সোমবার, ২৯ Jun ২০২৬, ১১:০৪ অপরাহ্ন
জেনারেল মোটরস থেকে শুরু করে টয়োটাসহ সকল গাড়ি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানই পেট্রলচালিত গাড়ি তৈরি বন্ধের পরিকল্পনা করছে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বিশ্বজুড়ে বিদ্যুৎচালিত গাড়ির জনপ্রিয়তা বেড়েই চলছে। এতে পরিবেশের ক্ষতি হয়তো হ্রাস পাবে, কিন্তু নয়া এ প্রযুক্তি এবং এর উৎপাদন কর্মযজ্ঞের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়বে এই শিল্পের সাথে জড়িত হাজার হাজার মানুষ। এমনটাই অনুমান বিশেষজ্ঞদের।
কেউ কেউ ধারণা করছেন, যারা মূলত পেট্রল ইঞ্জিন সংযোজন, ট্রান্সমিশন এবং নিষ্কাশন প্রক্রিয়ার কাজগুলো করে থাকে তাদের ওপর দিয়েই এই ধাক্কা বয়ে যাবে। এ ছাড়া বিদ্যুৎচালিত মোটর এবং ব্যাটারি দিয়ে গাড়ি তৈরির কাজটি অনেক সহজ বলে লোকবল তেমন লাগবে না। প্রতিষ্ঠানগুলো আগের চেয়ে কম কর্মী দিয়ে একই পরিমাণ গাড়ি তৈরি করতে পারবে।
বিশ্বখ্যাত গাড়ি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ফোর্ড এবং ভক্সওয়াগনের হিসাবে―বিদ্যুৎচালিত গাড়ি তৈরিতে প্রচলিত গাড়ির তুলনায় ৩০ শতাংশ কম কর্মীর প্রয়োজন পড়ে। অন্যদিকে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এলিক্সপার্টনারস হিসাব করে দেখেছে যে আগের তুলনায় ৪০ শতাংশ কম কর্মী দিয়েই বিদ্যুৎচালিত গাড়ি তৈরি সম্ভব।
এসব ব্যাপারে এখনো সুনিশ্চিত ডাটা না থাকলেও এই শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট অনেকেই ধারণা করছেন যে প্রযুক্তির পরিবর্তনের ফলে প্রচুর মানুষ চাকরি হারাবে। অটোমোটিভ রিসার্চ সেন্টারের প্রযুক্তি পরিচালক ব্রেট স্মিথ বলেন, ‘এই শিল্পটি এমন এক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা আমরা আগে কখনো দেখিনি। সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে যে সামনে অল্প কয়েকজন মিলেই একটি গাড়ি তৈরি করে ফেলবে, সেই সাথে যন্ত্রাংশগুলো তৈরিতেও লাগবে অল্প মানুষ। ফলে অনেকেই হুমকির মুখে পড়বে। ’
ইকোনমিক পলিসি ইনস্টিটিউটের এক সমীক্ষায় দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে যদি ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎচালিত গাড়ির বিক্রি ৫০ শতাংশে উন্নীত হয় তাহলে প্রায় ৭৫ হাজার কর্মী কাজ হারাতে পারেন। অন্যদিকে ইউরোপের গাড়ি সরবরাহকারীদের হিসাবে দ্রুত বিদ্যুতায়নের ফলে ২০৪০ সালের মধ্যে দুই লক্ষ ৭৫ হাজার মানুষ চাকরি হারাবে। অন্যদিকে বিদ্যুৎচালিত গাড়ির যন্ত্রাংশ তৈরির জন্য নতুন কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হবে।
বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের এক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০৩০ সালের মধ্যে ইউরোপে বিদ্যুৎচালিত গাড়ি শিল্পের প্রভাবে পেট্রলচালিত গাড়ি নির্মাণ এবং যন্ত্রাংশ সরবরাহের সাথে জড়িত ছয় লক্ষ ৩০ হাজার মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়বে। এর পাশাপাশি ব্যাটারির চাহিদা বৃদ্ধি এবং চার্জিং অবকাঠামো তৈরি করতে পাঁচ লক্ষ ৮০ হাজারের মতো নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।
প্রচলিত গাড়ি তৈরিতে যারা উচ্চ বেতনে কাজ করে থাকে, মূলত সিস্টেম ডিজাইনের সাথে জড়িতদের সাবধান করে দিয়েছেন সান্তা ক্লারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর টাম্মি মাডসেন। তিনি বলেন, এদের নতুন করে প্রশিক্ষণ নিতে হবে যাতে নতুন প্রজন্মের বিদ্যুৎচালিত গাড়ি তৈরিতেও কাজ করতে পারে। নয়তো তাদেরও চাকরি হারাতে হবে।
এই ছাঁটাইয়ের প্রভাব ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে বলা যায়। কারণ ফোর্ডের দেওয়া তথ্যমতে তাদের পেট্রল ইঞ্জিন বিভাগের আট হাজার বেতনভুক্ত কর্মচারীকে তারা বাদ দিয়েছে। ফোর্ডের প্রধান নির্বাহী জিম ফারলে বলেন, ‘আমাদের অনেক জায়গাতেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত কর্মী রয়েছে, এ ব্যাপারে কোনো সংশয় নেই। আমাদের যেমন প্রচুর দক্ষ কর্মী রয়েছে যাদের ভবিষ্যতে আর দরকার নেই তেমনি অনেক কাজও রয়েছে যেগুলোতে পরিবর্তন দরকার। ’
আসন্ন বিদ্যুৎচালিত গাড়ি শিল্পের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে নিশ্চিতভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করতে না পারলেও এটি বলা যায় যে আমাদের রাস্তা এবং প্রধান সড়কগুলো ঢেলে সাজাতে হবে।
সূত্র : ইনসাইডার