সোমবার, ১৬ মে ২০২২, ০৯:৪০ অপরাহ্ন

ইসি নিয়োগ আইন প্রণয়ন জাতির সঙ্গে তামাশা

নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকারের আইন প্রণয়ন খসড়া বিলটি জাতির সঙ্গে তামাশা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিয়াউর রহমানের ৮৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বিএনপির লবিস্ট নিয়োগের ব্যপারে সরকারের অভিযোগ নিয়োগের অভিযোগ ভিত্তিহীন, বানোয়াট বলে মন্তব্য করেন।

এসময় তিনি বলেন, বর্তমানে যারা গায়ের জোরে সরকার, যারা জনগণের সরকার নয়, তারা সংসদে বসে তাদের ইচ্ছেমতো একটি আইন পাস করবে। তারপরে কী করবে, ওই আইন মোতাবেক সার্চ কমিটি করতে হবে। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী যে লিস্টটা দেবেন, ওই সার্চ কমিটি সেই লিস্টটা রাষ্ট্রপতিকে দেবে। রাষ্ট্রপতি সেটি ঘোষণা করবেন। এটি আরেকটি তামাশা জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য।

এটা আরেকটা তামাশা জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য। এর আাগে সরকার রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপ করিয়ে নাটক করেছে, তামাশা করেছে, বলেন তিনি।

আইন না থাকায় প্রতিবারই ইসি নিয়োগে বিতর্ক দেখা দেয়। এবার নিয়োগের উদ্যোগে রাষ্ট্রপতির সংলাপে অধিকাংশ দলই সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়নের দাবি জানান বিএনপির এই নেতা।

তিনি আরো বলেন, বাকশাল প্রতিষ্ঠা করতেই একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছে সরকার। এই সময় একদলীয় নির্বাচন প্রতিহত করার হুঁশয়ারি দেন তিনি। নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকারের প্রণিত খসড়া বিলের সমালোচনা করে তিনি বলেন অতীতের মতো আবারও দলীয় সরকারের অধীনে ভোট করার জন্য একটি অনুগত নির্বাচন কমিশন গঠন করার পথে হাটছে সরকার। এই সরকারের অধীনে আর কখনও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারকে আন্তর্জাতিকভাবে যে সতর্কবার্তা দেয়া হচ্ছে, তা সরকার গায়ে নিচ্ছে না বলে উল্লেখ করেন খন্দকার মোশাররফ। তিনি বলেন, আজকে আবার আন্তর্জাতিকভাবে যে স্যাংশন আসছে, শুধু স্যাংশন (নিষেধাজ্ঞা) নয়—এর ধারাবাহিকতায় ১২টি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বেসরকারি মানবাধিকার সংগঠন জাতিসংঘে চিঠি দিয়ে বলেছে, বাংলাদেশে র‍্যাবকে যাতে শান্তি মিশনে আর না নেওয়া হয় বা যাঁরা আছেন, তাঁদের বের করে দেয়া হয়। পত্রিকায় এসেছে, জাতিসংঘ সেটি আমলে নিয়েছে, অর্থাৎ এটিকে গ্রহণ করেছে। তারা বলেছে, এ ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে। অর্থাৎ কীভাবে এই সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে চারদিক থেকে ওয়ার্নিং দেওয়া হচ্ছে, এটিও ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ হয়ে আজকে সরকার ভালো করে বুঝতে পারছে না।

জনগণের সামনে একটাই টার্গেট ও একটাই মাত্র সমাধান উল্লেখ করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, স্বৈরাচারী সরকারকে হটাতে হবে। কোনো স্বৈরাচারী সরকার কখনো নিজের ইচ্ছায় সরে যায় না। হয় তাকে গণ-আন্দোলন অথবা এমন পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে যে তারা পদত্যাগ করতে বাধ্য হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com