রবিবার, ১৪ Jun ২০২৬, ০৬:৪৭ অপরাহ্ন
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ১২টি দেশ থেকে এখন পর্যন্ত ৪৪ পর্যবেক্ষক আসার তথ্য দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তাদের মধ্যে আফ্রিকার দেশ উগান্ডা থেকে সর্বোচ্চ ১১ জন আসার কথা জানানো হয়েছে। এছাড়া বিদেশী সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চসংখ্যক সাংবাদিক আসবেন বার্তা সংস্থা এএফপি থেকে। এদিকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশে আসার আবেদনের সময় আগামী ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ইসি সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখা থেকে গতকাল এ তথ্য জানানো হয়।
ইসি সচিবালয় জানায়, বাংলাদেশের ভোট পর্যবেক্ষণে আসার জন্য এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, আয়ারল্যান্ড, স্লোভাকিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জাপান, ভারত ও সুইডেন থেকে একজন করে পর্যবেক্ষক আবেদন করেছেন। তবে সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ১১ জন আসতে চান উগান্ডা থেকে। সাউথ এশিয়ান ফোরামের চার, জার্মানি থেকে দুই ও ব্রিটিশ হাইকমিশন থেকে একজন ইসিতে আবেদন করেছেন। এছাড়া সংবাদ সংস্থা এএফপি থেকে ১২ জন ও নিউদিল্লি টেলিভিশন থেকে দুই সাংবাদিক আসবেন বলে নিশ্চিত করেছেন। সব মিলিয়ে ৪৪ পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক আসার আগ্রহ জানিয়েছেন ইসিকে।
ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, ‘বিদেশী পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো সময় বাড়ানোর আবেদন করেছিল। তাদের আবেদনের সুপারিশ কমিশনে উপস্থাপন করা হয়েছিল, যা অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে বিদেশী পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের জন্য আবেদনের সময় বাড়ানো হয়েছে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তাছাড়া এখন পর্যন্ত ১২টি দেশের বিভিন্ন সংস্থা ও পর্যবেক্ষকের আবেদন পেয়েছি। সংস্থা হিসেবে চারটা সংস্থার আবেদন পেয়েছি। তারা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসার সম্মতি জানিয়েছে।’
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ব্যক্তিগত ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আগ্রহী বিদেশী পর্যবেক্ষকদের আবেদন চেয়েছে ইসি। ২১ নভেম্বরের মধ্যে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও সংবাদমাধ্যমের জন্য আবেদন করার সময় দেয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী গতকাল শেষ দিনে এসে ৪৪ বিদেশী পর্যবেক্ষক বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসার আগ্রহ দেখিয়েছেন। ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানোয় আরো অনেকেই আবেদন করবেন বলে আশা করছে ইসি।
এদিকে মানবাধিকারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র, ইইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমা দেশগুলো বাংলাদেশের নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে। এরই মধ্যে নিজেদের বাজেটস্বল্পতা দেখিয়ে একটি ছোট পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তাছাড়া গত মাসে বাংলাদেশ সফর করে মার্কিন একটি প্রাক-নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল। ফিরে গিয়ে তারা একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনে অর্থবহ সংলাপ ও রাজনৈতিক সহিংসতার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনাসহ বেশকিছু সুপারিশ করেছেন।