সোমবার, ২২ Jun ২০২৬, ০৬:০৯ অপরাহ্ন
জ্বালানি তেল বিক্রির কমিশন বৃদ্ধির দাবিতে এ খাতের ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের ডাকা চলমান ধর্মঘটের মধ্যে আজ সোমবার রাত সোয়া ৮টার দিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বাংলাদেশ পেট্রলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) কর্মকর্তারা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন।
বৈঠক শেষে আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে জ্বালানি তেল উত্তোলন ও পরিবহন স্বাভাবিক হবে বলে দুপক্ষই আশা প্রকাশ করেছেন। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিপিসির পরিচালক (বিপণন) অনুপম বড়ুয়া এবং ধর্মঘটে যাওয়া তেল ব্যবসায়ীদের সংগঠন পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (একাংশ) মহাসচিব মিজানুর রহমান রতন বিষয়টি দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন।
তেল বিক্রির কমিশন বৃদ্ধি ও জ্বালানি তেল পরিবহনকারী ট্যাংকলরীর অর্থনৈতিক জীবনকাল ৫০ বছর করা এবং জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীদের কমিশন এজেন্ট হিসেবে গেজেট প্রকাশ করার দাবিতে আজ রবিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য জ্বালানি তেল উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধের ডাক দিয়েছেন জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা।
ধর্মঘটে যাওয়া সংগঠনগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ ট্যাংকলরী ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতি, খুলনা বিভাগীয় ট্যাংলরী শ্রমিক ইউনিয়ন এবং পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ট্যাংকলরী শ্রমিক কল্যাণ সমিতি।
ধর্মঘটের খবর শুনে গতকাল রাত থেকেই বিভিন্ন পাম্পে তেল নেওয়ার জন্য গাড়ির দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে। আজ সকালে অনেকেই বিভিন্ন পাম্পে গিয়ে তেল না পেয়ে চরম ভোগন্তির শিকার হয়েছেন।
তবে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্র জানায়, তাদের তিনটি দাবির মধ্যে কমিশন এজেন্ট ঘোষণার বিষয়টি চুড়ান্ত করে ইতোমধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। ট্যাংকলরীর অর্থনৈতিক জীবনকাল ৫০ বছর করার ব্যাপারে ইতোমধ্যে বিআরটিএ কে চিঠি দেয়া হয়েছে। আর কমিশন বৃদ্ধির জন্য চলতি মাস পর্যন্ত সময় নেয়া হয়েছে। ২৯ আগস্ট বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ব্যবসায়ীরা এক মাস সময় দেয়ার বিষয়টি মেনেও নিয়েছিল। এরপরও ধর্মঘট করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তিতে ফেলা অন্যায় ও দুঃখজনক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে, পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (একাংশ) মহাসচিব মিজানুর রহমান রতন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তিনটির মধ্যে একটি দাবি পূরণ হয়েছে। অপরটি পূরণ হওয়ার পথে। এখন আমাদের একটা দাবি সেটা হলো- তেল বিক্রির কমিশন বৃদ্ধি। আমরাও সাধারণ মানুষকে হয়রানি করতে চাই না। এজন্যই পাম্পে তেল বিক্রি বন্ধ না করে উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধ রেখেছি। সাধারণ প্রতিটি পাম্পে ১ থেকে ২ দিনের তেল মজুদ থাকে। এই সময়ের মধ্যে আমাদের দাবি মেনে নিলে আমরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করব।’
এদিকে চলমান ধর্মঘটকে অযৌক্তিক আখ্যায়িত করে আজ দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের যমুনা ওয়েল এর লিয়াজো অফিসে সংবাদ সম্মেলন করে পেট্রলপাম্প মালিকদের অপর অংশের সংগঠন-পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।
সেখানে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, বিভিন্ন দাবীতে যারা জ্বালানি তেল বিক্রি ও পরিবহনে র্ধমঘট ডেকেছে তারা অসৎ উদ্দেশ্যে এ র্ধমঘট পালন করছেন। যেহেতু সরকার ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দাবি মানার আশ্বাস দিয়েছে তাই এখন আন্দোলন করার যুক্তি নেই। নিজেরা ব্যবসায়ীক ফায়দা লুটতে এমন ধর্মঘট ডেকেছেন। যারা ধর্মঘট ডেকে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করেছেন তাদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার দাবী জানান তিনি।
এদিকে ধর্মঘটের কারণে ডিপো থেকে তেল না পাওয়ার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিপিসির পরিচালক অনুপম বড়ুয়া বলেন, পরিস্থিতি দেখা হচ্ছে। জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাল থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দাবি কিছু মানা হয়েছে, বাকিটা প্রক্রিয়াধীন। এর মধ্যে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া অযৌক্তিক।