শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৮:০০ পূর্বাহ্ন
বৈষম্য ফাঁদে পড়লে ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ মোটেই বাস্তবায়িত হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের সাবেক গবেষণা প্রধান ও জাপানের এশিয়ান গ্রোথ ইনস্টিটিউশনের ভিজিটিং প্রফেসর ড. নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমরা যে ধারায় যাচ্ছি যেমন পৃথিবীর সবচেয়ে বৈষম্যপূর্ণ দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল আমরা কিন্তু তাদের লীগে চলে যাচ্ছি। তাদের লীগে চলে গেলে ফাঁদে পড়ে যাব। ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশের যে ভিশন সেই ভিশন মোটেই বাস্তবায়িত হবে না। বৈষম্য বেশি হলে দেশ আগাতে পারে না, তার একটি কারণ হলো বৈষম্য ফাঁদ সৃষ্টি হয়। অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়লে সেটা রাজনীতিকে প্রভাবিত করে।
বুধবার (৩১ জানুয়ারি) বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) আয়োজিত আবদুল গাফফার মেমোরিয়াল লেকচার ২০২৪ ‘আগামী বাংলাদেশের দশ করণীয়’ উপস্থাপন করার সময় প্রফেসর ড. নজরুল ইসলাম এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশের উন্নয়নের দ্বিতীয় পর্বের করণীয় সম্পর্কে তিনি ১০টি প্রস্তাব তুলে ধরেন। এগুলো হলো- অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস, সুশাসন অর্জন, গণতন্ত্রের মানোন্নয়ন ও আনুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থার প্রবর্তন, পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, গ্রাম পরিষদ গঠন, ভৌগলিক বৈষম্য অবসান, সামাজিক সংহতি বৃদ্ধি, নারী, শিশু, তরুণ ও বৃদ্ধদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ প্রদান, সর্বজনীন সামরিক শিক্ষা প্রবর্তন এবং সার্বভৌমত্ব শক্তিশালীকরণ ও নিরপেক্ষ বৈদেশিক নীতির অনুসরণ। তিনি বলেন, শ্রম শক্তির রফতানিতে পরিবর্তন আসতে হবে। জ্ঞান ও দক্ষতা ভিত্তিক শ্রম রফতানি করতে হবে। সেজন্য নতুন শিক্ষা ব্যবস্থা ও প্রশিক্ষণও দরকার।
বিআইডিএস মহাপরিচালক (ডিজি) বিনায়ক সেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মনোনীত আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানিত ফেলো অধ্যাপক ড. রওনক জাহান এবং বিআইডিএসের রিসার্চ ডিরেক্টর ড. কাজী ইকবাল। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন ড. মসিউর রহমান, অধ্যাপক রেহমান সোবহান প্রমুখ।