রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ০৫:০০ অপরাহ্ন

কুমিল্লার ঘটনা দুঃখজনক বিচার হবে : প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘এখানে সব ধর্মের মানুষ সম্মানের সঙ্গে যুগের পর যুগ বসবাস করছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে সব ধর্মের মানুষ রক্ত দিয়েছে। পবিত্র কোরআন অবমাননাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লায় যে ঘটনা ঘটেছে তা খুবই দুঃখজনক। এ ঘটনায় অপরাধী যে-ই হোক না কেন, তার বিচার করা হবে।’ গতকাল গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে কুমিল্লা আওয়ামী লীগ কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কর্মীদের এটাই মনে রাখতে হবে যে, আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা হয়েছে মানুষের সেবা করতে। মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর জাতির পিতা যখন প্রত্যাবর্তন করলেন, তখন তিনি যে ভাষণ দিয়েছিলেন, সেখানেও তিনি সেই কথা বলেছেন। তার জীবনটাকে তিনি বিলিয়ে দিয়েছেন বাংলার মানুষের জন্য। কাজেই সেই আদর্শের যারা নেতাকর্মী, তাদের মাথায় সেটাই থাকতে হবে।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। প্রত্যেকটা এলাকায় আমাদের নেতাকর্মীদের নজরদারি বাড়াতে হবে। শান্তি সম্মেলন, শান্তি মিছিল, শান্তি সভা করতে হবে। সম্প্রীতির ব্যবস্থা নিতে হবে, যেন কোনো রকমের সংঘাত দেখা না দেয়। কারণ এই মাটিতে প্রত্যেকটা ধর্মের মানুষ, সে মুসলমান হোক, হিন্দু হোক, খ্রিস্টান হোক, বৌদ্ধ হোক, সকলেই যেন ভালোভাবে বাঁচতে পারে।’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কুমিল্লার ওই ঘটনার পর সঙ্গে সঙ্গে পীরগঞ্জসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘটনা ঘটেছে। সঙ্গে সঙ্গে যাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়েছে, টেন্ট করে তাদের থাকার ব্যবস্থা, প্রথমে শুকনো খাবারের ব্যবস্থা, পরে রান্না করা খাবার দেওয়া হচ্ছে। তাদের কাপড়চোপড় সব কিছুর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যাদের এভাবে ক্ষতি হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তদের সবাইকেই আমরা ঘরবাড়ি তৈরি করে দেব এবং ইতিমধ্যে সেই ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি।’

বিএনপির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘যেখানেই মানুষের ওপর এ ধরনের নির্যাতন হয়, আওয়ামী লীগ পাশে থাকে। আর বিএনপি-জামায়াত তাদের কাজই তো ধ্বংস করা। তাদের অগ্নি সন্ত্রাসে কত মানুষ জীবন দিয়েছে, কত মানুষ মারা গেছে। আমাদের কত নেতাকর্মীদের ওপর অকথ্য অত্যাচার করেছে, নির্যাতন করেছে দিনের পর দিন।’

দেশের সার্বিক উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘দেশটা যখন উন্নত হচ্ছে, একটা শ্রেণি আছে, তারা কখনো সেটা মানতে পারে না এবং তাদের কাছে সেটা পছন্দই না। বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে চলবে, সম্মান নিয়ে চলবে এটা বোধহয় এদের পছন্দই হয় না। আর বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াত এদের তো হবেই না। কারণ খালেদা জিয়া নিজেই অন্তরে সব সময় ছিল পেয়ারে পাকিস্তান। সে তো সব সময় পেয়ারে পাকিস্তান নিয়েই থাকত। এটা হলো বাস্তব কথা।’

ভবিষ্যতে আর কেউ বাংলাদেশের ‘ক্ষতি করতে পারবে না’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আর কখনো কারও অধীনস্থ হব না। স্বাধীন জাতি হিসেবে সারাবিশ্বে মাথা উঁচু করে আমরা চলব। সেই কথাটা সবাইকে মনে রাখতে হবে।’

বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা অনুষ্ঠানে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানষকে মানুষ হিসেবে আমি দেখি। কাজেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরও মানুষকে মানুষ হিসেবেই দেখতে হবে। আর সেভাবে মানুষের সেবা করতে হবে।’

১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার পর এদেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর ‘অনেক অত্যাচার’ হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সেই জিয়াউর রহমান যখন সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে, তার পর থেকে এদেশে সেনাবাহিনীতে ১৯টা ক্যু হয়েছে। যে সেনাবাহিনীতে ১৯টা ক্যু হয়, আর প্রত্যেকটা ক্যুর পর সেনা অফিসার, সৈনিকদের হত্যা করা হয়, সেই সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী বা ডিসিপ্লিনড সেনাবাহিনী কখনো বলা যায় না। আওয়ামী লীগ সরকারে ফেরার পর সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেয়।’

কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার এমপি অনুষ্ঠানে কুমিল্লা প্রান্ত থেকে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ কুমিল্লা প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন।

‘বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্র’র উদ্বোধন : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর পূর্বাচলে নবনির্মিত ‘বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্র’র উদ্বোধন করেছেন। গতকাল সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি এটি উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী রপ্তানিপণ্য বহুমুখীকরণের মাধ্যম রপ্তানি আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘রপ্তানি বাস্কেট আরও বৃদ্ধি করা এবং কোন ধরনের পণ্য কোন দেশে রপ্তানি আমরা করতে পারি সে বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে পণ্য উৎপাদনের ব্যবস্থা করতে হবে। সে ক্ষেত্রে আমি আমাদের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোসহ সবাইকে অনুরোধ করব আপনারাও আমাদের পণ্যের আরও বহুমুখীকরণের চেষ্টা করবেন।’

এই প্রদর্শনী কেন্দ্রটি বছরব্যাপী বিভিন্ন পণ্যভিত্তিক মেলার স্থায়ী ভেন্যু হিসেবে ব্যবহৃত হবে। আর এখানেই এখন থেকে স্থায়ী প্ল্যাটফর্মে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ) অনুষ্ঠিত হবে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) পূর্বাচল নিউ সিটি প্রজেক্ট এরিয়ায় এই ‘বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার কন্ট্রাকশন প্রজেক্ট’ গ্রহণ করে। বাংলাদেশ ও চীন যৌথভাবে যার অর্থায়ন করেছে। ২০১৫ সালে রাজউকের পূর্বাচলে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর অনুকূলে সরকার প্রথমে ২০ একর এবং পরে আরও ৬ দশমিক ১ একর জমি বরাদ্দ দেয়। সেখানে চীন সরকারের প্রকল্প সহায়তায় সব ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসংবলিত এই সুপরিসর এক্সিবিশন সেন্টার নির্মাণ করা হয়েছে। এই সেন্টারটি নির্মাণে জমির মূল্যসহ ব্যয় হয়েছে ৮১৭ কোটি টাকা। যার মধ্যে চীন সরকার ব্যয় করেছে ৫২৬ কোটি টাকা।

আধুনিক প্রদর্শনী কেন্দ্রটির নিজস্ব পানি শোধনাগার, সিসিটিভি কন্ট্রোল রুম, ইন্টারনেটের জন্য ওয়াইফাই সিস্টেম, একটি আধুনিক ঝরনা ও রিমোট-কন্ট্রোলড প্রবেশ দ্বার রয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব তপন কান্তি ঘোষ, বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বক্তব্য দেন। ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান এবং সিইও এ এইচ এম এহসান স্বাগত বক্তৃতা করেন।

পূর্বাচল নিউ সিটি প্রজেক্ট এরিয়ায় মূল অনুষ্ঠানস্থলে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্ট, সংসদ সদস্য, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং দেশি-বিদেশি আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com