বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন

মামাকে কুপিয়ে আত্মগোপনে থাকা ভাগনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

বরগুনায় মামাকে কুপিয়ে আত্মগোপনে থাকা মো. মাহফুজ (১৮) নামের এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার রাত ১০টার দিকে তালতলী উপজেলার ছোটবগী ইউনিয়নের গাবতলী গ্রাম থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

মৃত মাহফুজ বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের বড় লবনগোলা এলাকার নিজাম হাওলাদারের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত মাহফুজ গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের পূর্ব বুড়িরচর গ্রামের ফজলু প্যাদাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। ফজলু প্যাদা সম্পর্কে তার আপন মামা। নানান বিষয়ে পারিবারিক সম্পর্কের অবনতির কারণে মামাকে কোপানোর পরপরই মাহফুজ ও তার মা কুলসুম বেগম বসতঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান শুরু করলে মাহফুজ ও তার মা আত্মগোপন থাকার জন্য গত ৪/৫ দিন পূর্বে তালতলী উপজেলার ছোট বগী ইউনিয়নের পশ্চিম গাবতলী এলাকায় চাচা বাদশা হাওলাদারের বাড়িতে আসেন।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তৌফিকুজ্জামান তনু জানান, রবিবার রাত ১০টার দিকে মাহফুজের আরেক চাচা কাওসার হাওলাদারের বসতঘরের দক্ষিণ পাশে গাছের সাথে বাদশা হাওলাদারের স্ত্রী মাহফুজকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে ডাকচিৎকার করেন।

পরে স্থানীয়রা এসে তালতলী থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ থানায় নিয়ে আসেন।

চাকরির সুবাদে ঢাকায় থাকেন মৃত মাহফুজের বাবা নিজাম হাওলাদার।

তার সাথে সোমবার সকালে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ফজলু ও তার স্ত্রী প্রায়ই মাহফুজকে গালাগালি ও মারধর করত। ভয়ভীতি দেখাত। সর্বশেষ ফজলুর স্ত্রীর বোনকে নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডায় ফজলু আমার স্ত্রীর গলা চেপে ধরে, পানিতে চুবিয়ে মারার চেষ্টা করে ও হাতে কোপ দিলে মাহফুজ ফজলুর হাতে থাকা দা দিয়ে ফজলুকে আঘাত করেন। এতে ফজলু আহত হন। ঘটনার পর ফজলুর সকল প্রকার চিকিৎসা খরচ আমিই বহন করছি।

নিজাম হাওলাদার আরও বলেন, মারামারির ঘটনার পর থেকেই ফজলুর স্ত্রীর বেপরোয়া ভাইয়েরা মাহফুজকে খুঁজতে ছিল। বিভিন্ন লোকজন দিয়ে হুমকি-ধমকি দিচ্ছিল।

সোমবার সকালে বরগুনা সদর হাসপাতালের মর্গে মৃত মাহফুজের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য আনা হয়।

এ সময় হাসপাতালের সামনে মূর্ছা যাচ্ছিলেন তার মা কুলসুম বেগম। কথা হলে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ছেলের সামনে মাকে মারলে কোন ছেলে কি তা দেখতে পারে? পারে না, আমার ছেলেও পারেনি। ফজলু আমাকে দা দিয়ে কোপ দিলে ওই দা দিয়ে ফজলুকে মাহফুজ কোপ দেয়।’

কুলসুম আরও বলেন, আগে থেকেই আমাদের ঘরছাড়া করার চেষ্টা করে আসছিল ফজলু ও তার স্ত্রী। বিভিন্ন সময় ভয়ভীতিও দেখাতো আমাদের। গত রাতে আমি নামাজ পড়ছিলাম তখন শুনি বাইরে মাহফুজের ঝুলন্ত লাশ পাওয়া গেছে।

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে।

সোমবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com