বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২, ০৪:৪৯ অপরাহ্ন

ফিট হয়ে নামতে পারবে তো বাংলাদেশ

আজ উইন্ডিজের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে ডমিনিকায়। সেই ম্যাচের আগে ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফ মিলিয়ে কমপক্ষে বাংলাদেশের সাতজন অসুস্থ হয়েছেন। ফেরিতে বমি করে বেশি অবস্থা খারাপ হয় শরিফুল ইসলামের।

বাংলাদেশ দল বৃহস্পতিবার সেন্ট লুসিয়া থেকে সমুদ্রপথে ডমিনিকা যাচ্ছিল। যেখানে হবে সিরিজের প্রথম দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। উত্তাল আটলান্টিক মহাসাগরের পথে সেন্ট লুসিয়ার ক্যাস্ট্রিস ফেরি টার্মিনাল থেকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকালে মার্টিনেকের উদ্দেশে রওনা দেয় পার্লে এক্সপ্রেসের ফেরি। সেন্ট লুসিয়া থেকে মার্টিনেক হয়ে ডমিনিকা গন্তব্য ছিল বাংলাদেশ দলের। দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা সমুদ্রযাত্রার ফলে ‘মোশন সিকনেসে’ আক্রান্ত হন সাকিব আল হাসানরা। ছয়-সাত ফুট উঁচু ঢেউ আর প্রবল দুলুনিতে জাহাজে শরিফুলসহ কয়েকজন বমি করতে থাকেন। পেসার শরিফুল, উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান এবং ম্যানেজার নাফিস ইকবালের অবস্থা দেখে অন্যরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। দলের সঙ্গে থাকা ম্যাসিওর সোহেল এতটাই ক্লান্ত ছিলেন যে ফেরির ডেকে ঘুমিয়ে পড়েন। ম্যানেজার নাফিস ইকবালসহ ক্রিকেটাররা মার্টিনেকে নেমে যেতে চেয়েছিলেন। বোর্ডের সঙ্গে কথাও বলেন। কিন্তু স্বল্প সময়ের মধ্যে বিকল্প ব্যবস্থায় (বিমানে) ডমিনিকায় যাওয়া সম্ভব ছিল না বলে সেই পরিকল্পনা বাতিল হয়। তাছাড়া  ফরাসি কলোনি মার্টিনেকের ভিসাও দ্রুত পাওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। যাত্রাপথে কী হয়েছিল তা নিয়ে বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এটা তো এমন নয় যে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ওখানে অন্য দ্বীপে যাবে। এরপরে যেখানে আছে সেখানে বিমানেই যাবে। কিন্তু এই একটা জায়গা মানে ডমিনিকা যেখানে কোনো বিমানের বিকল্প ছিল না। ওরা আমাকে যেমনটা বলেছে, চার্টার্ড ফ্লাইট করতে চেয়েছিল কিন্তু তাও সম্ভব হয়নি। কারণ কভিডের কারণে ওই দ্বীপে যাওয়া অনেক বিমানই বন্ধ হয়ে গেছে।’

বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের এমন সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার অভিজ্ঞতা আগে ছিল না। উইন্ডিজ সফরে বিদেশি দলগুলোও এভাবে সমুদ্রপথে এক দ্বীপ থেকে আরেক দ্বীপে যায় না। আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে স্বাগতিক দলও এই প্রথম ফেরিতে এক দ্বীপ থেকে আরেক দ্বীপে গেল। দ্বিপক্ষীয় সিরিজে সফর পরিকল্পনা স্বাগতিক বোর্ডই করে। কিন্তু সেই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে সফরকারী বোর্ড। এ প্রসঙ্গে নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন বলেন, ‘আসলে এখানে স্বাগতিক বোর্ডের ওপর সবকিছু নির্ভর করে। তাই ওদের ওপরই নির্ভর করতে হয়। তো এখানে আমাদের কিছু করার ছিল না। আর ওরা ডমিনিকাতে নিয়মিতই ফেরির মাধ্যমে যাতায়াত করে। ওদের দল মানে উইন্ডিজও সেভাবেই গিয়েছে। ম্যাচ অফিসিয়াল, টিভি ক্রুরাও ওই ফেরিতে ছিল। তো সিরিজের সবাই যখন একসঙ্গে একটা জায়গায় যাবে এটা বললে তখন আর অন্য কিছু বলার থাকে না।’ বাংলাদেশ দলের লম্বা সমুদ্রযাত্রার অভিজ্ঞতা নেই বলেই এমনটা হয়েছে বলে মনে করেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আসলে ওখানে ওদের যেমন নিয়মিত যাতায়াতের অভ্যাস, আমাদের ক্রিকেটারদের কয়েকজনের তো সেইরকম অভ্যাস নেই। আসল সমস্যাটা হলো এখানে। তাছাড়া ওই সময় আবহাওয়া খারাপ হয়ে যাওয়ায় ঢেউটা বেশি এসেছে। এরকম কিছু না হলে কিন্তু ভয়ের কিছু ছিল না, বরং উপভোগ করত। যারা অসুস্থ হয়েছে তাদের বাইরে অন্যরা কিন্তু উপভোগ করেছে জার্নিটা। মূলত বাজে আবহাওয়ার কারণে এমন হয়েছে। আবার ধরেন ছোট বিমান যদি হতো, এমন আবহাওয়ায় সেটাও ভয়ের ছিল। হতে পারে যাদের বমি করার অভ্যাস আছে ওদের সমস্যাটা হয়েছে। উইন্ডিজ বোর্ড আমাদের বলল সবাই বমিটিং টেবলেট খায় নাই। এখানে মোট কথা আবহাওয়াটাই দুর্ভাগ্যজনক হয়ে গেছে।’ ফেরিতে বাংলাদেশ এবং উইন্ডিজ দল ডমিনিকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার দুই দিন আগেই সাগরে সাইক্লোন হয়। ফলে প্রবল ঢেউ ছিল। বৈরী আবহাওয়ার কারণেই ‘মোশন সিকনেসে’র কবলে পড়েন ক্রিকেটাররা। আজ সেই ক্লান্তি সম্পূর্ণ কাটিয়ে ওঠার আগেই মাঠে নামতে হবে। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে কি তাদের সবাইকে ফিট অবস্থায় পাওয়া যাবে? এই প্রশ্নটাই ভাবিয়ে তুলছে টিম ম্যানেজমেন্টকে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com