রবিবার, ২৮ Jun ২০২৬, ০৭:৫৭ অপরাহ্ন
বাগেরহাটের কচুয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা দুই সহোদরের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।
পরিবারের সদস্যদের বেঁধে ফেলে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ সাড়ে এগারো লাখ টাকা ও চল্লিশ ভরি স্বর্ণালংকার লুটে নিয়েছে ডাকাত দল।
মঙ্গলবার সকালে বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মাহমুদুল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত কাউকে পুলিশ এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
গোলাম সুকরানা রব্বানী ওরফে আজাদ বালি কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক ও তার ছোট ভাই সুলতান আলম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক। তারা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঠিকাদার।
ঠিকাদার সুলতান আলম ওরফে আলম বালি বলেন, সোমবার রাত দুইটার সময় মুখোশধারী সশস্ত্র সাতজনের একটি ডাকাত দল আমার একতলা বাড়ির গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ করে।
তারা আমার নাম ধরে ঘুম থেকে ডেকে তুলে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ওড়না ও গামছা দিয়ে আমাকে, আমার স্ত্রী ও দুই ছেলেমেয়ের হাত-পা বেঁধে ফেলে।
পরে তারা আলমারির চাবি নিয়ে নগদ ১১ লাখ টাকা ও ১২ ভরি সোনার গয়না ও তিনটা মোবাইল সেট নিয়ে পাশে থাকা আমার বড় ভাইয়ের ঘরে যায়।
সেখানে গিয়ে একইভাবে আমার বড় ভাই তার স্ত্রী ও ছেলেদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ ৫০ হাজার টাকা ও ৩০ ভরি স্বর্ণের গয়না লুট করে পালিয়ে যায়।
‘ডাকাত দল চলে যাওয়ার পরপরই ঘটনাটি পুলিশকে জানানো হলে রাতেই তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। আমরা দুই ভাই ঠিকাদারি করি। শ্রমিকদের বেতন দিতে সব সময় বাড়িতে কমবেশি টাকা রাখতে হয়। ডাকাত দল আমাদের বিষয়ে খোঁজখবর রাখে। তা না হলে তারা আমার ঘরে ঢুকে নাম ধরে ডাকবে কেন? নাম ধরে ডাকায় আমি অবাক হয়েছি।
এই ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশের কাছে দাবি জানিয়েছেন এই ঠিকাদার আওয়ামী লীগ নেতা।
ডাকাতির ঘটনা স্বীকার করে কচুয়া থানার ওসি মো. রবিউল ইসলাম বলেন, সোমবার গভীর রাতে সাত-আটজনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল দুই সহোদর ঠিকাদার আজাদ বালি ও আলম বালির বাড়ির গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে সবাইকে হাত-পা বেঁধে ফেলে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে।
পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ডাকাতদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক দল তদন্ত শুরু করেছে।