সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০৬:১৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
খালেদা জিয়া মুক্ত আছেন বলেই মুক্তভাবে চিকিৎসা নিতে পারছেন : আইনমন্ত্রী নতুন প্রজন্মের জন্য “চিরঞ্জীব মুজিব” এর মতো আরো চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির উন্নয়নশীল দেশে উত্তোরণের বিষয়ে জাতিসংঘে প্রস্তাব গ্রহণ মহান অর্জন : প্রধানমন্ত্রী ব্লু-ইকোনমির সুযোগ কাজে লাগাতে বিনিয়োগ করার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আহ্বান জাপান সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে : জাপানের ভাইস-মিনিস্টার বিআরটিসির সব বাসেই শিক্ষার্থীরা অর্ধেক ভাড়া সুবিধা পাবে ‘ওমিক্রন’ প্রতিরোধে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির ৪ সুপারিশ ওমিক্রনে দক্ষিণ আফ্রিকায় মৃত্যুহার দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে আর কোনো বিপদ ছাড়াই দিন শেষ করল বাংলাদেশ ‘ওমিক্রন’ নিয়ে দেশের সব প্রবেশপথে সতর্কবার্তা

টেস্ট থেকে অবসর নিলেন মাহমুদউল্লাহ

টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। দীর্ঘ ফরমেটের টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেও বাকি দুই ফরমেটে খেলা চালিয়ে যাবেন এ টাইগার অলরাউন্ডার।

গত জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারে টেস্ট চলাকালে মাহমুদউল্লাহ হঠাৎই সতীর্থদের জানিয়ে দেন তিনি আর টেস্ট খেলবেন না। আজ সেটিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন লাল-সবুজের জার্সিধারী এ ‘সাইলেন্ট কিলার’।

ওই সময় সতীর্থদের এ ব্যাপারে জানালেও বিসিবি ও গণমাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে তখন কিছুই জানাননি তিনি।

বুধবার রাতে বিসিবি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায়, টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক টেস্ট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর নিয়ে ফেলেছেন।

এক বিবৃতিতে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বলেন, আমি অনেকদিন ধরেই খেলেছি এমন একটা ফরমেটকে বিদায় বলা সহজ নয়। সবসময়ই আমি সর্বোচ্চ জায়গায় পৌঁছাতে চেয়েছি। আমার বিশ্বাস টেস্ট ক্যারিয়ার শেষ করার এটাই সঠিক সময়।

বিবৃতিতে তিনি বিসিবি সভাপতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এছাড়া মাহমুদউল্লাহ সতীর্থ ও সাপোর্ট স্টাফদেরও ধন্যবাদ জানান।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ গত জুন-জুলাইয়েই জিম্বাবুয়ে সফরে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছিলেন। বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা ম্যাচের শেষ দিন তাকে গার্ড অব অনারও দিয়েছিল।

কিন্তু দলের মধ্যে সবাই জানলেও এতদিন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি তিনি। মিডিয়াতেও এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন বিষয়টি।

পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ চলাকালে মাহমুদউল্লাহকে টেস্ট সিরিজে খেলার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেন, কখনো আর টেস্টে ফিরবেন না।

২০০৯ সালে শুরু হওয়া তার টেস্ট ক্যারিয়ার শেষ পর্যন্ত অনেকটা অপূর্ণই রয়ে গেল। বাংলাদেশের হয়ে তার ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার শুরু ২০০৭ সালে। দুই বছর পর টেস্ট ক্যাপ পান ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে। অভিষেক টেস্টে ব্যাটিংয়ে ভালো না করলেও বল হাতে প্রথম ইনিংসে পান ৩ উইকেট, দ্বিতীয় ইনিংসে ৫টি। এখনো তা অভিষেকে দেশের বাইরে বাংলাদেশের হয়ে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড। পরের টেস্টেও নেন ৪ উইকেট।

তখন তিনি পুরোপুরি অলরাউন্ডার। ব্যাট করছিলেন ৮ নম্বরে, সঙ্গে বোলিং। ব্যাটিংয়ের সাফল্যের জন্য খুব বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি। ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্টে প্রথম ফিফটির দেখা পান ভারতের বিপক্ষে চট্টগ্রামে। পরের টেস্টে খেলেন ৯৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। ওই সিরিজে তার ব্যাটিং দেখেই ভারতীয় কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার তাকে বলেন বিশ্বের সেরা ৮ নম্বর ব্যাটসম্যান।

পরের সিরিজেই প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির স্বাদ পান নিউজিল্যান্ড সফরে হ্যামিল্টনে। তাতে ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন মেলে ওই বছরই। পাঁচে উঠেও শুরুটা খারাপ করেননি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্টে করেন দুটি ফিফটি।

এরপর থেকে আর মেলেনি খুব ধারাবাহিকতা। মাঝেমধ্যে দু-একটি ফিফটি, বারবার থিতু হয়ে আউট হওয়া, এই ছিল নিয়মিত চিত্র। জায়গা নিয়ে প্রশ্নও ওঠে। বিশেষ করে ২০১৫ থেকে ২০১৭ সালের সময়টায় ২৩ ইনিংসে তার ফিফটি ছিল কেবল ৩টি। তবু একটু ব্যাটিং, একটু বোলিং আর সীমিত ওভারে ভালো পারফরম্যান্স মিলিয়ে দলে টিকে যান।

এরপর বাদ পড়ার দুয়ারে চলে যান বার দুয়েক। প্রতিবারই শেষ সময়ে ভালো করে টিকে যান। ৮ বছরের সেঞ্চুরি খরা কাটিয়ে অবশেষে দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরির দেখা পান ২০১৮ সালের নভেম্বরে। তার টেস্ট ক্যারিয়ারের সেরা সময়ও তখন থেকেই। চার টেস্টের মধ্যে তিনটি সেঞ্চুরি করেন।

২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ড সফরে হ্যামিল্টনে সেঞ্চুরি ও পরের টেস্টে ওয়েলিংটনে করেন ফিফটি। এরপরই আবার ব্যর্থতার ধারা, গত বছর পাকিস্তানে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে বাজে শট খেলে বাদ পড়া, এবার জিম্বাবুয়েতে ফেরা, রাঙানো এবং বিদায়।

এক যুগের ক্যারিয়ারে ৫০ টেস্টে প্রায় ৩৪ গড়ে ২ হাজার ৯১৪ রান রিয়াদের। আছে ৫ সেঞ্চুরি ও ১৬টি ফিফটি । ৬৬ ইনিংসে বোলিং করে শিকার ৪৩ উইকেট।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com