বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:৫১ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
নায়িকাদের ‘ফিগার’ নিয়ে যা বলতেন ডা. মুরাদ ইমনকে র‍্যাব কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে আইসিসির নভেম্বরের সেরার লড়াইয়ে নাহিদা ইইউ মন্ত্রীরা স্বল্প বেতনের কর্মীদের মজুরী সুরক্ষার ব্যবস্থা নিতে সম্মত কোভিড-১৯-এর চ্যালেঞ্জ ও প্রভাব মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো সমস্যা চায় না ভারত : মোমেন মুরাদ হাসান জেলা আওয়ামী লীগ থেকেও অব্যাহতি পাচ্ছেন : ওবায়দুল কাদের সমালোচনা সত্বেও পিএসজির খেলার ধরনে পরিবর্তন হবে না : পচেত্তিনো কিউলেক্স মশক নিধনে বিশেষ অভিযান শুরু ২২ ডিসেম্বর থেকে : মেয়র আতিক ভোলায় ডিজিটাল সেন্টারের ১১ বছর পূর্তি উদযাপন ও ই-সেবা ক্যাম্পেইন

বকশিশ কম দেওয়ায় অক্সিজেন মাস্ক খুলে দিলেন ওয়ার্ড বয়, মারা গেলেন রোগী!

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের এক ওয়ার্ড বয়কে তাঁর চাহিদামতো বকশিশের টাকা না দেওয়ায় রোগীর অক্সিজেন মাস্ক খুলে দিয়েছেন এবং এতে ওই রোগীর মৃত্যু হয়েছে- এমন অভিযোগ করেছেন মৃতের স্বজনরা।

গতকাল মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১০টায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ওয়ার্ডবয় পলাতক।

মৃত ওই রোগীর নাম বিকাশ চন্দ্র দাস (১৮)। তিনি গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার শিয়ালকুণ্ডি গ্র্রামের বিশু দাসের ছেলে। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি।

মৃতের চাচা শচীন চন্দ্র জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাঘাটায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হন তাঁর ভাতিজা বিকাশ চন্দ্র। স্থানীয়রা তাঁকে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান বিকাশের ক্ষত স্থানগুলো ব্যান্ডেজ করার পর চিকিৎসক তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল (শজিমেক)  হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। সে অনুযায়ী তাঁকে শজিমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে ট্রেচারে করে তৃতীয় তলায় অবস্থিত সার্জারি বিভাগে নিয়ে যান ওয়ার্ড বয় দুলু। সেখানে গিয়ে তিনি রোগীর স্বজনদের কাছে ৫০০ টাকা দাবি করেন। কিন্তু কাছে টাকা না থাকায় বিকাশের বাবা বিশু দাস ১৫০ টাকা দিতে চান। আর ওয়ার্ড বয়ের দাবি অন্তত ২০০ টাকা। ৫০ টাকা ওই মুহূর্তে না পাওয়ায় ওয়ার্ড বয় দুলু রেগে গিয়ে টান দিয়ে অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেলেন। এর পরই বিকাশের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।

শচীন চন্দ্র আরো জানান, তাঁরা ওয়ার্ড বয়কে অক্সিজেন মাস্ক লাগিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন কিন্তু দুলু ৫০ টাকা না দিলে লাগাবেন না বলে জানিয়ে দেন। একপর্যায়ে নিজেরাই বিকাশের মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ভাতিজার নাক দিয়ে শ্লেষ্মা বের হওয়া শুরু হলে ওয়ার্ড বয় পুনরায় অক্সিজেন মাস্ক লাগিয়ে দেন। একপর্যায়ে তাঁর ভাতিজা আর শ্বাস নিচ্ছেন না দেখে ওয়ার্ড বয় সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে চিকিৎসক এসে রোগীকে মৃত ঘোষণা করেন।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম রেজা  ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘ঘটনার  পরই পুলিশ পাঠানো হয় এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। ঘটনার পর থেকেই ওয়ার্ড বয় দুলু পলাতক। তাঁকে খোঁজা হচ্ছে। তাঁদের কাছে অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লাশ মর্গে রাখা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com