রবিবার, ১৪ Jun ২০২৬, ০৩:৪৯ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ সুদানে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত জাপানে জোট সরকার গড়তে রাজি এলডিপি, ইশিন হামাস যুদ্ধ বিরতির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে অভিযোগ করে গাজায় ইসরায়েলের হামলা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল

অর্ধেক মিয়ানমার বিদ্রোহীদের দখলে

মিয়ানমারের প্রায় অর্ধেক এলাকা দখলে নিয়েছেন বিদ্রোহীরা। এ কারণে প্রায় কোণঠাসা হয়ে পড়েছে সেনাবাহিনী। বড় শহরগুলো রক্ষার চেষ্টা করছে জান্তা সরকার। এজন্য নির্দিষ্ট দূরত্ব পরপর বসানো হয়েছে সেনা চৌকি।

মিয়ানমারের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে। জান্তারা স্থানীয় বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেনা ছাউনি হিসেবে ব্যবহার করছে। এ কারণে অভিভাবকরা শিশুদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন।

এরই মধ্যে ইয়াঙ্গুনে লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন বিদ্রোহীরা। সেনাদের অবস্থানের জায়গায় জনসাধারণকে না যাওয়ার অনুরোধ করেছেন তারা।

কয়েকদিন ধরে ইয়াঙ্গুনে অনেকে নিখোঁজ হয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, তরুণ ও প্রাপ্ত বয়স্করা জান্তাকে সহায়তা করতে অনিচ্ছুক। তাই তারা পালিয়ে রয়েছে।

এদিকে সম্প্রতি জাতিসংঘ এক বিবৃতিতে জানায়, জান্তা সরকারের সঙ্গে দেশটির জাতিগত বিদ্রোহীদের চলমান সংঘাতের ঘটনায় নতুন করে ২ লাখ ৮৬ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ২০২১ সালের পর দেশটিতে এটিই সবচেয়ে বড় বাস্তুচ্যুতির ঘটনা। খবর রয়টার্স ও আল জাজিরা।

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের ডেপুটি মুখপাত্র ফারহান হক বলেন, ‘‌মিয়ানমারে জাতিগত বিদ্রোহীদের সশস্ত্র সংগঠন ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। এ সংঘর্ষ ঘনবসতিপূর্ণ শহরসহ বেশকিছু এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শান, সাগাইং, কায়াহ, রাখাইন ও দক্ষিণ চিন রাজ্য।’

এর আগে চীনা সীমান্তের কাছে অবস্থিত শান রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সমন্বিত হামলা চালায় জাতিগত তিনটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। জোটটির অন্যতম অংশীদার আরাকান আর্মির বিদ্রোহীরা গত সপ্তাহে পশ্চিম রাখাইন অঞ্চলে আক্রমণ আরো জোরদার করে। আক্রমণ শুরুর পর কয়েকটি ছোট শহর ও সেনাচৌকি দখলে নেয়। বিদ্রোহীরা এ অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন ১০২৭’। মিয়ানমারের ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি (এমএনডিএএ), তায়াং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) ও আরাকান আর্মি (এএ) নিয়ে গঠিত জোটের নাম ‘থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স’।

বিদ্রোহীদের দমনে মিত্র দেশ চীনের সহায়তা চেয়েছে জান্তা সরকার। এর পরই মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্তে ‘মহড়া’ শুরু করার কথা জানায় চীন। প্রতিবেশী দেশটিতে পণ্যবাহী ট্রাকের একটি কনভয়ে আগুন দেয়ার একদিন পর এ ঘোষণা দেয় বেইজিং।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় মিডিয়া সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় ওই হামলার জন্য বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে। এর আগে সীমান্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে চীন। সীমান্তে স্থিতিশীলতার বিষয়ে আলোচনার জন্য মিয়ানমারের রাজধানীতে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখাও করেন চীনের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা।

এদিকে ইন্দোনেশিয়ার সরকারি সূত্র জানায়, মিয়ানমারে চলমান সংঘাত নিরসনে একটি ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এতে দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠী, গণতন্ত্রপন্থী গোষ্ঠী ও ছায়া সরকারের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। যদিও জান্তা সরকারের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। জাকার্তায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দুদিনের বৈঠকে শিগগিরই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপের বিষয়ে ‘ইতিবাচক ইঙ্গিত’ দিয়েছেন বলে জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

প্রসঙ্গত, মিয়ানমারে বিদ্রোহীদের আক্রমণ কয়েক দশক ধরে চলমান। ২০২১ সালে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতন্ত্রপন্থীদের ক্ষমতাচ্যুত করার পর তা নতুন মোড় নিয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com