মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ সুদানে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত জাপানে জোট সরকার গড়তে রাজি এলডিপি, ইশিন হামাস যুদ্ধ বিরতির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে অভিযোগ করে গাজায় ইসরায়েলের হামলা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল

ঈশ্বরগঞ্জের পুকুরে ভয়ংকর ‘সাকার ফিশ’

সপ্তাহ তিনেক আগে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে গত ৫০ বছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড পরিমাণ টানা বৃষ্টিতে উপজেলায় মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তলিয়ে গিয়েছিল অনেক মৎস্যচাষির পুকুর ও কৃষকের ফসলি জমি।

ইতিমধ্যে কমেছে পুকুরের পানি। তাই মাছচাষিরা তাদের পুকুরে মাছের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ শনাক্তে পুকুরে মাছ ধরা শুরু করেছেন। এতে গত শনিবার থেকে আজ সোমবার পর্যন্ত উপজেলার বড়হিত ইউনিয়নের বিভিন্ন পুকুরে ধরা পড়ছে ক্ষতিকর সাকার মাছ।

বড়হিত ইউনিয়নের পোড়াহাতা গ্রামের ফজলুল করিম খানের ছেলে মৎস্যচাষি মো. এহছানুল হক খানের একটি পুকুরে বেড় জালে ভয়ংকর ‘সাকার ফিশ’ পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অ্যাকুরিয়ামে চাষযোগ্য বিদেশি প্রজাতির এই ক্ষতিকর মাছটি প্রায়ই দেশের বিভিন্ন নদ-নদী, হাওর ও জলাশয়ে দেখা গেছে।

এর আগে, একই গ্রামের মৎস্যচাষি আব্দুল খালেকসহ কয়েকজন চাষির পুকরের পানি নিষ্কাশন করতে গিয়ে ক্ষতিকর এই সাকার মাছ ধরা পড়েছিল। এছাড়াও এলাকার একাধিক পুকুরে দেশীয় মাছের সঙ্গে দেখা মিলেছে ভিন্ন প্রজাতির কিছু মাছের। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে ভেবেছিল এগুলো ‘রকেট মাছ’।

পরে মাছটি সম্পর্কে উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ে যোগাযোগ করে জানা গেছে, মাছটির নাম ‘কমন প্লেকো’ বা সাকার ফিশ। এই প্রজাতি দেশীয় মাছের জন্য হুমকিস্বরূপ। উপজেলা মৎস্য অফিস জানায়, এই মাছের পাখনা খুবই ধারাল। পাখনার আঘাতে সহজেই অন্য মাছের দেহে ক্ষত তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে পচন ধরে সেগুলো মারা যায়। এই প্রজাতি বিস্তার লাভ করলে দেশীয় প্রজাতির মাছ হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন মৎস্য গবেষকেরা।

পোড়াহাতা গ্রামের মৎস্যচাষি মো. এহছানুল হক খান বলেন, ‘আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম এটি দেশীয় জাতের বিলুপ্ত প্রজাতির কোনো সুস্বাদু মাছ। ভেবেছিলাম খেতেও খুব ভালো হবে। পরে মাছের একটি ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করে জানতে পারলাম এটি বিদেশি জাতের একটি ভয়ংকর ক্ষতিকর মাছ। এগুলো দেখতে খুব সুন্দর।’

আরেক মৎস্যচাষি মো. আব্দুল খালেক বলেন, ‘মাছগুলোর শরীরের অংশ ঢোঁড়া সাপের মতো। দেখতেও ভয়ংকর লাগে। এই প্রজাতির মাছ পুকুরে আগে কখনো দেখিনি।’

এ বিষয়ে জ্যেষ্ঠ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এ এস এম সানোয়ার রাসেল বলেন, এ প্রজাতির মাছ মূলত অ্যাকুরিয়ামের জন্য দেশে আনা হয়েছিল। কোনোভাবে এটি উন্মুক্ত জলাশয়সহ বিভিন্ন পুকুরে ছড়িয়ে গেছে। এগুলো জলজ খাদ্যশৃঙ্খলে ভাগ বসায়। ফলে এটি দেশীয় প্রজাতির মাছের জন্য ক্ষতিকর।

তিনি আরও জানান, এই প্রজাতির মাছ পুকুরের অ্যাকুয়াটিক ভেজিটেশন হ্রাস করে। এ ছাড়া পাড়ে ছিদ্র তৈরি করে পুকুরের ক্ষতি সাধন করতে পারে। বাংলাদেশে সরকারিভাবে এই মাছটি মৎস্য সংরক্ষণ আইন ১৯৫০ অনুযায়ী নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তাই প্রজাতির মাছ পেলে মাছগুলোকে ধ্বংস করার আহ্বান জানান এই মৎস্য কর্মকর্তা।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com