রবিবার, ১৪ Jun ২০২৬, ১২:৫৮ অপরাহ্ন
নিজের বিয়ে নিজে করবেন তো তাতে আবার এত রাখঢাক থাকবে কেন? বিয়ে তো করেছেনই আবার একদম চুপিসারেই কাজটি সেরে নিলেন! বলা হচ্ছে সঙ্গীতাঙ্গনের নতুন ক্রেজ সানিয়া সুলতানা লিজার কথা। আসলে এ ছাড়া তো করারও কিছু নেই। এমনিতেই শোবিজের চালচিত্র যেরকম অনিশ্চয়তাময় সেখানে থেকে যদি কখনো পান থেকে চুন খসলেই এমন এক সুপাত্রের সঙ্গে সম্পর্কটিই ভেঙে যায়! শোবিজে সেই শঙ্কাও তো থাকে। সেজন্যই বোধ হয় লিজা নিজের বিয়েটাতে কোনো লোক সমাগম, জাঁকজমক আর বাদ্যবাদ্যির অপেক্ষা না করে একেবারে চুপে চুপে তার নতুন জীবনের অধ্যায়ে প্রবেশ করলেন।
তবে গত এক বছর থেকে লিজার বিয়ের গুঞ্জন বাতাসে ভাসছিল। অবশেষে গত রোববার (১৯ নভেম্বর) লিজা নিজেই নতুন জীবনের সব রাখঢাক খুলে দিয়ে জানিয়েছেন তিনি বিয়ে করেছেন। তার বরের নাম সবুজ খন্দকার। তিনি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী।
সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে তো নতুন প্রজন্মের কাছে ভালো চাহিদাসম্পন্ন ছিলেন। তার ওপর এই সুবাদে গানের একটি রিয়েলিটি শোর বিচারকাজও চালিয়ে নিচ্ছেন ‘ক্লোজআপ ওয়ান’ তারকা সানিয়া সুলতানা লিজা। সম্প্রতি যখন খবর ছড়িয়ে পড়ে বছরখানেক আগেই চুপিসারে বিয়ে করেছেন তিনি এবং তার আনুষ্ঠানিকতা যে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী সবুজ খন্দকারের সঙ্গে সেরেছেন লিজা নিজেই স্বীকার করেছেন।
তার আগ পর্যন্ত লিজা বিয়ের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না বললেও তার সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সবুজকে দেখা যাচ্ছিল। এমনকি লিজার হোয়াটসঅ্যাপের প্রোফাইল ছবিটিও সবুজ খন্দকারের সঙ্গে দেখা যাচ্ছিল। ফেসবুকেও লিজা আর তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পোস্ট করা স্থিরচিত্রে সবুজ খন্দকারকে দেখা গেছে। তখন কী করে আর কতদিন চুপ থাকতে পারেন লিজা!
২০০৮ সালে ‘ক্লোজআপ ওয়ান তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হন লিজা। এরপর থেকে তার কেবলই সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরের বছরেই তালিকাভুক্ত হন বাংলাদেশ টেলিভিশনে। এত দ্রুত টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত হওয়াও খুব কম শিল্পীর ভাগ্যেই ঘটেছে। সেই থেকে তার চৌদ্দ বছরের ক্যারিয়ারে লিজা এমন কিছু গানে কণ্ঠ দিয়েছেন যেগুলো দারুণ শ্রোতাপ্রিয় হয়েছে। ‘পাগলী সুরাইয়া’, ‘ভুল করে যদি কখনো’, ‘যাবি কত দূরে’, ‘পাখি’, ‘এই তো ভালোবাসা’সহ আরও বেশ কিছু গান।
এ দেশে যখন থেকে সঙ্গীত বিষয়ক রিয়েলিটি শো’য়ের প্রচলন হয় সেই নোলক বাবু থেকে শুরু করে অনেক কণ্ঠশিল্পীই চ্যাম্পিয়ন বা রানারআপ হয়েছেন। অনেকে এখনো আপন স্বকীয়তায় উজ্জ্বল থাকলেও অনেকে চিরকালের জন্যই ঝরে গেছেন। লিজা দিনেদিনে বরং আরো বেশি উজ্জ্বল হয়ে উঠছেন। তরুণ প্রজন্মের কণ্ঠশিল্পীদের মধ্যে শীর্ষ চাহিদাসম্পন্ন দামি শিল্পী হয়ে উঠেছেন। কিন্তু এমন একজন শিল্পী আর কত দিন একাকী থাকতে পারেন? এই একাকী জীবন থেকে বেরিয়ে আসতেও লিজাও হয়তো মনে মনে চাইছিলেন এমন দামি পাত্রÑ যার সঙ্গে তার জীবনের নতুন অধ্যায়টি শুরু হবে চুপেচাপেই একান্ত ব্যক্তিগতভাবে। নিজের বিয়ে সম্পর্কে যখন তাকে কথা বলতে হয়েছে তখনই বিষয়টিকে তিনি প্রকাশ করেছেন অত্যন্ত রাখঢাকের সঙ্গেই। ২০২২ সালে নিজের প্রেম ও বিয়ের প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমে লিজা বলেছিলেন, ‘সব মানুষই জীবনে কারও না কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়ায়। আমি নতুন সম্পর্কে জড়িয়েছি। এটুকু বলতে পারি, আমাদের বিয়ের সবকিছু রেডি। এ বছরই বিয়ে করব। করোনার প্রাদুর্ভাব কমলে বিয়ের ঘোষণা দিতে পারব। শুধু বলি, সে গানের বাইরের জগতের মানুষ। তবে পরিচয় গানের সূত্রেই।’ অবশেষে প্রকাশ হলো তিনি শুধু গানের বাইরের জগতেরই না দেশের বাইরেরও। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ব্যবসায়ী পাত্রকেই তার নিজের জীবনের নতুন অধ্যায়ের জন্য বেছে নিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে স্টেজ শো করতে গিয়ে ব্যবসায়ী সবুজ খন্দকারের সঙ্গে পরিচয় হয় লিজার। তাদের দুজনকে যুক্তরাষ্ট্রে একসঙ্গে ঘুরতেও দেখা গেছে। বছরখানেক ধরে বাংলাদেশেও সবুজকে নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে হাজির হন লিজা। অর্থাৎ বছরখানেক আগেই তাদের বিয়েটা সম্পন্ন হয়ে গেছে। দুই পরিবারের সম্মতিতেই বিয়ে করেছেন। বিনোদন অঙ্গনে লিজার ঘনিষ্ঠজনরা লিজা ও সবুজের বিয়ের বিষয়টি অবগত। তবে লিজা যেহেতু আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলতে চাননি, তাই তারাও এ নিয়ে এতদিন মুখ খুলতে চাননি।
সানিয়ার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন দেশের নামিদামি সঙ্গীত তারকারাও। কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী ফেরদৌসী রহমান তাকে নিয়ে খুবই আশাবাদী। রুনা লায়লাও তার গানের প্রশংসা করেন। সানিয়ার অন্যতম গুণ হচ্ছে যেভাবে তিনি শ্রোতাপ্রিয় হয়ে উঠছেন এ নিয়ে অন্যদের মতো আত্মশ্লাঘায় না ভোগা। অনেকে আছেন বড় শিল্পীদের প্রশংসা পেলে তার মধ্যে ‘মুই কী হনু রে’ এমন ভাবও এসে যায়। এমন নজির যথেষ্ঠ রয়েছে। লিজা সেরকম নন। বরং সিনিয়রদের প্রশংসায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেকে সামনে নিয়ে যেতে আরও বেশি নিবেদিত প্রাণ হয়ে ওঠেন।
সঙ্গীতে লিজার যাত্রা শুরু হয় নতুন কুঁড়ি (২০০৪)-এ অংশগ্রহণের মাধ্যমে। সর্বশেষ, গত বছর ২০২২ সালের ২ মার্চ থেকে তিনি বাংলাদেশ বেতারেও গান করে আসছেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হওয়া স্টেজ শোগুলোর অন্যতম আকর্ষণ এখন লিজা। স্টেজ শোতে গান গাওয়ায় তার অবস্থানের ক্ষিপ্র পরিবর্তনও লক্ষ্য করার মতো। এই গুণ তার শৈশব থেকেই পাওয়া। কারণ লিজা ভালো ব্যাটমিন্টন খেলতেন। ২০০৩ সালে জাতীয় পর্যায়ে মেয়েদের ব্যাটমিন্টন প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় হন লিজা। স্কুল জীবনে ষষ্ঠ থেকে একেবারে দশম শ্রেণী পর্যন্ত শীতকালীন খেলাধুলা প্রতিযোগিতায় একটানা পাঁচ বার ময়মনসিংহ জেলার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন। ব্যাটমিন্টন খেলায় যেমন দ্রুত শারীরিক অবস্থান পরিবর্তন করতে হয় এটা যেন তার জন্য স্টেজ শোতে দারুণ কাজে দিল। যে কারণে আয়োজকদের কাছে লিজার প্রতি আকর্ষণও দুর্নিবার। দু’একটি মৌসুম ব্যতীত বছর জুড়েই স্টেজ শোতে ব্যস্ত থাকতে হয় তাকে। দেশের বাইরেও তার প্রতি দারুণ আগ্রহ রয়েছে। আর সেই সুবাদেই তো যুক্তরাষ্ট্রে স্টেজ শোতে পারফর্ম করতে গিয়ে ভিড়ে গেলেন ‘পাগলী সুরাইয়া’ গানের শিল্পী তার জীবনের আরেক অধ্যায়ে। এমন ঘটনা বাংলাদেশের আর কোনো সঙ্গীত শিল্পীর জীবনে ঘটেছে?