বুধবার, ০১ Jul ২০২৬, ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ সুদানে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত জাপানে জোট সরকার গড়তে রাজি এলডিপি, ইশিন হামাস যুদ্ধ বিরতির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে অভিযোগ করে গাজায় ইসরায়েলের হামলা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল

অক্টোবরের আগে চালু হ্যান্ডসেট বন্ধ হবে না

গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যেসব হ্যান্ডসেট মোবাইল নেটওয়ার্কে চালু ছিল, সেগুলো বন্ধ হবে না। গ্রাহকদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে ওই সময় পর্যন্ত চালু থাকা কয়েক লাখ অবৈধ হ্যান্ডসেটও বৈধ করা হয়েছে। এসংক্রান্ত যে বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে সেটা কার্যকর হয়েছে গতকাল ১ অক্টোবর। ওই দিন থেকে এরপর নতুন কেনা বা সংগ্রহ করা হ্যান্ডসেট নিবন্ধন করা না থাকলে তা ব্যবহার করতে গেলে গ্রাহক এসএমএস পাবে। এসএমএস পাওয়ার পর ১০ দিনের মধ্যে সেটটির নিবন্ধন করা না হলে সেটা বন্ধ করে দেওয়া হবে। হ্যান্ডসেটটি যদি বৈধভাবে তৈরি না হয়ে থাকে বা অবৈধভাবে সংগ্রহ করা হয় তাহলে তার নিবন্ধন জুটবে না। গতকাল শুক্রবার বিটিআরসি চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার কালের কণ্ঠকে এসব তথ্য জানান।

৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যেসব অনিবন্ধিত হ্যান্ডসেট মোবাইল নেটওয়ার্কে ছিল, সেসব হ্যান্ডসেটের বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সিদ্ধান্ত কী—এ প্রশ্নে সংস্থাটির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার বলেন, ‘স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সেগুলো আমরা নিবন্ধন করে নিয়েছি। সে কারণেই ওই সময়ের আগে অনেক হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন হয়নি—এ কথা বলা ঠিক নয়। এ বিষয়ে আরো স্পষ্ট করে বলি, আজ (গতকাল শুক্রবার) কেউ যদি নতুন হ্যান্ডসেট কিনে তাতে সিম ব্যবহার করে তাহলে সেটটির নিবন্ধন করা না থাকলে তার কাছে একটি এসএমএস যাবে যে এটার বৈধতা নেই, অবিলম্বে নিবন্ধন করুন। এই এসএমএস পাওয়ার পর ১০ দিনের মধ্যে যদি ওই গ্রাহক সেটটির নিবন্ধন না করতে পারে তাহলে সেটি চলবে না।’

বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা গ্রাহকদের কোনো অসুবিধা যাতে না হয় সে বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। বৈধ, কিন্তু নিবন্ধিত নয় এমন সেটের ক্ষেত্রে এসএমএস পাওয়ার পর ১০ দিনের মধ্যে নিবন্ধন করে নিতেও তেমন অসুবিধা হবে না। তবে যে সেটগুলো উৎপাদন এবং অন্যান্যভাবে সংগ্রহের দিক থেকে অবৈধ সেগুলো কোনোভাবেই নিবন্ধন পাবে না এবং এ দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে কাজ করবে না। কেউ যদি কোনো গ্রাহকের কাছে এ ধরনের অবৈধ সেট বিক্রি করে তাহলে গ্রাহককে টাকা ফেরত দিতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, গত ১ জুলাই থেকে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার বা এনইআইআরের কাজ শুরু করেছেন তাঁরা, যাতে গ্রাহকরা আগে থেকেই বিষয়টিতে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারে এবং ভোগান্তির শিকার না হয়। অভ্যস্ত হওয়ার জন্য গ্রাহকরা তিন মাস সময় পেয়েছে। এই সময়ে মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কে কয়েক লাখ অবৈধ সেটও পাওয়া গেছে। গ্রাহকদের স্বার্থের কথা বিবেচনায় রেখে সেসব অবৈধ সেটও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ করে নেওয়া হয়েছে। এটা পরীক্ষামূলক পর্যায়ের ছাড়। এই পরীক্ষামূলক সময়ে আইনের কঠিন প্রয়োগ করা হয়নি। তবে আজ থেকে আর তাঁরা নমনীয় থাকবেন না, কঠিনভাবেই আইন প্রয়োগ করা হবে।

এনইআইআরের কাজ শুরুর প্রথম দিনে কতজন গ্রাহককে এসএমএস পাঠানো হয়েছে—এ প্রশ্নের জবাবে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘এ তথ্য সংগ্রহ করে রাখা হচ্ছে। এটি আমরা রবিবার (আগামীকাল) জানাতে পারব।’

গত ১ জুলাই এনইআইআরের কার্যক্রম শুরু করা হয়। তখনই জানিয়ে দেওয়া হয় যে ১ অক্টোবর থেকে নেটওয়ার্কে নতুনভাবে সংযুক্ত সব অবৈধ হ্যান্ডসেটের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। গত বৃহস্পতিবার বিটিআরসি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সেটা আবার মনে করিয়ে দেয়। মোবাইল হ্যান্ডসেট কেনার আগে মেসেজ অপশন থেকে ইংরেজি ক্যাপিটাল লেটারে কেওয়াইডি ও ১৫ ডিজিটের আইএমইআই নম্বর লিখে ১৬০০২ নম্বরে পাঠানোর মাধ্যমে হ্যান্ডসেটের বৈধতা যাচাই করার পর তা কেনার অনুরোধ জানায় বিটিআরসি। এ ছাড়া কারো কাছে বৈধভাবে বিদেশ থেকে ব্যক্তিগতভাবে কেনা বা উপহার পাওয়া অনুমোদিত সংখ্যক মোবাইল হ্যান্ডসেট থাকলে তা ব্যবহারের আগে  www.neir.btrc.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন করার জন্য বিটিআরসি বিশেষভাবে অনুরোধ জানায়।

বিটিআরসি জানায়, দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত হ্যান্ডসেটের ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইক্যুইপমেন্ট আইডেন্টিটির (আইএমইআই) সংখ্যা ৪৪ কোটি ৫৩ লাখ, যা এরই মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এনইআইআর সিস্টেমে নিবন্ধন করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে বর্তমানে আনুমানিক ২২ কোটি ২৬ লাখ মোবাইল হ্যান্ডসেট মোবাইল নেটওয়ার্কে রয়েছে।

যদি কারো হ্যান্ডসেট হারিয়ে যায় বা চুরি হয়, তাহলে করণীয় বা এই প্রযুক্তি এতে কী কাজে লাগবে—এ প্রশ্নে বিটিআরসি জানায়, চুরি অথবা হারিয়ে যাওয়া হ্যান্ডসেটগুলোর জন্য এনইআইআর সিস্টেমের মাধ্যমে এ বিষয়ে রিপোর্ট করার এবং ব্লক লিস্ট করার সুবিধা পাওয়া যাবে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরে এ সুবিধাটি চালু করা হবে।

এ ছাড়া জানানো হয়, যাদের মোবাইলে ইন্টারনেট সংযোগ নেই, তারা সংশ্লিষ্ট অপারেটরের নিকটস্থ কাস্টমার কেয়ার সেন্টার থেকে এনইআইআর সেবা নিতে পারবে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com