শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:০১ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
ইন্টারনেট নির্ভরতা যতো বেশি তৈরী হচ্ছে , ডিজিটাল অপরাধ ততো বেশি বাড়ছে : টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র : সমৃদ্ধির পথে তিস্তার চরাঞ্চল রাঙ্গামাটিতে হাইফ্লো অক্সিজেন সাপোর্ট ও করোনা ইউনিটের উদ্বোধন পিছিয়ে পড়েও লিড নিলো বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল টাস্কফোর্সের সভা : শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে চামড়া শিল্প কর্তৃপক্ষ নামে নতুন কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার চায় ঢাকা বাংলাদেশ ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসায় জাতিসংঘ মহাসচিব দেশের মানুষ ভালো আছে বলেই বিএনপি ভালো নেই: ওবায়দুল কাদের জনগণের ভোট ও রায়ের ওপর নির্ভরকারীদের জন্য নির্বাচন বর্জন আত্মহননমূলক: তথ্যমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল : পরিকল্পনামন্ত্রী

ডেল্টা ধরনে বিপর্যস্ত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া

বিশ্ব জুড়ে বেড়েই চলেছে করোনার ডেল্টা ভেরিয়েন্টের বিস্তার। পরিস্থিতি নাগালে আনতে হিমশিম খাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, জাপানসহ বিশ্বের উন্নত দেশগুলো। অতি সংক্রামক এই ধরনের কারণে খাদের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার স্বাস্থ্যখাত।

গত বছর প্রথম ধাপের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বিশ্বে রোল মডেলের খেতাব পেয়েছিল ভিয়েতনাম। কিন্তু সময়ের সাথে পাল্টে যেতে থাকে পরিস্থিতি। এবছরের এপ্রিলে উদ্বেগজনক হারে বাড়তে শুরু করে সংক্রমণ।

হ্যানোয়, হো চি মিনের মত গুরুত্বপূর্ণ শহরে লকডাউন জারি করেও মিলছে না সুফল। দেশটিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৭৭ হাজারের বেশি, যার মধ্যে ৮০ শতাংশই শনাক্ত হয়েছে এক মাসে।

এদিকে ভিয়েতনামের করোনা পরিস্থিতির জন্য টিকা কার্যক্রমের ধীর গতিকে দুষছেন বিশ্লেষকরা। এ পর্যন্ত টিকার দুই ডোজ নেয়াদের সংখ্যা ১ শতাংশেরও নিচে।

এশিয়ার দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়ায় মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়েছে। দেশটিতে মোট আক্রান্ত ৩৫ লাখের বেশি। যার মধ্যে ১২ লাখ আক্রান্ত হয়েছে গত একমাসেই। দেশটির স্থানীয় এক জরিপ বলছে, রাজধানী জার্তার ১ কোটি ৬০ লাখ জনসংখ্যার অর্ধেকই করোনায় আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন। গত ২৪ ঘণ্টায় দশটিতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া শনাক্ত ৩৫ হাজার ৭৬৪ জন নতুন রোগী।

আর এমনটা চলতে থাকলে দেশটির স্বাস্থ্যখাত পুরোপুরি ভেঙে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা। তাদের অভিযোগ, কঠোর লকডাউন জারি না করা এবং কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং প্রক্রিয়া ব্যবহার না করার খেসারত দিচ্ছে দেশটি।

এদিকে দেশজুড়ে লকডাউন জারি করেও করোনা মোকাবিলায় ইতিবাচক ফল পাচ্ছে না মালয়েশিয়া। উল্টো বেড়েই চলেছে সংক্রমণ ও মৃত্যু। মালয়েশিয়ায় এখন পর্যন্ত টিকার দুই ডোজ পেয়েছে মাত্র ২২ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ।

টিকা কর্যক্রমে ধীর গতি, আক্রান্ত ও প্রাণহানি বৃদ্ধি এবং ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগে বিক্ষোভও হয়েছে দেশটিতে।

চীনে করোনা শনাক্তের পরপরই কঠোর বিধি নিষেধ আরোপ করেছিল থাইল্যান্ড। গত বছর সফলতার সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করলেও চলতি বছর তৃতীয় ধাপের সংক্রমণে বিপর্যস্ত দেশটি। রোগীর ঢল সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসাপাতালগুলো।

সংক্রমণ রোধে এবছরের শেষ নাগাদ ৫ কোটি নাগরিককে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা সরকারের। তবে এ পর্যন্ত টিকার দুই ডোজ পেয়েছে মাত্র ৫ শতাংশ মানুষ।

অন্যদিকে, সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে চলমান অস্থিতিশীলতার মধ্যে থাকা মিয়ানমারেও বেড়েই চলেছে করোনার প্রকোপ। জুনের শুরুতে দৈনিক সংক্রমণ ১শ হলেও জুলাই আসতেই সেই সংখ্যা ছাড়াতে থাকে হাজারের কোঠা। ১৪ জুলাই একদিনে সর্বোচ্চ ৭ হাজার রোগী শনাক্ত হয় দেশটিতে। দেখা দিয়েছে অক্সিজেনসহ জরুরি চিকিৎসা সামগ্রীর তীব্র সংকট।

গত ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে করোনায় মারা গেছে ১০ হাজার ৩৯২ জন। নতুন আক্রান্ত হয়েছেন আরো ৭ লাখ মানুষ। এ নিয়ে করোনায় মোট প্রানহানি ৪২ লাখ ৭৯ হাজার। আর শনাক্ত ছাড়িয়েছে ২০ কোটি ১৬ লাখ। এক সপ্তাহে সংক্রমণ বেড়েছে ৯ ভাগ আর মৃত্যু বেড়েছে ৮ শতাংশ।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com