শুক্রবার, ২৬ Jun ২০২৬, ০৯:০১ অপরাহ্ন
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ঘুরছে জাল টাকা বিক্রির চটকদার সব বিজ্ঞাপন। আর তাতে সাড়া দিয়ে অনেকেই জড়িয়ে পড়ছেন নকল টাকা বিক্রিতে। এক লাখ টাকার জাল নোট পাওয়া যাচ্ছে ১০ – ১৫ হাজার টাকায়। এমনকি এজেন্টের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে হোম ডেলিভারিও।
সম্প্রতি ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সাথে কথা হয়েছে এই চক্রের কয়েকজনের সাথে। তারাই জানালেন জাল নোট বেচাকেনার আদ্যোপান্ত।
পরিচয় না প্রকাশের শর্তে জাল নোট চক্রের এক সদস্য জানান, এক লাখ টাকার জাল নোট পেতে সবমিলিয়ে খরচ করতে হচ্ছে ১০ হাজার টাকা। তবে সেই ১০ হাজার টাকা একবারে দিতে হচ্ছে না। প্রথম ধাপে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে তিন হাজার টাকা অগ্রিম পাঠিয়ে দিলেই দুই দিনের মধ্যে কুরিয়ারের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে লাখ টাকার জাল নোট। সেগুলো হাতে পাওয়ার পর বাকি সাত হাজার টাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হচ্ছে। তবে বেশি পরিমাণে নোট অর্ডার করলে অগ্রিম টাকাও কম দিলেও চলে। দুই লাখ টাকার জাল নোটের জন্য অগ্রিম পরিশোধ করতে হচ্ছে পাঁচ হাজার টাকা।
এসব জাল নোট পাঠানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে কয়েকটি কুরিয়ার সার্ভিস। তিনি আরও জানান, একটি জনপ্রিয় কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে হোম ডেলিভারি দিয়ে থাকেন তারা। মূলত টি-শার্টের ভেতরে বেঁধে কার্টনে করে ভালোভাবে প্যাকেট করা হয়। গিফট হিসেবে পাঠানো হয়, যা বাইরে থেকে ধরার কোনও সুযোগ থাকে না। আর অনেক সময় কুরিয়ার সার্ভিসের লোকজনকে হাত করা থাকে। সবচেয়ে বড় কথা, প্যাকেটের গায়ে একটা নম্বর থাকে। যে নম্বর দেখলেই ভেতরে কী আছে, তা জিজ্ঞাসাও করে না তারা।
এদিকে পুলিশ বলছে, লোভের ফাঁদের ফেলে লোকজনকে টার্গেট করে চক্রটি। তাদের কেউ কেউ গ্রেপ্তার হলেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে মূল হোতারা।
অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নজরদারীর অভাবে অনলাইনে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বাড়াচ্ছে অপরাধী চক্র। এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।