ডেনমার্কে মাস্ক ব্যবহারে কঠোর আইন; অমান্যকারীদের গ্রেপ্তারসহ জরিমানা!

ডেনমার্কে মাস্ক ব্যবহারে কঠোর আইন; অমান্যকারীদের গ্রেপ্তারসহ জরিমানা!

0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নগরকন্ঠ.কম : যানবাহন ও স্টেশনগুলোতে মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক করে আইন করেছে ডেনমার্ক। আইনটি গত ২২ আগস্ট শনিবার থেকে কার্যকর হওয়ার পর থেকে পুলিশ সারা দেশে অত্যন্ত কঠোরভাবে নজরদারি শুরু করেছে।

অদ্যাবধি খবর পাওয়া অনুযায়ী সারা দেশে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছে তিনজন, যাদের মধ্যে একজন নারী ও দুজন পুরুষ। প্রত্যেকেই জরিমানার বিনিময়ে মুক্তিলাভ করেছেন।

কিছুদিন স্তিমিত থাকার পরে গ্রীষ্মের অবকাশ যাপনের সময়গুলোতে ডেনমার্কে আবার করোনাভাইরাসে সংক্রমণের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকায় ডেনমার্কের সরকার সারা দেশে সব ধরনের পরিবহনে মুখে মাস্ক ব্যবহারের কঠোর আইন জারি করে।
আইনে স্পষ্ট বলা হয়, পরিবহনে যাতায়াতকালে এবং বিভিন্ন স্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রীরা যদি মাস্ক ব্যবহার না করে এবং পুলিশের সঙ্গে অসহযোগিতা করে, তাহলে তাদের প্রত্যেককে বাংলাদেশি টাকায় ১০ থেকে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা ছাড়াও গ্রেপ্তার করতে পারবে। তবে আইনটি অনূর্ধ্ব-১২ বছরের যাত্রীদের জন্য প্রযোজ্য হবে না।

‘ভাইরাসটি অদৃশ্য এবং অত্যন্ত কুটিল প্রকৃতির হওয়ায় তা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সে কারণে এটাকে প্রতিরোধ করার সম্ভাব্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা সমাজের দায়িত্ব’ বলে সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেত্তে ফ্রেদরিসেন।

বক্তব্যে তিনি করোনাভাইরাস ছাড়াও অন্যান্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্যও মাস্ক ব্যবহার প্রবর্তনের অনুমতি প্রদান করেন। গ্রীষ্মের সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ডেনমার্কে ভয়াবহভাবে সংক্রমণের বিস্তার বৃদ্ধির কারণে দেশটি আবার কঠোর বিধি-নিষেধের মুখোমুখি হলো।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, পাবলিক প্লেস ছাড়াও যানবাহনগুলোতে মাস্ক ব্যবহার অতিমাত্রায় সংক্রমণের বিস্তার থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। পরিবহনমন্ত্রী বেনি এঞ্জেলব্রেক্ট দেশের সব পরিবহন কর্তৃপক্ষকে মাস্কবিহীন যাত্রীদের পরিবহনে আরোহণের ব্যাপারে বাধা দিতে আদেশ দিয়েছেন।

২৪ ঘণ্টায় মোট ৩৪১১৭ জনকে পরীক্ষা করে কভিড-১৯-এর ১০৪টি নতুন কেস পাওয়া গেছে বলে জানায় দেশটির স্বাস্থ্যবিষয়ক মন্ত্রণালয়, যা ডেনমার্কের মোট জনসংখ্যার অনুপাতে অত্যন্ত বেশি। নতুন পরিসংখ্যানটিতে আরো দেখা যায় যে, ডেনমার্কে বসবাসরত অভিবাসীদের মধ্যেই সংক্রমণ বিস্তারের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, যা প্রায় ৭০ শতাংশের মতো।

পার্শ্ববর্তী দেশ সুইডেন শুরু থেকেই কভিড-১৯ প্রশ্নে বিশ্বের অন্যান্য দেশের বিপরীত মেরুতে অবস্থান নিয়েছে। সেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া ছাড়া অন্যান্য কোনো বিষয়েই বারণ করা হয়নি এবং এ জন্য বিশ্বদরবারে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সমালোচিতও হয়েছে দেশটি। সুইডেনে স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত খোলা রাখা হয়েছে এবং মাস্ক বা হ্যান্ডগ্লাভস পরার কোনো আইন জারি করেনি।

সুইডেন থেকে প্রতিদিন প্রতিবেশী দেশ ডেনমার্কে হাজার হাজার সুইডিশ চাকরির কারণে যাতায়াত করে। সুইডেনে মাস্ক পরার বাধ্যবাধকতা না থাকলেও ডেনমার্কগামী সুইডিশদের বর্ডার পেরোনো মাত্র মুখে মাস্ক পরতে হবে এবং ড্যানিশদের মতো সুইডিশদের ক্ষেত্রেও একই আইন প্রযোজ্য হবে বলে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলে দেওয়া হয়েছে।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

কোন কমেন্ট নেই

উত্তর দিন