সোমবার, ২২ Jun ২০২৬, ০৮:৩৯ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ সুদানে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত জাপানে জোট সরকার গড়তে রাজি এলডিপি, ইশিন হামাস যুদ্ধ বিরতির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে অভিযোগ করে গাজায় ইসরায়েলের হামলা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল

‘এখন অনেক সিনেমায় একটিও গান থাকে না’

কথায় বলে, ‘আপনার জীবনের শ্রেষ্ঠ কষ্টের গান একা শুনুন।’ ঢাকাই সিনেমার বড় একটা অংশ জুড়েই আছে এই দুঃখ-কষ্টের গান। আর আনন্দের ও বিনোদনের গান তো আছেই। বাঙালি জীবনের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি জড়িয়ে আছে এই গানই। বিবাহ. উৎসব, মেজবানি থেকে শুরু করে একেবারে নিরালায় নিভৃত ঘরেও গানের সুর নাড়া দিয়ে যায়। তাই ঢাকাই সিনেমার একেবারে শুরু থেকেই চলচ্চিত্র নির্মাতারা বাঙালির এই সবচেয়ে প্রিয় জায়গাটিকে স্পর্শ করতেই তাদের সিনেমায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে এসেছেন শ্রুতিমধুর গানকে। অথচ আজকের ঢাকাই সিনেমা সেই গানের ব্যবহার কমে আসছে দিনকে দিন। এমনকি কোনো কোনো ছবিতে গানই থাকছে না।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হয় ঢাকাই সিনেমার এক সময়ের সুরেলা কণ্ঠের শিল্পী মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের কাছে কেন তিনি আর এখনকার সিনেমায় গাইছেন না এমন প্রশ্নে এই জনপ্রিয় শিল্পী বলেন, ‘এখন তো সিনেমাই কম হচ্ছে। তার ওপর যে সিনেমা হচ্ছে সেইসব সিনেমাতে গানই বলতে গেলে নেই। নামকাওয়াস্তে যেসব গান থাকে সেগুলোকেও সিনেমার গান বলা যাবে না। আমি ১৯৬৮ সালতে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ৪৫০টি প্লে-ব্যাক করেছি। এরপর আর কোনো প্লে-ব্যাক করা হয়নি। প্লে-ব্যাকে আমার বহু গানই হিট হয়েছে। এখনো সেইসব গানের রেকর্ড বাজতে শোনা যায়।’ কণ্ঠশিল্পী খুরশীদ আলম প্লে-ব্যাকের জন্য তাদের সময়টিকেই স্বর্ণযুগ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, বাংলা সিনেমায় ওই সময়টা আর কখনোই আসবে না। সেটা এপার বাংলাই হোক আর ওপার বাংলাই হোক। নিজ সময়ের সেরা কণ্ঠশিল্পীদের নাম করতে গিয়ে আবেগতাড়িত হয়ে আরও বলেন, ‘ওই গ্রুপটা আর হবে না। আমাদের ওই সময়টা আর কখনোই আসবে না। হয়তো একশ বা দেড়শ বছর পরে আসতে পারে। বশির আহমেদ, আলতাফ মাহমুদ, মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, খোন্দকার ফারুক আহমেদ, খন্দকার নুরুল আলম, আনোয়ার হোসেন খান, আব্দুর জব্বার, আব্দুল আলীম, মাহমুদ্দন্নবী, সৈয়দ আব্দুল হাদী, আমি, রফিকুল আলম, সুবীর নন্দী, এন্ড্রু কিশোর একসঙ্গে এত গুণী শিল্পী দশকে দশকে আসে না। এজন্য শতাব্দীকাল পেরিয়ে যাওয়ার পর হয়তো এর চেয়ে ভালো শিল্পী আসবে। কিন্তু একসঙ্গে এত ভালো শিল্পী কখনোই আর আসবে না।’

ঢাকাই সিনেমার যে সময়টায় একযোগে এক নামে চেনা যায় এত শিল্পী থাকতে পারেন তাদের এই তালিকা থেকেই পরিষ্কার হয়ে যায় তখন কি পরিমাণ প্লে-ব্যাক হতো। আর এখন তো সেটা কল্পনাই করা যায় না। ফলে অবস্থা এমন হয়েছে সিনেমায় গান কমতে কমতে এমন হয়েছে যে, এখন অনেক সিনেমাতে একটিও গান থাকে না। আবার এমন অনেক সিনেমা আছে যেগুলোকে প্লে-ব্যাকও বলা যায় না। নায়ক-নায়িকার রোমান্টিক দৃশ্যায়নের মাধ্যমে নেপথ্য থেকে গানের রেকর্ড শোনানো হয় শুধু। আর সেই রেকর্ড শোনানো গানের কথার তালে তালে দেখানো হয় নায়ক-নায়িকার নাচ ও বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গিই শুধু। নায়ক-নায়িকার লিপে বা ঠোঁটে গান নড়ে না আর এখন। বলা চলে গোটা ঢাকাই সিনেমাই এখন গানের অভাবে ধুঁকছে।

একসময়ে প্লে-ব্যক সম্রাট এন্ড্রু কিশোর, সুবীর নন্দী, ফেরদৌসী রহমান, শাহনাজ রহমতুল্লাহ, সাবিনা ইয়াসমিন, রুনা লায়লাসহ আরও অনেকের কণ্ঠে এবং তখনকার সব নায়ক-নায়িকাদের লিপে যত প্লে-ব্যাক হয়েছে সেগুলোর জন্যও যে ঢাকাই সিনেমা জনপ্রিয় ও সমৃদ্ধশালী হয়েছে এটা কেউই অস্বীকার করতে পারবেন না।

তাই অনেকে বলেন, শুধু সিনেমার জন্যই নয়, প্লে-ব্যাকের জন্যও তখনকার নায়িকারাও জনপ্রিয় হয়েছেন। যাদের লিপে গান শুনে-শুনেই দর্শক সেইসব নায়িকার ভক্ত হয়ে গেছেন। এর মধ্যে আছেন, শবনম, সুলতানা জামান, সুচন্দা, শাবানা, কবরী, ববিতা, অলিভিয়া, রোজিনা, অঞ্জু ঘোষসহ আরও অনেকে।

এখন সিনেমাতেই প্লে-ব্যাকই থাকে না সেখানে নায়িকার লিপে গান শুনে-শুনে সে নায়িকার ভক্ত হবে কীভাবে? এ দেশে যত প্লে-ব্যাক হয়েছে তার মধ্যে নায়িকার লিপের গানগুলোই বেশি জনপ্রিয় হয়েছে। কারণ একজন পরিচালক নায়িকার লিপে যে গান দেবেন সেটা অনেক ভেবে-চিন্তেই দিতেন। সেজন্যই সাবিনা ইয়াসমিন ১৪ হাজারের মতো প্লে-ব্যাক করতে পেরেছেন। এখন যেসব গায়িকা প্লে-ব্যাক করেন তারা যেন টেনেটুনে একশ/দুশ প্লে-ব্যাক করতে পারেন। এর বেশি ওঠাতেই পারেন না। কাজেই বর্তমান শিল্পীদের মধ্যে কেউ সাবিনা ইয়াসমিনের প্লে-ব্যাক সংখ্যার রেকর্ড ভঙ্গ করতে পারবেন সেটা এখন সুদূর পরাহতই বলেই নিশ্চিত হওয়া যায়। এখনকার নায়িকারা এমন যে ক্যারিয়ারে এত সিনেমা করলেন কিন্তু তার লিপে এমন কোনো গান ওঠেনি যে গানের জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে দর্শকপ্রিয় হয়ে আছেন।

এজন্য এক সময়ের গ্লামার নায়িকা রোজিনা বলেন, ‘এখন যারা অভিনয় করছেন তাদের মধ্যে দু-একজন নায়ক দেখা গেলেও নায়িকা তো একেবারেই নেই। অন্তত আমি দেখি না যারা একজন নায়কের জন্য নায়িকা হিসেবে মানানসই হতে পারেন। তাদের তো আমার কাছে নায়িকা বলেই মনে হয় না।’

একজন নায়িকা প্লে-ব্যাকের মধ্যদিয়ে নিজেকে যতটা আবেদনময়ী ও দর্শকপ্রিয় করে তুলতে পারেন সেটা শুধু অভিনয় দিয়ে খুব বেশি সম্ভব নয় সেটা বর্তমান সিনেমা জনপ্রিয় হতে না পারার মধ্যদিয়েই পরিষ্কার হয়। কিন্তু যারা বলেন, গল্পই সিনেমা বা গল্পই সিনেমার সুপারস্টার তারা গান ছাড়া কিংবা শুধু নেপথ্য গানের রেকর্ড বাজিয়ে বাংলা সিনেমার ভবিষ্যৎ কতদূর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যেতে পারবেন সেটার জন্য সিনেমাপ্রেমীদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com