সোমবার, ২২ Jun ২০২৬, ০২:০৬ অপরাহ্ন
বাংলা রোমান্টিক গানের ভুবনে বাপ্পা মজুমদার নামেই অধিক পরিচিত। পেশাদার সঙ্গীতে তিন দশক পেরিয়ে এসেছেন ‘দলছুট’ ব্যান্ডদলের বর্তমান এই দলনেতা। তিন দশকের ক্যারিয়ারে কখনো তিনি সস্তা জনপ্রিয়তার মোহে গা ভাসাননি। যিনি সর্বদা চলেছেন নিজের বানানো পথে।
চলমান ব্যস্ততা কেমন? সারা বছরই তো বিভিন্ন ধরনের গানের প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করি। এরই মধ্যে শিশুদের জন্য গান নিয়ে কাজ করেছি। দুটি গানও হয়ে গেছে। সেগুলো লিখেছেন শেখ রানা। গানগুলোর সঙ্গে মনোরম লোকেশনে চিত্রায়িত ভিডিও রয়েছে। কারণ ভেবে দেখলাম এখন তো শিশুরা মোবাইল কিংবা ইউটিউবে গান শোনে। অথচ শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত বাংলা গান নেই। আমি এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিশুদের জন্য সেই শূন্য স্থান পূরণের চেষ্টা করছি।
গান এখন ভিডিওনির্ভর হয়ে গেছে। এ নিয়ে আপনার মত কী?
আপনার কথাটি অনেকাংশেই সত্য। কারণ গান এখন আর সেই আগের শোনার জায়গাতে নেই। দেখার বিষয় হয়ে গেছে। সে কারণে এখন সবাই গান করার সঙ্গে সঙ্গে ভিডিও বিষয়টা চিন্তা করে। মানুষের অভিরুচি পাল্টেছে, মানুষের ধরনটা পাল্টেছে। গান এখন অনেক বেশি ভিডিওনির্ভর হয়ে যাচ্ছে। আমার কাছে মনে হয় তবে ভিডিওর আগে গানটার প্রাধান্য অনেক বেশি পাওয়া উচিত। গানটা যদি ভালো হয়, গানটা যদি সঠিক প্রচার হয়, তাহলে সেই গান শ্রোতারা নিশ্চয়ই পছন্দ করবে।
বাংলা গানে কীরকম নতুনত্ব আছে বলে মনে করেন?
নতুনত্ব তো আছেই। যেমন সাউন্ড সিস্টেমে অনেক পরিবর্তন এসেছে, গানের যে নানা টেকনিক্যাল বিষয় আছে তাতেও নতুনত্ব আছে, টেকনিক্যাল এসব যন্ত্রপাতির প্রভাবে ফোক ভিডিওতেও মেজর একটা নতুনত্ব এসেছে। এর মধ্য দিয়ে নতুন এক ধরনের ভালো লাগাও তৈরি হচ্ছে। সব গানেই একটা নতুনত্ব তো আসছেই।
এখন ১০/১২টি গানের অ্যালবাম হচ্ছে না- এতে শিল্পীর সমগ্রতা বোঝা যায়? আসলে এখনকার শ্রোতাদের গান শোনার ধরনটা পাল্টে গেছে। কেউ পুরো অ্যালবাম কিনতে চায় না। কেন চায় না জানি না। আমরা যারা গান করি তাদের জন্য এটা খুব দুঃখজনক। এক দিক থেকে বলব যে, অ্যালবামে অল্প গান করার একটা সুবিধা আছে। অল্পসংখ্যক গান হলে প্রায় সবগুলো গানই ফোকাস পায়। একটা অ্যালবামে যখন অনেক গানের সংখ্যা ছিল তখন গান শোনার ধরন ছিল একরকম। এখন গান শোনার ধরনটা পাল্টেছে। তাই খুব বেশি গানে তারা ফোকাস করতে পারছে না। আমার কাছে মনে হয় যে, অল্পসংখ্যক গান হলে গানগুলোর প্রতি শ্রোতারা হয়তো একটু বেশি মনোযোগ দিতে পারত।
চলচ্চিত্রের গানও তো কম আলোচনায় আসছে। চলচ্চিত্রই তো হচ্ছে কম। যে ফিল্ম হচ্ছে সেটাও তো দেখানোর প্রপার জায়গা নেই। বড় কোনো জায়গায় এটা দেখানো না হলে জনপ্রিয়তা পাবে কীভাবে। সেক্ষেত্রে চলচ্চিত্র বানানোর চেয়ে চলচ্চিত্র দেখানোর জায়গাগুলো নিয়েই ভাবা দরকার। এখনকার প্লে-ব্যাক আলোচিত হচ্ছে কিনা সেদিকে আমি যাব না। তবে আগে একটা গান তৈরিতে গীতিকার, সুরকার, শিল্পী সকলে মিলে একসঙ্গে কাজ করত, কাজটা এখনো সেভাবে করলেই ভালো হয়। একা একা বিচ্ছিন্নভাবে করলে সেটা ভালো হবে না।
গানচিত্র আসায় গানের কপিরাইট কি অনেক সহজ হয়েছে? এটা ঠিক, আগে শিল্পীরা নিজেদের কপিরাইট, রয়্যালিটি এসব নিয়ে তেমন সচেতন ছিলেন না। এখন গানের রয়্যালিটি, কপিরাইট নিয়ে শিল্পীরা আগের চেয়ে অনেক সচেতন হয়েছে। এই সচেতনতার জন্য অবশ্য কোভিড যেন শাপে বর হয়ে এসেছে। এখন গীতিকার, সুরকার, শিল্পীÑ সবাই কপিরাইট নিয়ে অনেক সচেতন। এ নিয়ে সচেতনতামূলক সেমিনারও হয়েছে এবং হচ্ছেও। আমি এটাকে খুব ইতিবাচক দিক বলে মনে করি।
এর মধ্যে নতুন কোনো প্লে-ব্যাক করলেন?
প্লে-ব্যাক খুবই কম করছি। এর মধ্যে একটা শর্টফিল্ম ‘যুদ্ধ জয়ের কিশোর নায়ক’। মুক্তিযুদ্ধের ওপর এটা। এছাড়া মিঠু খানের ‘নীল চক্র’ নামে একটি সিনেমার জন্য মাশা ইসলামের সঙ্গে প্রথমবারের মতো নতুন একটি প্লে-ব্যাক করতে যাচ্ছি। সম্প্রতি বনানীর স্টুডিওতে গানটির রিহার্সাল হয়েছে। গানটির কথা লিখেছেন ওয়াহিদ বাবু, সুর ও সঙ্গীতে ইমন সাহা।