এলএসিতে ৬০ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে চীন, দাবি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

এলএসিতে ৬০ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে চীন, দাবি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নগরকন্ঠ.কম : লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার (এলএসি) আশপাশে চীন ৬০ হাজারেরও বেশি সেনা মোতায়েন করেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। এ বিষয়ে মার্কিন উদ্বেগের কথা জানিয়ে বেইজিংয়ের আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) ভারতীয় সরকারি সংবাদ সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার (পিটিআই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বেইজিংয়ের খারাপ আচরণ এবং ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য হুমকি হয়ে ওঠার সমালোচনাও করেছেন তিনি।

মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট ও’ব্রায়েনের স্পষ্ট অভিযোগ, ‘আলোচনার মাধ্যমে শান্তি স্থাপনের সদিচ্ছা চীনের নেই। তাদের উদ্দেশ্য, গায়ের জোরে এলএসি সংলগ্ন এলাকা দখল করা।’

ভারত, আমেরিকা, জাপান ও অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে গঠিত ‘কোয়াড’ গোষ্ঠীর পরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে গত মঙ্গলবার টোকিও গিয়েছিলেন পম্পেও। সরকারি সূত্রের খবর, সেখানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে লাদাখ পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর কথা হয়। পাশাপাশি, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং দক্ষিণ চীন সাগরে পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)-র সাম্প্রতিক আগ্রাসী আচরণ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

টোকিও থেকে ফিরে শুক্রবার একটি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পম্পেও বলেন, ‘বিশ্বের চারটি বৃহৎ গণতান্ত্রিক এবং অর্থনৈতিক শক্তির দেশকে নিয়ে ‘কোয়াড’ গঠিত হয়েছে। আর আমাদের সকলের কাছেই চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আচরণ ক্রমশ বিপদ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।’

প্রসঙ্গত, কয়েক মাস আগে লাদাখের পাশাপাশি দক্ষিণ চীন সাগরে চীনা নৌবাহিনীর আগ্রাসনের ‘বিপদ’ সম্পর্কে সরব হয়েছিলেন মাইক পম্পেও। বলেছিলেন, ‘দক্ষিণ চীন সাগর চীনের উপকূলীয় সাম্রাজ্য নয়। বেইজিং যদি এভাবে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করতে থাকে এবং স্বাধীন দেশগুলো সে ব্যাপারে কিছুই না করে, ইতিহাস সাক্ষী চীনা কমিউনিস্ট পার্টি আরো অনেক অঞ্চল দখল করে নেবে।’

সাক্ষাৎকারে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এখন সকলেই জেনে গেছেন, কীভাবে ভারতের উত্তরে হিমালয় ঘেরা সীমান্তে চীন শারীরিক সঙ্ঘাতে লিপ্ত হয়েছে। ৬০ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। ভাইরাসের (করোনা) উৎপত্তি ও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। পরিণামে তাদেরও চীনা কমিউনিস্ট পার্টির হুমকি ও নিগ্রহের মুখে পড়তে হয়েছে।’

এই পরিস্থিতিতে চীনের মোকাবেলায় ‘কোয়াড’-এর দেশগুলোর মধ্যো সহযোগিতা ও সমন্বয় বাড়ানোর কথা বলেন পম্পেও। জয়শঙ্করের সঙ্গে তাঁর বৈঠককে ‘ফলপ্রসূ’ জানিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই যুদ্ধে আমেরিকাকে প্রয়োজন হবে সহযোগীদের। আমরাও তাদের পাশেই থাকব।’ চীনা কমিউনিস্ট পার্টির খারাপ আচরণকে দীর্ঘ দিন ধরে পশ্চিমা দুনিয়া উপেক্ষা করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্ব এখন জেগে উঠছে। আমেরিকা ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে চীন বিরোধী জোট গঠনের কাজ শুরু করেছে।’

আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্টের দাবি, ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান করিডোর’ কর্মসূচিতে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি চিন। এখন তারা গায়ের জোরে এলএসি-র দখল নিতে চাইছে। আলোচনার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠায় একদলীয় চীনের শাসকগোষ্ঠী বরাবরই নিরুৎসাহী বলেও তাঁর অভিযোগ। রবার্টের কথায়, ‘আমরা অনেক বারই আলোচনার টেবিলে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছি এবং ব্যর্থ হয়েছি।’

রবার্ট ও’ব্রায়েনের মতে, আমেরিকা এবং তার সহযোগী দেশগুলোর নাগরিকদের রক্ষা করতে এ বার চীনকে মোকাবেলা করার সময় এসেছে। আমেরিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার একবিংশ শতকের ভারত।’ ভারত, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া-সহ কয়েকটি দেশের পক্ষ থেকে সম্প্রতি সাইবার নিরাপত্তার স্বার্থে চীনা টেলিকম সংস্থা হুয়েইয়ের উপর বিধিনিষেধ জারির পদক্ষেপকেও সঠিক বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সূত্র : আনন্দবাজার।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

কোন কমেন্ট নেই

উত্তর দিন