারেন্টের সাজা চলতি সপ্তাহেই ঘোষণার কথা রয়েছে।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

কোন কমেন্ট নেই

উত্তর দিন