শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ০৩:৪৮ অপরাহ্ন
বন্দরনগরী চট্টগ্রাম ও রাজধানীতে গ্যাসের তীব্র সংকট আগামী দু-একদিনের মধ্যেই স্বাভাবিক হওয়ার কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি বলেন, ‘গ্যাসের যে সংকট রয়েছে, আমরা আশা করছি আগামী দু-একদিনের মধ্যেই তা কমে অনেক ভালো অবস্থায় আসবে। এটা আমাদের জন্য একটি সুখবর।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দুটি এলএনজি টার্মিনাল দিয়ে গ্যাস সরবরাহে সমস্যা হচ্ছিল। বর্তমানে দুটি টার্মিনালই চালু রয়েছে। এর মধ্যে একটি আবার সংস্কারে যাবে। আমরা আশাবাদী, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় গ্যাসের যে শর্টেজ রয়েছে সেটি আগামী দু-একদিনের মধ্যেই আরো উন্নতি হবে। এটা সাময়িক সমস্যা। তাছাড়া শীতের সময় গ্যাসের কিছুটা সমস্যা থাকে।’
কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে। কারিগরি ত্রুটির কারণে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত শুক্রবার সকাল থেকেই চট্টগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট শুরু হয়। তার প্রভাব পড়ে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে। তবে ওইদিন রাত থেকে পাইপলাইনে পুনরায় এলএনজি সরবরাহ শুরু হলে গ্রাহকরা গ্যাস পেতে থাকেন। শনিবার সকাল পর্যন্ত গ্যাসের চাপ কম থাকে। পরে দুপুর ১২টার পর গ্যাসের চাপ ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে।’
শীতে গ্যাসের সরবরাহ সংকটের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শীতের সময় গ্যাসের সংকট এমনিতেও থাকে। দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ গ্রাহক এলপিজি ব্যবহার করেন। বাসাবাড়িতে চুলায় গ্যাসের সংযোগ খুব অল্প। চুলায় গ্যাস ব্যবহার করে ঢাকা এবং এর আশপাশের কিছু অংশ, ময়মনসিংহ এবং চট্টগ্রামের কিছু অংশের মানুষ। বিস্তীর্ণ এলাকায় আমরা প্রায় সাড়ে সাত লাখ গ্যাসের অবৈধ লাইন উচ্ছেদ করেছি। তার পরও আবার নতুন করে অবৈধ লাইন চালু হচ্ছে। এর ফলেই একটা বিরাট এলাকায় গ্যাসপ্রাপ্তিতে সমস্যা দেখা দিচ্ছে।’
গ্যাসের প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের সব গ্রাহককে প্রি-পেইড মিটারের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করছি। এরই মধ্যে সাড়ে চার লাখ গ্যাস মিটার লাগানো হয়ে গেছে। আমাদের টার্গেট হচ্ছে আগামী তিন বছরের মাথায় সব জায়গায় গ্যাসের মিটার চালু করা। আমরা বহুদিন ধরে চেষ্টা করছিলাম গ্যাস মিটার স্থাপন করতে। কিন্তু পর্যাপ্ত অর্থের জন্য সেটি করতে দেরি হয়েছে। সে সমস্যার এখন সমাধান হয়েছে। বিশ্বব্যাংক, এডিবি ও জাপানের একটি প্রতিষ্ঠান ফাইন্যান্স করছে। এরই মধ্যে জালালাবাদে ৫০ হাজার মিটার, কর্ণফুলীতে আড়াই লাখ মিটার এবং ঢাকায় সাড়ে চার লাখ মিটার লাগানোর কাজ চলছে।’
শীতকালেও লোডশেডিং কেন? সাংবাদিকের এক প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এ মুহূর্তে গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার0৮০০ এমএমসিএফডি। আমরা এখন সরবরাহ করতে পারি প্রায় ৩ হাজার ২০০ এমএমসিএফডি গ্যাস। এখানে আমাদের শিল্প-কারখানা ও বিদ্যুতের ক্ষেত্রে একটা গ্যাপ থেকে যাচ্ছে। বেশ কিছুদিন আমাদের গ্যাস না থাকায় পাওয়ার প্লান্ট কিছুটা বন্ধ রাখতে হয়েছে। এর কারণেই আমাদের কিছুটা সমস্যা হয়েছে। আশা করছি, আজকালের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’