সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
খালেদা জিয়া মুক্ত আছেন বলেই মুক্তভাবে চিকিৎসা নিতে পারছেন : আইনমন্ত্রী নতুন প্রজন্মের জন্য “চিরঞ্জীব মুজিব” এর মতো আরো চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির উন্নয়নশীল দেশে উত্তোরণের বিষয়ে জাতিসংঘে প্রস্তাব গ্রহণ মহান অর্জন : প্রধানমন্ত্রী ব্লু-ইকোনমির সুযোগ কাজে লাগাতে বিনিয়োগ করার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আহ্বান জাপান সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে : জাপানের ভাইস-মিনিস্টার বিআরটিসির সব বাসেই শিক্ষার্থীরা অর্ধেক ভাড়া সুবিধা পাবে ‘ওমিক্রন’ প্রতিরোধে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির ৪ সুপারিশ ওমিক্রনে দক্ষিণ আফ্রিকায় মৃত্যুহার দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে আর কোনো বিপদ ছাড়াই দিন শেষ করল বাংলাদেশ ‘ওমিক্রন’ নিয়ে দেশের সব প্রবেশপথে সতর্কবার্তা

জয়ের নেই আলাদা পরিকল্পনা

পাকিস্তানের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টের দলে সুযোগ পেয়েছেন দুই নতুন মুখ। দল ঘোষণার আগের দিনও তারা নিজ নিজ বিভাগীয় দলের সঙ্গে ছিলেন জাতীয় লিগের ব্যস্ততায়। পরদিনই টেস্ট দলের সঙ্গে যোগ দিতে চট্টগ্রাম উড়ে যাওয়ার ব্যস্ততায় ভালো লাগাটা জানাতে পারেননি। গতকাল প্রথমবার টেস্ট দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজেদের খুশিটা তুলে ধরেন। ব্যাটসম্যান মাহমুদুল হাসান জয় ও পেসার রেজাউর রহমান রাজা এখন বিভোর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের গন্ধ গায়ে মাখার আনন্দে। গতকাল জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দুপুরে প্রথমবার অনুশীলন করলেন জাতীয় দলের সঙ্গে।

চট্টগ্রামের এই মাঠ দুই তরুণের জন্যই পুরনো। তবে দলের আবহটা নতুন। এখন তারা বাংলাদেশের সাদা জার্সিতে ২৬ তারিখ থেকে মাঠে থাকবেন। তবে খেলবেন কি না নিশ্চিত নয়। মাহমুদুল হাসান জয় খেলেন ব্যাটিং অর্ডারের তিন নম্বরে। ওই পজিশনে টেস্টে সেঞ্চুরি করা নাজমুল হোসেন শান্ত আছেন। চারে অধিনায়ক মুমিনুল হক ও পাঁচে মুশফিকুর রহিম। অবশ্য জয় এতকিছু না ভেবে সুযোগ পেলে সাবলীল খেলতে চান। প্রথম জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে জয় বলেন, ‘জাতীয় দলের বা টেস্ট স্কোয়াডে ডাক পাওয়ার অনুভূতিটা প্রকাশ করার মতো না। এটা তো সব ক্রিকেটারেরই স্বপ্ন থাকে। অবশ্যই আমি জাতীয় লিগে কয়েকটা ইনিংস ভালো খেলেছি। এখন আমার আত্মবিশ্বাসটা ভালো। তো এখন আমি বড় পর্যায়ে ভালো করার জন্য আত্মবিশ্বাসী। আলাদা পরিকল্পনা নেই। যেভাবে এইচপি, এ দল বা জাতীয় লিগে ব্যাটিং করেছি। সেভাবেই আমি এগিয়ে যেতে চাই।’

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী জয় অনেকদিন ধরেই জাতীয় দলের দরজায় কড়া নাড়ছেন। বিশেষ করে লম্বা ফরম্যাটে। সেখানে রাজার সুযোগ পাওয়াটা একদম চমক। এইচপি ও এ দল মিলিয়ে অনেকদিন ধরেই পেসারদের তালিকায় খালেদ আহমেদ, মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ, সুমন খান, শহিদুল ইসলামদের নাম। কিন্তু রাজা একদম বাইরে থেকেই সরাসরি সুযোগ পেলেন। সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় ১৯৯১ সালে জন্ম নেওয়া এ তরুণ জাতীয় দলের সিঁড়ি পেয়েছেন টেপ টেনিসে ভালো করে। সিলেটের বিভিন্ন টুর্নামেন্টে ভালো করছিলেন। নিজ দলের বড়দের উৎসাহে যোগ দেন কাঠের বলের অনুশীলনে। কাঠের বলের একটি টুর্নামেন্টে দারুণ বল করে নিজের প্রতি চমকে যান। এরপর আর পেছনে ফিরতে হয়নি।

বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে গত বছর খেলেছেন মিনিস্টার রাজশাহীর হয়ে। এবার সিলেটের হয়ে বেশ ভালো করেছেন জাতীয় লিগে। ৩ ম্যাচে ১২ উইকেট নিয়েছেন ১৯.৯২ গড়ে। সবমিলিয়ে পছন্দের বড় দৈর্ঘ্যরে ক্রিকেটেই ডাক পেয়ে উল্লসিত রাজা বলেন, ‘ক্রিকেটে আসার ইচ্ছাটা আসে টেপ টেনিস থেকে। এলাকায় একটা টেপ টেনিস টুর্নামেন্টে ভালো করার পর ক্রিকেট বলের একটা টুর্নামেন্ট খেলি, সেখানে নিজের বল দেখে আমার আত্মবিশ্বাস জাগে। আর এলাকার বড়রাও আমার বোলিং দেখে বলছিল যে তোমার বোলিং ভালো, তুমি স্টেডিয়াম গিয়ে অনুশীলন করতে পারো। তাদের কথা আমলে নিয়ে ক্রিকেট বলের অনুশীলন শুরু করলাম। অনুশীলনে নিজেকে দেখে আরও বুঝলাম যে হয়তো আমার পক্ষে কিছু করা সম্ভব। মোটিভেশনটা আসলে ওই সময় থেকেই যে আমি ক্রিকেটার হব। আর ইদানীং তো আমাদের সিলেট থেকে বড় ভাইরা আছেন, তারা সবসময়ই সাহস জুগিয়েছেন তাদের দেখে সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার আগ্রহটা বেড়েছে।’

টেস্টে যে কোনো দলের অধিনায়ক এমন বোলারকেই চান। নিজের বোলিং শক্তি সম্পর্কে এ পেসার বলেন, ‘চারদিনের ম্যাচগুলোয় আমার শক্তি হলো কয়েকটা স্পেলে বল করতে পারি, এক দিনে কয়েকটা স্পেল করতে আমার কোনো সমস্যা হয় না। আরও বিষয় বলতে আমি এক জায়গায় বল করতে পারি, আপনারা সবাই জানেন যে টেস্টে একটি জায়গায় বল করে যাওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া একই রিদমে বল করতে পারি– দিনের শুরুতে যেমন করি দিনের শেষ দিকেও সে-রকমই থাকে আমার পেস বা ডেলিভারিগুলো। এছাড়া মিস মুভমেন্টও করতে পারি।’

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com