প্রেমিকা ও বাবা-মাকে মেরে মাটিতে পুঁতে দিয়েছিলেন, হলো যাবজ্জীবন

প্রেমিকা ও বাবা-মাকে মেরে মাটিতে পুঁতে দিয়েছিলেন, হলো যাবজ্জীবন

0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নগরকন্ঠ.কম : ২০১৭ সালের প্রথম দিকে ভারত জুড়ে চাঞ্চল্য ফেলে দিয়েছিল পশ্চিবঙ্গের বাঁকুড়ার তরুণী আকাঙ্ক্ষা শর্মার হত্যাকান্ডের ঘটনা। সেই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া আকাঙ্ক্ষার প্রেমিক উদয়ন দাসকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন বাঁকুড়ার ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের বিচারক সুরেশ বিশ্বকর্মা।

বুধবার এই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। তবে এই রায়ে খুশি নয় আকাঙ্ক্ষার পরিবার। তারা উদয়নের ফাঁসির দাবি করেছিল। উদয়নের ফাঁসির দাবিতে তারা উচ্চ আদালতে আপীল করবেন বলে জানা গেছে।

বাঁকুড়ার ব্যাংক ম্যানেজারের মেয়ে আকাঙ্ক্ষা শর্মাকে প্রেমের ফাঁদে ভুলিয়ে ভোপালে নিয়ে গিয়ে খুন করে উদয়ন দাস। ২০১৭ সালের মার্চ মাসে আকাঙ্ক্ষা খুনের ঘটনাটি প্রথমবার সামনে আসে উদয়ন ধরা পড়ার পরই। আকাঙ্ক্ষার বাবা-মা জানুয়ারি মাসে বাঁকুড়া থানায় মেয়ের নিখোঁজ সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই ঘটনার তদন্তে বাঁকুড়া থানার পুলিশ মধ্যপ্রদেশের ভূপালেও যায়। এরপর মোবাইল টাওয়ারের লোকেশান দেখে সাকেতনগরে উদয়নের বাড়িতে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। উদয়নের ওই বাড়ির একটি ঘরে সিমেন্টের একটি বেদির নীচে আকাঙ্ক্ষার দেহবাশেষ মেলে।

সেই সময়েই উদয়ন স্বীকার করেছিল যে সেই আকাঙ্ক্ষাকে খুন করেছিল। এমনকি এটাও জানা যায় ২০১০ সালে উদয়ন তার বাবা বীরেন্দ্রকুমার দাস ও মা ইন্দ্রাণী দাসকেও খুন করে ছত্তিশগড়ের রায়পুরে তাদের যে বাড়ি রয়েছে তার বাগানে পুঁতে দিয়েছে। পরে মধ্যপ্রদেশ, বাংলা ও ছত্তিশগড়ের পুলিশ যৌথভাবে সেই ঘটনার তদন্তে নেমে রায়পুরে উদয়নদের বাড়ি থেকে তার বাবা-মার দেহবশেষও খুঁজে পায়। এরপরেই উদয়নকে বাঁকুড়ায় এনে শুরু হয় তার বিচারপর্ব যা আজ শেষ হলো।

যদিও এখনো এই ঘটনার পিছনে আকাঙ্ক্ষার পরিবারের ভূমিকা নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন রয়েই গেছে। ঘটনার তদন্তে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী আকাঙ্ক্ষার বাবা ব্যাংকের ম্যানেজার। বেশ অবস্থাপন্ন ও শিক্ষিত পরিবার। ফেসবুক সূত্রে উদয়নের সঙ্গে আকাঙ্ক্ষার আলাপ হয়। উদয়ন আকাঙ্ক্ষাকে জাতিসংঘের ভুয়া নিয়োগপত্র পাঠিয়ে তাকে চাকরির জন্য ডেকে পাঠায়। সেই ভুয়া নিয়োগপত্র নিয়েই বাঁকুড়া থেকে ভূপালের সাকেতনগরে পৌঁছে যায় আকাঙ্ক্ষা।

আর এখানেই প্রশ্ন, বাড়ির মেয়ে কার সঙ্গে মিশছে, কোথায় চাকরি করতে যাচ্ছে, কার কাছে যাচ্ছে সে বিষয়টি নিয়ে কেন একদম নির্লিপ্ত ছিল আকাঙ্ক্ষার পরিবার। মেয়ে বলে যেখানে বাড়তি সুরক্ষা নেওয়ার কথা উচিত সেখানে মেয়েকে কীভাবে তারা সম্পূর্ণ অচেনা অজানা এক যুবকের কাছে পাঠিয়ে দিতে পারলেন। আর নিজেরাই বা কেউ সঙ্গে গেলেন না কেন?

সূত্র : ইন্ডিয়া টাইমস।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

কোন কমেন্ট নেই

উত্তর দিন