সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
খালেদা জিয়া মুক্ত আছেন বলেই মুক্তভাবে চিকিৎসা নিতে পারছেন : আইনমন্ত্রী নতুন প্রজন্মের জন্য “চিরঞ্জীব মুজিব” এর মতো আরো চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির উন্নয়নশীল দেশে উত্তোরণের বিষয়ে জাতিসংঘে প্রস্তাব গ্রহণ মহান অর্জন : প্রধানমন্ত্রী ব্লু-ইকোনমির সুযোগ কাজে লাগাতে বিনিয়োগ করার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আহ্বান জাপান সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে : জাপানের ভাইস-মিনিস্টার বিআরটিসির সব বাসেই শিক্ষার্থীরা অর্ধেক ভাড়া সুবিধা পাবে ‘ওমিক্রন’ প্রতিরোধে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির ৪ সুপারিশ ওমিক্রনে দক্ষিণ আফ্রিকায় মৃত্যুহার দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে আর কোনো বিপদ ছাড়াই দিন শেষ করল বাংলাদেশ ‘ওমিক্রন’ নিয়ে দেশের সব প্রবেশপথে সতর্কবার্তা

‘মুজিব মেয়রের সঙ্গে লাগছস’ বলেই সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে গুলি

‘মুজিব মেয়রের সঙ্গে লাগছস বলেই পেছন থেকে আমাকে গুলি করা হয়েছে। ওরা তিন-চারজন এসেছিল। পেছন থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়। আমি কাউকে চিনতে পারিনি।’ গতকাল বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কথাগুলো বলছিলেন কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মোনাফ সিকদার।

দুর্বৃত্তদের গুলি তাঁর বাঁ পিঠের নিচের অংশ দিয়ে ঢুকে পেটের সামনে দিয়ে বেরিয়ে যায়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এখনো শঙ্কামুক্ত নন গুলিবিদ্ধ মোনাফ। হাসপাতালের শয্যায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন ছাত্রলীগের সাবেক এই নেতা। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর মুখ দিয়ে কথা বলতে চাইলে হঠাৎ চিৎকার দিয়ে উঠছেন, ‘পারছি না।’ কালের কণ্ঠকে মোনাফ সিকদার বলেন, ‘মেয়র মুজিবুর রহমানের নির্দেশে আমাকে গুলি করা হয়েছে।’ কী কারণে গুলি করা হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি এখন বলতে পারছি না। এটা কক্সবাজারবাসী জানে, কেন আমাকে গুলি করা হয়েছে।’

গুলি করার সময় কতজন ছিল—জানতে চাইলে তিনি হাতের তিনটি আঙুল দেখান। নিচু স্বরে বলেন, ‘তাদের একজন গুলি করেছে।’ চিনতে পেরেছেন কি না—জানতে চাইলে মাথা নেড়ে না-সূচক জবাব দেন। গত ২৭ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে পর্যটন শহর কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্টে শুঁটকি মার্কেটের সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন মোনাফ। ওই গুলি তাঁর পেট দিয়ে বেরিয়ে সামনে থাকা তারেক নামের এক যুবকের পায়ে বিদ্ধ হয়। তারেক কক্সবাজারের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

গুলিবিদ্ধের পর মোনাফকে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে রক্ত দিয়ে কক্সবাজার থেকে ওই দিন রাত সাড়ে ৩টার দিকে ভর্তি করা হয় চমেক হাসপাতালে। এক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালের সার্জারি ইউনিট-২ (২৫ নম্বর ওয়ার্ড) ৩৪ নম্বর শয্যায় চিকিৎসাধীন আছেন তিনি।

মোনাফ গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে কক্সবাজার সদর থানায় মামলা করেন মোনাফের বড় ভাই শাহজাহান সিকদার। গত রবিবার মোনাফকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে এ মামলা করার পরই ওই দিন মেয়রের অনুসারীরা কক্সবাজারে বিক্ষোভ করে। ওই মামলার প্রতিবাদে সরকারদলীয় সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিক্ষোভের মুখে অনেকটা অচল হয়ে পড়ে কক্সবাজার।

এদিকে ঘটনার এক সপ্তাহ পার হলেও পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। অস্ত্রটিও উদ্ধার হয়নি। সিসিটিভির বিভিন্ন ফুটেজ এবং ঘটনার পর পর মোনাফ মেয়রকে দায়ী করে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মুনীর-উল-গিয়াসের সঙ্গে গতকাল বিকেলে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com