বুধবার, ০১ Jul ২০২৬, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন
জানা যায়, কভিড-১৯ শুরুর আগেই এই সেমিস্টার শুরু করে বিভাগটির এমএসসি ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় গত বিশ মাসেও শেষ হয়নি এই সেমিস্টার৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল কর্তৃক নেওয়া অনলাইনে পরীক্ষা গ্রহণ সিদ্ধান্তের পর গত ৩রা অক্টোবর এমএসসি ২য় সেমিস্টারের কোর্স কোড ৫২০১ এডভান্স ভিএলএসআই কোর্সের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ঝড়-বৃষ্টি হওয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ এবং নেটওয়ার্ক সমস্যা দেখা দেয়। তবে, এতেও শিক্ষার্থীরা বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যেই পরীক্ষা দেন এবং খাতা সাবমিট করেন। কিন্তু, পরীক্ষা শেষে বিভাগটির সেই ব্যাচের পরীক্ষা কমিটির সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে হয়ে যাওয়া পরীক্ষাটিও বাতিল করে পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেয়৷ এমন কি কবে কখন এই পরীক্ষা নেওয়া হবে এবিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি। এতে ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিভাগটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, নতুন উপাচার্য যোগদানের পর দীর্ঘদিনের সেশনজট দূরীকরণের লক্ষ্যে অনলাইনে পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে সকল বিভাগ পরীক্ষা গ্রহণ শুরু করে। কিন্তু ঠিক এই মুহূর্তে উপাচার্যের প্রশংসিত কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য কিছু শিক্ষক এমএসসি ২য় সেমিস্টার পরীক্ষা স্থগিত করে। এমনকি উক্ত সেমিস্টারের একটি পরীক্ষা শেষ হয়ে ছাত্রছাত্রীর উত্তরপত্র জমাদানের পরেও সেই পরীক্ষা অজ্ঞাত কারণে বন্ধ করে পরীক্ষা কমিটির কতিপয় শিক্ষক। অথচ একাডেমিক কাউন্সিল পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে সেই ব্যাচের এক শিক্ষার্থী জানান, ২০১৮ সালের পরীক্ষা ২০২১এর শেষে এসেও দিতে পারছি না। করোনার পূর্বেই প্রথম সেমিস্টার শেষ করলেও এখনো দ্বিতীয় সেমিস্টার শেষ হয়নি। যখন পরীক্ষা শুরু হলো ঠিক তখন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা বলে আমাদের হওয়া পরীক্ষা স্থগিত করেছে বিভাগটি।
তিনি আরো বলেন, কেন বন্ধ করা হলো এ বিষয়ে শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা আমাদের সাথে সন্তোষজনক আচরণ করেননি। আমরা চাই অনলাইনেই যত দ্রুত সম্ভব আমাদের পরীক্ষাটা নিয়ে নেওয়া হোক।
এ বিষয়ে পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক জোয়ার্দার জাফর সাদিক বলেন, পরীক্ষা চলাকালীন মারাত্মক রকমের ঝড় এবং বৃষ্টি হয়। এতে শিক্ষকরাও আটকা পড়ে এবং পরীক্ষার পুরো সময়টা ব্ল্যাকআউট ছিল। এতে শিক্ষার্থীদেরও ফ্রিকোয়েন্ট ইন্টারাপশন হচ্ছিল। দেড় ঘণ্টার পরীক্ষার মধ্যে ১ ঘণ্টা যদি এ রকম অবস্থায় থাকে তাতে পরীক্ষাটা এভাবে ক্যারি ফরওয়ার্ড করাটা ঠিক হবে না৷ এ কারণেই মূলত আমরা পরীক্ষাটা বন্ধ করেছি।