করোনা মোকাবেলায় কৌশল বদলানোর বিষয়ে ভাবছে জার্মানি!

করোনা মোকাবেলায় কৌশল বদলানোর বিষয়ে ভাবছে জার্মানি!

0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নগরকন্ঠ.কম : করোনা মোকাবেলায় কৌশল বদলানোর বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করছে জার্মানি। সোমবার ফেডারেল ও রাজ্য স্তরের স্বাস্থ্যমন্ত্রীরা একাধিক পদক্ষেপের বিষয়ে আলোচনা করেন। বিশেষ করে যেসব মানুষ উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল থেকে জার্মানিতে প্রবেশ করছেন, তাঁদের করোনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে বর্তমান নিয়মে রদবদলের পরিকল্পনা হচ্ছে।

দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, বর্তমানে বিমানবন্দর, রেলস্টেশন ও হাইওয়েতে বিনা মূল্যে পরীক্ষার ব্যবস্থা চালু রয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে এমন যাত্রীদের বাধ্যতামূলক পরীক্ষা বন্ধ করে ভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিনা মূল্যে করোনাভাইরাস পরীক্ষার ব্যবস্থাও বন্ধ করা হবে। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে জার্মানিতে প্রবেশ করলে সব যাত্রীকে নিজস্ব উদ্যোগে বাকি মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে হবে। আগমনের পাঁচ দিন পর করোনা পরীক্ষায় নেতিবাচক ফলাফল হলে কোয়ারেন্টিন থেকে বেরিয়ে আসা যাবে। বিশেষ ওয়েবসাইটে এমন যাত্রীরা নিজস্ব নাম-ঠিকানা নথিভুক্ত করতে পারবেন। তবে নতুন নিয়মের দিনক্ষণ এখনো স্থির করা হয়নি। তবে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি অথবা ১ অক্টোবর থেকে সম্ভবত নতুন নিয়ম কার্যকর হতে পারে।

জার্মানিতে বেড়ে চলা সংক্রমণের জন্য এই মুহূর্তে পারিবারিক উৎসব-অনুষ্ঠানকে বিশেষভাবে দায়ী করা হচ্ছে। এমন জমায়েতে মানুষ সামাজিক দূরত্ব অথবা মাস্কের পরোয়া না করায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। প্রকাশ্যে মাস্ক পরার ক্ষেত্রেও অনেকে বিধি-নিয়ম মানছে না। তাই ইচ্ছাকৃতভাবে নিয়ম ভাঙলে জরিমানার অঙ্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীরা। নিয়ম কার্যকর করতে রেলস্টেশন ও মানুষের সমাবেশের অন্যান্য জায়গায় নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। এ ছাড়া করোনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে হাসপাতাল ও বৃদ্ধাশ্রমের ওপর বেশি জোর দিতে চায় জার্মান কর্তৃপক্ষ।

সোমবার স্বাস্থ্যমন্ত্রীদের সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা নিয়ে বৃহস্পতিবার আলোচনা করবেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল ও রাজ‍্যগুলোর গভর্নররা। ভার্চুয়াল মিটিংয়ে তাঁরা দেশজুড়ে সার্বিক পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। বর্তমানে করোনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা নিয়েও তাঁরা আলোচনা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সপ্তাহে আট লাখ ৭৫ হাজার পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।

জার্মানির ল্যাবগুলোতে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ১২ লাখ পরীক্ষার ক্ষমতা রয়েছে। তবে বেড়ে চলা পরীক্ষার কারণে এই অবকাঠামোর ওপর চাপ বাড়ছে, পরীক্ষার ফল পেতে দেরি হচ্ছে। ফলে করোনা পজিটিভ কিছু মানুষ বিনা বাধায় অন্যান্য মানুষের কাছাকাছি চলে যাচ্ছে।

জার্মানির ফেডারেল কাঠামোর কারণে রাজ্য অনুযায়ী ভিন্ন নিয়মের সমালোচনা শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে পারিবারিক ও অন্যান্য সমাবেশে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সংখ্যা, মাস্ক পরার নিয়ম, জরিমানার মতো ক্ষেত্রে দেশজুড়ে একই নিয়ম বেঁধে দেওয়ার জন্য চাপ বাড়ছে। বাভেরিয়ার গভর্নর মার্কুস স্যোডার এমন সার্বিক নিয়মের ডাক দিয়েছেন। বৃহস্পতিবারের বৈঠকের পর কিছু ক্ষেত্রে দেশজুড়ে এমন বিধি-নিয়ম ঘোষণা করা হতে পারে।

সূত্র : ডয়চে ভেলে বাংলা।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

কোন কমেন্ট নেই

উত্তর দিন