রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৫:০৪ অপরাহ্ন
হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলায় জাতিসংঘ সংস্থার স্টাফ সদস্যদের অংশগ্রহণের অভিযোগের পর ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তুদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা ইসরায়েলি হামলার মুখে পড়েছে। এদিকে ইসরায়েলের হামলা তীব্রতর হওয়ায় আরও বেশি লোক গাজার দক্ষিণে মিশরীয় সীমান্তের দিকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ-র প্রধান ফিলিপ লাজারিনিকে গভীরতর দ্বন্দ্বের কারণে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং বলেছেন, বেশ কিছু দেশ সংস্থায় অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছে।
সংস্থাটি শুক্রবার বলেছে, তারা ইসরায়েলের অনির্দিষ্ট অভিযোগে বেশ কয়েকজন কর্মচারীকে বরখাস্ত করেছে এবং একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ইউএনআরডব্লিউএ প্রধান এক পোস্টে তহবিল হ্রাসের কারণে গাজায় সংস্থাটির কার্যক্রম ধসের কাছাকাছি বলে উল্লেখ করার পর এর প্রতিক্রিয়ায় কাটজ শনিবার গভীর রাতে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ বলেছেন, ‘মিস্টার লাজারিনি দয়া করে পদত্যাগ করুন।’
কাটজ এর আগে বলেছেন, অঞ্চলটির সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পরে গাজার পুনর্গঠনে ইউএনআরডব্লিউএকে ‘প্রকৃত শান্তি ও উন্নয়নে সংস্থার নিবেদিতদের প্রতিস্থাপিত করতে হবে’।
শনিবার জার্মানি, ব্রিটেন, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া এবং ফিনল্যান্ড সহ দাতারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব অনুসরণ করেছে, তারা অভিযোগের জন্য সংস্থাকে অতিরিক্ত তহবিল স্থগিত করেছে।
হামাস শনিবার ইউএনআরডব্লিউএ-এর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি ‘হুমকির’ নিন্দা করে জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে ‘হুমকি ও ব্ল্যাকমেল’ না করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।
হামাস শাসিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে অক্টোবরের শেষের দিকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে অন্তত ২৬,২৫৭ জন নিহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
গাজার প্রধান দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসে বাস্তুচ্যুত লোকদের জন্য একটি আশ্রয়কেন্দ্রে আঘাত হেনেছে বলে জাতিসংঘের সংস্থা ট্যাঙ্কের গোলাবর্ষণের নিন্দা করার পরে ইসরায়েল এবং ইউএনআরডব্লিউএ’র মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের দ্রুত অবনতি ঘটে।
সংস্থাটি বলেছে, কয়েক হাজার বাস্তুচ্যুত লোক আশ্রয়কেন্দ্রে নিবন্ধিত হয়েছে এবং বুধবারের ট্যাঙ্কের গোলাগুলিতে ১৩ জন নিহত হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তবে এটাও বলেছে যে, এটি ‘হামাসের হামলার ফল’ হওয়ার সম্ভাবনা পরীক্ষা করছে।