সোমবার, ২৯ Jun ২০২৬, ০৫:০২ অপরাহ্ন
নগরীর বন্দরটিলার নয়ারহাটের খালপাড় সংলগ্ন তিনতলা একটি ভবন ঘিরে আশপাশের মানুষের কৌতূহল। ভিড় ঠেলে সামনে এগোতেই শুনতে পাওয়া যায় ভবনটির দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে ভেসে আসা বুকভাঙা বিলাপ ও আহাজারির শব্দ। ফ্ল্যাটটিতে ঢুকেই অতিথি কক্ষে দেখা যায়, বিলাপ করতে করতে এক নারী বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। চেতনা ফিরলেই নিজের চার বছর ১১ মাস বয়সী মেয়ে আলীনা ইসলাম আয়াতকে খুঁজে ফিরছেন। তিনি ১০ দিন আগে নিজ বাসার সামনে থেকে নিখোঁজ হওয়া আয়াতের মা শাহেদা আক্তার তামান্না।
বিলাপ করতে করতে বারবার বলছিলেন, ‘আমার এই ৪ বছরের বাচ্চাটাকে কীভাবে ছয় টুকরা করে কেটে ফেলল আবীর। কী দোষ ছিল আমার মেয়েটার। আমরা তো কোনোদিন কারও ক্ষতি করিনি, তাও কেন আমাদের সঙ্গে আল্লাহ এমন করলেন? বাচ্চাটা আমার মক্তবে যাচ্ছিল পড়তে, কিন্তু এখন তার ছোট্ট শরীরটাই আর দেখতে পেলাম না।’ কাঁদতে কাঁদতে ফের মূর্ছা যান তামান্না। প্রতিবেশী নারীরা শত চেষ্টা করেও তার মন ভোলাতে পারেননি। এই চিত্র গতকাল শুক্রবার দুপুরের।
গত ১৫ নভেম্বর নিজ বাড়ির সামনে থেকে নিখোঁজ হওয়া আলীনা ইসলাম আয়াত মুক্তিপণের জন্য অপহরণের পর হত্যার শিকার হয়েছে। অপহরণকারী এক তরুণ তাকে হত্যার পর লাশ কেটে ছয় টুকরা করে সাগর ও খালে ভাসিয়ে দিয়েছে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কর্মকর্তারা বলছেন, গতকাল আবীর আলী (১৯) নামে অপহরণকারী ওই তরুণকে আটকের পর এসব তথ্য জানতে পেরেছেন তারা। আবীরের পরিবার শিশু আয়াতের বাসায় ভাড়া থাকে।
শাহেদা আক্তার তামান্নার পাশে বসে বুক চাপড়ে নিজের নাতনিকে এনে দেওয়ার কথা বলছিলেন আয়াতের নানি। আহাজারি করতে করতে তিনি বলেন, ‘আমার নাতিকে যে এমন নৃশংসভাবে মেরেছে তাকে আমাদের কাছে আনো, তাকে আমি জিজ্ঞেস করতে চাই এই মাসুম বাচ্চাটা কী করেছিল তার?’