বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৫:২৯ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ সুদানে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত জাপানে জোট সরকার গড়তে রাজি এলডিপি, ইশিন হামাস যুদ্ধ বিরতির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে অভিযোগ করে গাজায় ইসরায়েলের হামলা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল

দুঃস্বপ্নের সেই নায়কেরা আজ আর নেই

তখন বাংলাদেশ ক্রিকেটে প্রতিষ্ঠিত এক দল। বলার মতো কোনো সাফল্য যদিও ছিল না। তবে প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে লড়াই করাটা জেনে গিয়েছিল। মাঠে নামার আগে বিপক্ষ দলকেও ভাবতে হত কয়েকবার। ঠিক এমন দল নিয়েই ২০১৪ সালে ঘরের মাঠে এশিয়া কাপ খেলতে নামে টাইগাররা। সে বছর টুর্নামেন্টে প্রথমবার খেলতে আসে আফগানিস্তান। অথচ পুঁচকে সেই দলটার কাছেই কিনা বাংলাদেশ হেরে বসেছিল।

এর মাঝে পেরিয়েছেন আরও চারটি এশিয়া কাপ। যার মধ্যে কেবল একটিই ছিল ওয়ানডে ফরম্যাটের। ৯ বছর পর আরও একটি একদিনের সংস্করণের এশিয়া কাপে মুখোমুখি হচ্ছে টাইগার-আফগান। লাহোরের গাদ্দাফি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নামার আগে নিশ্চয়ই সাকিবদের পোড়াবে সেই দুঃসহ স্মৃতি।

এশিয়া কাপের এই আসরের মতো সেবারও চোটের কারণে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন তামিম ইকবাল। সেবারও ফর্মহীনতার কারণে দলে জায়গা হারিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। নিষেধাজ্ঞার কারণে ছিলেন না সাকিব আল হাসানও। অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সেদিন ফতুল্লায় টস জিতে নেমেছিল ফিল্ডিংয়ে।

চোটের কারণে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজাও ছিলেন না। টাইগার দুর্গের সেদিন অভিজ্ঞ বোলার ছিলেন আব্দুর রাজ্জাক ও রুবেল হোসেন। সোহাগ গাজী ততদিনে স্পিন ত্রাস হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু ৩ বল করার পর আর বল করতে পারেননি সেদিন। বাকি বোলাররা আফগান টপ অর্ডারদের ঘায়েল করতে থাকেন শুরু থেকেই। ইনিংসের ২২.২ ওভারে ৯০ রানেই নেই ৫ ব্যাটসম্যান।

তাতে বাংলাদেশি সমর্থকেরা বড় ব্যবধানে জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু দিনের প্রথম সূর্যটা যে সবসময় সারাদিনের পূর্বাভাস দিয়ে যায় না, সেটা সেই ম্যাচে বুঝিয়ে দিয়েছিল আফগানরা। ষষ্ঠ উইকেটে আসগর আফগান ও সামীউল্লাহ শেনওয়ারি গড়েছিলেন ২৪৪ রানের জুটি। যা রান-আউটে ভেঙেছিল শেষ ওভারের পঞ্চম বলে। শেনওয়ারির ব্যাট থেকে এসেছিল ৬৯ বলে ৮১ রান। যা সাজানো ছিল ১০ চার ও ১ ছক্কায়। অন্যদিকে আসগর আফগান করেছিলেন ৯০ রান। তাতে খাঁদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ানো আফগানরা সংগ্রহ করেছিল ২৫৪ রান।

ততদিনে বাংলাদেশে একদিনের ক্রিকেট খেলার প্রায় দেড় যুগ হয়েছিল। অভিজ্ঞ দলের ব্যাটসম্যানরা সেদিন খেলেছিলেন নির্বোধের মতো। যেন খেলাটাই ভুলে গিয়েছিলেন তারা। বিলিয়ে দিয়ে আসছিলেন উইকেট। তিনে নেমে মুমিনুল হক খেলেছিলেন ৫০ রানের ইনিংস। সেটাও ছিল ৭২ বলে ৬ চারের সাহায্যে। এ ছাড়া নাসির হোসেন ৪১ ও নাইম ইসলাম ৩৫ রান করেন। দুজনের স্ট্রাইক রেট ছিল ১০০ এর নিচে।

শেষদিকে কেবল ঝড় তুলেছিলেন জিয়াউর রহমান। ২২ বলে ৪১ রান করে আউট হন। কিন্তু ম্যাচ জেতাতে পারেননি। ৩২ রানের হতাশার হার নিয়ে সেদিন মাঠ ছাড়তে হয়েছিল তাদেরকে। আসগর ৯০ রান করে অবদান রাখলেও ম্যাচসেরার পুরস্কারটা সেদিন উঠেছিল সামীউল্লাহ শেনওয়ারির হাতে। তারা দুজনেই ছিলেন বাংলাদেশের দুঃস্বপ্নের নায়ক।

সেই দুঃস্বপ্নের নায়কেরা আজ আর আফগান দলে নেই। বাংলাদেশেরও খলনায়কদের সিংহভাগ দলের বাইরে। একই সে বাগানে আজ এসেছে নতুন কুঁড়ি। তবে টাইগারদের পাইপলাইন থেকে উঠে আসেনি ভালো কোনো ক্রিকেটার। কিন্তু আফগানিস্তান সেটা পেয়েছে। আর পেয়েছে বলেই ফতুল্লার সেই দুঃস্মৃতি আরও একবার নবীদের কাছ থেকে পাওয়ার শঙ্কায় সাকিব আল হাসানরা।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com