বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:০০ পূর্বাহ্ন

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ

সমীকরণ বলছিল ৩ রানে জিতলেই স্বস্তি বাংলাদেশের। সুপার টুয়েলভে খেলা নিশ্চিত। সেসব চিন্তা ভুলে, ভাগ্য নিজেদের হাতেই তুলে নিলেন মাহমুদউল্লাহরা। পাপুয়া নিউগিনিকে গুঁড়িয়ে দিয়ে টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের রেকর্ড ৮৪ রানের জয়ে বিশ্বকাপের মূল পর্বে উঠল বাংলাদেশ। গত রাতে ওমানকে ৮ উইকেটে হারানো স্কটল্যান্ড তিন জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে হয়েছে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন। ৩ ম্যাচে দুই জয়ে ৪ পয়েন্টে গ্রুপ রানার্সআপ হয়েছে বাংলাদেশ। রবিবার গ্রুপ ‘এ’ শীর্ষ দল (সম্ভবত শ্রীলঙ্কা)-এর সঙ্গে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপের মূলপর্ব সুপার টুয়েলভ শুরু করবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এ লক্ষ্যে আজ আরব আমিরাত যাচ্ছেন মাহমুদউল্লাহ-সাকিবরা।

বড় স্কোর পাওয়ার ম্যাচে ব্যাটিংয়ের সব অস্বস্তি কাটল। প্রথম ১০ ওভারে ৭১ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। শেষ ১০ ওভারে এলো ১১০ রান। শেষ ৫ ওভারে ৬৮। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ, মোহাম্ম্দ সাইফউদ্দিনদের ব্যাটে ঝড় ওঠায় সহজ হলো সব। শুরুর দিকে তীব্র গরম উপেক্ষা করে সাকিব আল হাসান ও লিটন দাশের ৫০ রানের জুটি বাংলাদেশের বড় সংগ্রহের পথ সহজ করে দেয়; দিনটি শুধু ব্যাটসম্যানদেরই সাফল্য দেয়নি। দু’হাত ভরে দিয়েছে বোলারদেরও। বোলাররা সবাই অবদান রেখেছেন। সবচেয়ে বেশি ৪ উইকেট নিয়ে টি-২০ বিশ্বকাপে উইকেটশিকারির তালিকায় শহিদ আফ্রিদির পাশে বসলেন তিনি। ৩৯ উইকেট তার এখন। ১ উইকেট পেলেই রেকর্ডটা নিজের হবে সাকিবের। ক্যারিয়ারে পঞ্চমবার ৪ উইকেট নিলেন সাকিব। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে সেরার পুরস্কারটিও তার হাতে।

শুরুটা বাংলাদেশের জন্য ছিল ফিফটি-ফিফটি। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই গত ম্যাচের হাফসেঞ্চুরিয়ান নাঈম শেখ ফিরলেন শূন্য রানে। লিটন দাশের কাছে বাংলাদেশ রান পাওনা কিছু। গত দুই ম্যাচে ব্যর্থ লিটন এদিন পাওনাটা মেটালেন কিছুটা। সাকিবের  সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ঠিক ৫০ রানের জুটিটা স্বস্তি দেয় বাংলাদেশকে। তবে তীব্র গরমে হাঁসফাঁস করছিলেন দুই ব্যাটসম্যান। মধ্য দুপুরের তাপমাত্রা ৩১ ডিগ্রি দেখালেও গরমটা গায়ে লাগছিল প্রায় ৩৭-৩৮-এর মতো। তাই লিটন-সাকিবকে বার-দুয়েক পানি খেতে হয়েছে। গরমের জন্যই সব সময় হেলমেট পরে খেলা সাকিব এদিন সম্ভবত প্রথমবার ক্যাপ পরে খেললেন। প্রখর তাপ উপেক্ষা করে দারুণ এগোচ্ছিলেন দুই ব্যাটসম্যান। জমে গিয়েছিলেন উইকেটে, যা এই বিশ্বকাপে প্রথমবার পাওয়ার প্লেতে ৪৫ রান এনে দেয় বাংলাদেশকে। ক্লান্তি ভর করছিল দ্রুত। ২৩ বলে ২৯ রান করা লিটনের ডিপ মিডউইকেটে ওড়ানো শটটি তাই সীমানার অনেকটা আগেই ফিল্ডারের হাতে জমা পড়ল। ইনিংসের শুরু পেয়েও তা টানতে পারলেন না লিটন। ওদিকে গরম উপেক্ষা করে এগিয়ে চলছিলেন সাকিব।

এক ম্যাচ পর ব্যাটিং অর্ডারে আগের অবস্থানে ফেরানো হয় মুশফিককে। ৮ বলে ৫ করে আতাইয়ের শর্ট বল গায়ের জোরে মারতে গিয়ে স্কয়ার লেগে ক্যাচ দেন তিনি। মাহমুদউল্লাহ রানরেটের কথা ভেবেই নেমেছিলেন। তাই তার ব্যাটে ঝড়। মাত্র ২৮ বলে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ টি-টোয়েন্টি ফিফটি তুলে নেন। চার বাউন্ডারির সঙ্গে মারেন তিন ছক্কা, যার একটি এখন পর্যন্ত এই আসরের সর্বোচ্চ ৯৫ মিটার। অধিনায়কের আগে অবশ্য বিদায় নেন সাকিব। ৩৭ বলের ইনিংসে ৪৬ রানে হাঁকিয়েছেন তিন ছক্কা। সবশেষ ছক্কা মারার পর লংঅনে ভালার বলে চার্লস আমিনির হাতে ধরা পড়েন। অনেকটা দৌড়ে সামনে ঝাঁপিয়ে পড়া আমিনির ক্যাচটি এই আসরে অন্যতম সেরা ক্যাচ হতে বাধ্য। ম্যাচের আগের দিনই পিএনজি ক্রিকেটারদের ফিল্ডিং অনুশীলন ছিল দেখার মতো। আর কিছু না হোক এই বিভাগে অনেক দলকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মতো পারফরম করেছেন তারা। বাংলাদেশের ৭ উইকেটই তারা নিয়েছেন ক্যাচে।

অভিজ্ঞদের বিদায়ের পর তরুণদের হাতে রান আরও বাড়ানোর দায়িত্ব ছিল। সোহান আরও এক ম্যাচে ব্যর্থ হলেও আফিফ হোসেন ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন টেনে নেন বাকিটা। আফিফ ১৪ বলে ২১ করেন, আর শেষদিকে মাত্র ৬ বলে ২ ছক্কা ও ১ চারে সাইফউদ্দিন অপরাজিত থাকেন ১৯ রানে।

রান তাড়ায় নেমে পিএনজি যেন লড়াইয়ের আগেই শেষ হয়ে যায়। প্রায় প্রতি ওভারে উইকেট হারিয়ে ২৯ রানে ৭ জন নেই দলটির। ততক্ষণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বনিম্ন রানের রেকর্ড খোঁজা শুরু। অবশ্য কিপলিন দোরিগার দৃঢ়তায় এই লজ্জা থেকে বেঁচে যায় পিএনজি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বনিম্ন ৩৯ রান নেদারল্যান্ডসের। ২০১৪ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। কাল দোরিগা ৩৪ বলে দুটি করে ছক্কা ও চারে ৪৬ রানে অপরাজিত থেকে পিএনজিকে একশ’র কাছে নিয়ে যান। আটে নামা এই উইকেটরক্ষকের আগের সাত ব্যাটারের রান এক সংখ্যার। দোরিগা ছাড়া চাঁদ সপার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১১ রান করেন। সহজ প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দেওয়ার দিনে বোলাররা নিজেদের ঝালিয়ে নেন দারুণভাবে। সাকিবের ৪ উইকেট ছাড়াও তাসকিন ১২ রানে ২ ও সাইফউদ্দিন ২১ রানে ২ উইকেট নেন। পিএনজির ব্যাটারদের জন্য ইতিবাচক দিক হতে পারে মোস্তাফিজকে এক উইকেটও না দেওয়া।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com