বুধবার, ০১ Jul ২০২৬, ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন
১ অক্টোবর থেকে দেশে অবৈধ বা অ-নিবন্ধিত হ্যান্ডসেট ব্যবহার করা যাবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন, বিটিআরসি। এর আগে বিটিআরসি একাধিকবার এই সময়সীমা নির্ধারণ করলেও সিদ্ধান্ত চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়ন করতে পারেনি।
তবে, আজ থেকে কার্যকর হলেও অ-নিবন্ধিত ব্যবহৃহত সেটের ক্ষেত্রে কি করতে হবে বা কি করা লাগবে এই বিষয় নিয়ে অনেক গ্রাহকই বেশ চিন্তায় আছেন। সেক্ষেত্রে প্রথমে যা করতে হবে তা হলো- ব্যবহৃত ফোনসেটটি যাচাই করতে এবং তা আসলেই অ-নিবন্ধিত কিনা, তা যথেষ্ট সময় নিয়ে নিশ্চিত হয়েই সেটি বন্ধ করার পরিকল্পনা বিটিআরসি’র।
এবিষয়ে বিটিআরসি’র স্পেকট্রাম ডিভিশনের মহাপরিচালক শহিদুল আলম জানান, একজন ব্যবহারকারী একবার সেট রেজিস্টার করার পর যদি সেটি অন্য কাউকে বিক্রি করতে চান তাহলে সেটি ‘ডি-রেজিস্টার’ করে বিক্রি করতে হবে।
“এই নিয়ম কার্যকর হলে ব্যবহৃত সেট কেনার ক্ষেত্রেও মানুষ চোরাই সেট কিনতে পারবে না। নিবন্ধিত সেটই কিনতে হবে। কিন্তু একজন ব্যবহারকারী যখন তার ব্যবহারের সেট বিক্রি করবে, তখন তার সিম থেকে ঐ সেটটি ‘ডি-রেজিস্টার’ করতে হবে।”
মানুষ যেন এই ব্যবস্থায় অভ্যস্ত হতে পারে, সে লক্ষ্যে এই নিয়মটিও ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা বিটিআরসি’র। একটি সেট যেহেতু একজন নির্দিষ্ট সিম দিয়ে ব্যবহার করতে পারবে, কাজেই ঐ সেটটি আরেকজনের কাছে বিক্রি করতে হলে সেটি ‘ডি-রেজিস্টার’ করা জরুরি বলেও জানান তিনি।
শহিদুল আলম আরো বলেন, ‘ডি-রেজিস্টার’ করা হলে সেটিতে নতুন সিম ঢুকানোর পর তা নতুন করে রেজিস্টার করা সম্ভব হবে এবং নতুন একজন ব্যবহারকারী সেটটি বৈধভাবে ব্যবহার করতে পারবেন’।
এছাড়া বিদেশ থেকে ব্যক্তিগতভাবে আনা সেটের ক্ষেত্রে কী হবে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “বিদেশ থেকে দেশে আসার সময় দেশি বা বিদেশি যে কোনো নাগরিক ব্যক্তিগতভাবে সর্বোচ্চ আটটি সেট নিয়ে আসতে পারবেন”।
“এই আটটি সেটের মধ্যে ২টির জন্য কোনো কর দেয়া লাগবে না, বাকি ৬টির জন্য কর দিতে হবে। অর্থাৎ কোন কর না দিয়ে ২টি সেট যে কেউ নিয়ে আসতে পারবে।”
এই সেটগুলো নিবন্ধন করতে পাসপোর্ট নম্বর এবং যাত্রীর বোর্ডিং পাস প্রয়োজন হবে বলে জানান আলম।
“বিদেশ থেকে আনা সেটে বাংলাদেশের যে কোনো অপারেটরের সিম ঢুকালে যাচাই-বাছাইয়ের পর বিটিআরসি থেকে ঐ সিমে একটি মেসেজ পাঠানো হবে, যে সেটটি অ-নিবন্ধিত। তখন পাসপোর্ট নম্বর ও বোর্ডিং পাসের মাধ্যমে অনলাইনে ঐ সেটটি নিবন্ধন করা যাবে।” কর্পোরেট সিম ও সেটের ক্ষেত্রে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
বৈধ নিয়ম অনুযায়ী, একটি পাসপোর্ট নম্বর ও বোর্ডিং পাস ব্যবহার করে ব্যক্তিগতভাবে বিদেশ থেকে দেশে আনা সর্বোচ্চ আটটি সেট নিবন্ধন করা যাবে যার মধ্যে দু’টি সেটের ক্ষেত্রে কোনো কর দিতে হবে না। তবে বাকি ৬টি সেট করের আওতাধীন হবে।
বিটিআরসি বলছে, মোবাইল সেট নিবন্ধনের এই পরিকল্পনার পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ সাধারণ মানুষকে সব ধরনের সরকারি সেবা সহজে প্রদান করা।
সংস্থাটির কর্মকর্তা শহিদুল আলম জানান, “বর্তমানে অনেক ধরনের সরকারি সেবা সিমের মাধ্যমে ও মোবাইলের মাধ্যমে প্রদান করা হয়। সেক্ষেত্রে শুধু সিমের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে সিম এবং সেট একসাথে সংযুক্ত করলে নিরাপত্তা ঝুঁকি অনেক কমে যায়।”
“এর ফলে একজন ব্যক্তি সরকারি ও নাগরিক সেবাগুলো একটি সিম ও একটি সেটের সাহায্যে সহজেই পেতে পারবো।”
পাশাপাশি এই নিয়ম বাস্তবায়িত হলে ব্যবহারকারীরা ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে বেশি নিরাপত্তা উপভোগ করতে পারবেন, চোরাই ফোন বেচা-কেনা বন্ধ হবে, সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে এবং দেশীয় মোবাইল ফোন অ্যাসেম্বল শিল্প লাভবান হবে বলে মনে করছে বিটিআরসি।