বৃহস্পতিবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৮:০৬ পূর্বাহ্ন

আগামী ১০ ডিসেম্বর সমাবেশের অনুমতি

ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ। আগামী ১০ ডিসেম্বর সমাবেশের অনুমতি চেয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার ফারুকের কাছে আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে শুধু নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের জায়গার কথাই উল্লেখ করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার দেশ রূপান্তরকে বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘আমরা নয়াপল্টনেই সমাবেশ করব। দলের সিদ্ধান্তেই নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। কিন্তু সরকার আমাদের কেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি দিতে চায়; তা নিয়ে আমাদের সন্দেহ বাড়ছে। তারা অপকর্ম করে দায় আমাদের ওপর চাপাতে পারে।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নয়াপল্টনেই সমাবেশ করব। এটাই দলীয় সিদ্ধান্ত। আমরা আবেদনও করেছি নয়াপল্টনে অনুমতি চেয়ে। আমরা বলেছি, সমাবেশ হবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। অন্য ৮ বিভাগীয় সমাবেশে সরকার পথে পথে বাধা দিলেও আমরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করেছি।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশকে সামনে রেখে সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হয়রানি করছে। ককটেল হামলা হয়নি অথচ ককটেল হামলার মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।’

নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, দলীয় নেতাকর্মীদের হত্যা, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নির্দলীয় সরকারের অধীন নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি এ গণসমাবেশ করছে। গত ১২ অক্টোবর চট্টগ্রামে প্রথম বিভাগীয় সমাবেশ হয়। এরপর ময়মনসিংহ, খুলনা, রংপুর, সিলেট, ফরিদপুর, বরিশাল ও কুমিল্লায় সমাবেশ হয়েছে। আগামী ৩ ডিসেম্বর রাজশাহীতে সমাবেশ হবে। ঢাকার সমাবেশের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচি শেষ হবে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ডিএমপিকে আমরা দুই দফা চিঠি দিয়ে জানিয়েছি, আমরা নয়াপল্টনে সমাবেশ করব। অতীতে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করেছি, আগামীতেও করব।’

তিনি বলেন, ‘সরকার সব বিভাগীয় সমাবেশের অনুমতি নিয়ে টালবাহানা করেছে। হঠাৎ করে আগেভাগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুমতি দিতে চায়; তা নিয়ে আমাদের সন্দেহ হচ্ছে। আমরা অনুমতি চাইলাম ডিএমপির কাছে। ডিএমপি জবাব দিল না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগেভাগে কেন সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিচ্ছেন তা বুঝতে পারছি না।’

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আগামী ১০ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে গণসমাবেশের অনুমতি চেয়ে ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আমরা আবেদন করেছি। একটি স্থানের কথাই উল্লেখ করেছি। একইসঙ্গে সারা দেশে সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের গণগ্রেপ্তার বন্ধের দাবি জানিয়েছি। সমাবেশকে কেন্দ্র করে, যাতে গণপরিবহন বন্ধ করা না হয় সে ব্যাপারেও সহযোগিতা চেয়েছি। আমাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো হয়, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ ও থ্রেট অ্যানালাইসিস করে অনুমতির কথা ভাবা হবে। অনুমতি দেওয়া হলে সব ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে বলে আমাদের জানানো হয়েছে।’

ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নয়াপল্টনেই আমরা দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৫টার মধ্যে সমাবেশ করব। সব দিক বিবেচনায় নয়াপল্টন অপেক্ষাকৃত নিরাপদ। সরকার বাধা দিলে বুঝতে হবে তাদের দুরভিসন্ধি রয়েছে।’

গত ২৫ নভেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিএনপির দাবি ছিল সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। আমাদের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়ার জন্য ডিএমপি কমিশনারকে বলে দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাও তা-ই। তাদের জানিয়ে দেওয়া হবে, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানো যাবে না। প্রতিবন্ধকতা ও জনদুর্ভোগ করা যাবে না। এটা তাদের প্রতি রিকোয়েস্ট থাকবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের জবাবে বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী সাংবাদিকদের বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কীভাবে বিএনপি সমাবেশ করবে? ১০ ডিসেম্বরের আগের দু’দিন সেখানে ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গসংগঠনের কর্মসূচি রয়েছে। সেখানে বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দিলে তা সাংঘর্ষিক হবে। গত বৃহস্পতিবার পুলিশের মতিঝিলের ডিসি আমাকে ফোন করেছিলেন। তিনি বলেছেন, গণসমাবেশের জন্য আপনারা বিকল্প ভেন্যু চেয়ে আবেদন করেন। আমি জানিয়েছি, আমরা নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গণসমাবেশ করার অনুমতি  চেয়ে ইতিমধ্যে দুবার চিঠি দিয়েছি। নয়াপল্টনেই কর্মসূচি করতে চাই, অন্য কোথাও নয়। এটা দলের সিদ্ধান্ত। আরও বলেছি, আপনার (মতিঝিলের ডিসি) প্রস্তাব দলকে জানাব।’

১০ ডিসেম্বরের সমাবেশ সফল করতে বিএনপি প্রচার উপ-কমিটি গঠন করেছে গত রবিবার। উপ-কমিটির সদস্যরা গতকাল দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তখন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আগামী ১০ ডিসেম্বর নয়াপল্টনেই বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ হবে। ঢাকার সমাবেশ নিয়ে এখনো বিএনপিকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। গণমাধ্যম মারফত জানতে পেরেছি সরকার অন্য জায়গায় অনুমতি দিতে চায়। দলের সিদ্ধান্ত হচ্ছে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেই সমাবেশ হবে।’

অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ বলেন, ‘আমাদের দাবি-দাওয়া মেনে নিলে তো সমাবেশ করা লাগবে না। তারা আমাদের দাবি মানলেই হলো। আমরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে চাই। আশা করি সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে।’

মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন প্রচার উপ-কমিটির আহ্বায়ক মীর সরফত আলী সপু, সদস্য সচিব প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুল। উপস্থিত ছিলেন প্রচার উপ-কমিটির নেতা আ ক ম মোজাম্মেল হক, ওমর ফারুক সাফিন, আকরামুল হাসান, ফেরদৌস আহমেদ খোকন, তাঁতী দলের আবুল কালাম আজাদ, মজিবুর রহমান প্রমুখ।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com