সোমবার, ২২ Jun ২০২৬, ০২:০৬ অপরাহ্ন
ঢাকাই সিনেমায় এখন প্রচণ্ডভাবে প্রজন্মগত শূন্যতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যাকে ‘জেনারেশন গ্যাপ’ বলা যায়। ষাট দশক থেকে শুরু হওয়া দেশের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে এমন দূরত্ব আর কখনোই দেখা যায়নি। এই অভিযোগ এখন খোদ সিনিয়র শিল্পীদের পক্ষ থেকেই উঠছে! ঢাকাই সিনেমায় এখন কেন আর দেশের ডাক সাইটে অভিনয় শিল্পীরা অভিনয় করছেন না এর উত্তরেই যায়যায়দিনে দেওয়া বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে অভিনয় শিল্পীরা জানিয়েছেন। দেশের চলচ্চিত্র আসলে এখন কোন দিকে যাচ্ছে তা নিয়েও এই শিল্পীরা বুঝে উঠতে পারছেন না। যদিও তাদের নতুন প্রজন্মের নির্মাতাদের সিনেমা নির্মাণের মান নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই। বরং তারা সবাই নতুন প্রজন্মের নির্মাতাদের কাজে খুবই সন্তুষ্ট। তবে তারা যে ধরনের গল্প নিয়ে সিনেমা বানাচ্ছেন তা নিয়ে সিনিয়র শিল্পীদের চোখে মারাত্মক জেনারেশন গ্যাপ স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে যায়যায়দিনকে জানিয়েছেন অনেকেই।
এই ‘প্রজন্মগত শূন্যতা’ দেখেই সিনিয়র শিল্পীরা একে একে ঢাকাই ইন্ডাস্ট্রিকে ‘গুড বাই’ জানিয়েছেন বা জানাচ্ছেন। ফলে তারা আদৌ আর ঢাকাই ইন্ডাস্ট্রিতে ফিরবেন কিনা তাও নিশ্চিত নয়। এ প্রসঙ্গে একসময়ের ঢাকাই সিনেমার অন্যতম শীর্ষ অভিনেত্রী ফরিদা আক্তার ববিতা জানিয়েছেন, তিনি তখনই ঢাকাই সিনেমায় ফিরবেন যখন চরিত্রটি একান্তভাবে তার জন্যই তৈরি হবে। যেখানে তিনিই কেন্দ্রীয় চরিত্র বা অন্যতম প্রধান চরিত্র হিসেবে কাজ করতে পারবেন। এ নিয়ে তার পরিষ্কার বক্তব্য হচ্ছে- ‘আমি যদি বুঝতে পারি এখনকার সিনেমায় দেওয়ার মতো কিছুই নেই আমার, তখন দূরে থাকাই ভালো। তারাও কিছু বানাতে পারলেন না আমিও কিছু করতে পারলাম নাÑ এমন সিনেমায় আমার এতকালের অর্জন তো মাটি করে দিতে পারি না। এখন শুধু নামকা ওয়াস্তে থাকলাম, কিন্তু কিছুই পেলাম নাÑ সেরকম গল্পও না, সেরকম চরিত্রও নাÑ তা করে নিজের সুনাম তো বিনষ্ট করতে পারি না। তবে সেরকম চরিত্র হলে অবশ্যই করব।’
চরিত্র পছন্দের দিক থেকে এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি স্পর্শকাতর হতে দেখা যাচ্ছে একসময়ের আলোচিত নায়িকা বা অভিনেত্রীদেরই বেশি। একই বক্তব্য ববিতার ছোট বোন আরেক স্বনামধন্য অভিনেত্রী গুলশান আরা চম্পারও। তিনিও বলেন, ‘সিনিয়র আর্টিস্টদের নিয়ে সেরকম গল্পই তো তৈরি হচ্ছে না। একদমই তৈরি হয় না। সিনিয়র আর্টিস্টদের নিয়ে চরিত্র হলেও সেটা গুরুত্ববিহীন চরিত্র তৈরি হয়। এমন চরিত্রে কেন সিনিয়র আর্টিস্টরা কাজ করবেন? কেন সিনিয়র আর্টিস্টরা সেরকম কাজ করবেন? সিনিয়র আর্টিস্টদের তখনই ফিরে পাবেন যখন তাদের প্রাধান্য দিয়ে চরিত্র তৈরি করা হবে। এ কারণেই সিনিয়র আর্টিস্টরা এখনকার সিনেমায় অভিনয় করতে চান না। ভালো কাজ ছাড়া করবেও না। অথচ আগের আর্টিস্টদের ক্ষেত্রে দেখেন, তখন কিন্তু ভারি ভারি ক্যারেক্টার তৈরি হতো। তো এখন সেই গল্প লেখার লোক কোথায়, সেই প্রোডিউসারই বা কোথায়। অথচ দেখেন আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশের সিনেমায় কিন্তু সিনিয়র আর্টিস্টদের গুরুত্ব দিয়ে তাদের মতো করে চরিত্র তৈরি করছে। কাজেই সিনিয়রদের আপনি তখনই ফিরে পাবেন যখন তারা তাদের যোগ্যতা মতো ভার-ভারিক্কি মতো চরিত্র পাবেন।’ এই বক্তব্য দিতে গিয়ে গুলশান আরা চম্পা খুবই আবেগপ্রবণও হয়ে পড়েন।
তিনি অবশ্য এটাও স্বীকার করে বলেন, ‘এখন নিউ জেনারেশন বেশ ভালো ভালো সিনেমা তৈরি করলেও তাতে একটা মারাত্মক জেনারেশন গ্যাপ তৈরি হয়ে গেছে। যারা অভিনয়ে অভিজ্ঞতায় পরিপুষ্ট তাদের সঙ্গে একটা বড় গ্যাপ রয়ে গেছে। এই গ্যাপটা যদি ঘুচে যায় তাহলে আরও অনেক ভালো ভালো সিনেমা হবে বলে আশা করা যায়। আগে যেসব সিনেমা হয়েছে সেখানেও কিন্তু পুরনো ও নতুনদের নিয়েই সিনেমা হয়েছে। কাজেই এক্ষেত্রে সিনিয়রদের নিতে নিউ জেনারেশনকেও যেমন এগিয়ে আসতে হবে তেমন সিনিয়রদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা তো এটাই আশা করতে পারি।’