রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৭:৫৩ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ সুদানে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত জাপানে জোট সরকার গড়তে রাজি এলডিপি, ইশিন হামাস যুদ্ধ বিরতির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে অভিযোগ করে গাজায় ইসরায়েলের হামলা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল

খাল দখল করে রাস্তা বানিয়েছে ডিএনসিসি

প্যারিস নয়, কাগজ-কলমে নাম বাইশটেকি খাল। অবস্থান রাজধানীর মিরপুর-১০-এ। সম্প্রতি এই খাল পরিষ্কার অভিযানে নেমেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শেষে বিশাল কর্মযজ্ঞের পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি। তবে খালটির বড় অংশ দখল করে রাস্তা বানানোর অভিযোগ উঠেছে খোদ ডিএনসিসির বিরুদ্ধেই।

২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ডিএনসিসি এলাকার ১৩টি খাল সিটি কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেয় ঢাকা ওয়াসা। এসব খাল ব্যবস্থাপনা করতে গিয়ে অবৈধ দখল এবং খালের ময়লা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দেয়। এছাড়া খালের সীমানা চিহ্নিত না থাকা একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। গত তিন বছরে বেশ কয়েকবার খাল পরিষ্কারের উদ্যোগ নেয় ডিএনসিসি। এখন পর্যন্ত একটি খালও পুরোপুরি পরিষ্কার করতে পারেনি। শেষ করতে পারেনি সীমানা নির্ধারণের কাজও। সম্প্রতি আবার বাইশটেকি খাল পরিষ্কার অভিযান শুরু করেছে সংস্থাটি। বেশ তোড়জোড়ের সঙ্গেই কাজ চলছে।

খালটির প্রকৃত নাম প্যারিস নয়, বরং বাইশটেকি বলে জানিয়েছেন ডিএনসিসির ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী জহিরুল ইসলাম মানিক। প্যারিস রোড থেকে শুরু হয় বলে খালটিকে সম্প্রতি প্যারিস খাল বলা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‌এই খালটি আরো বড় করা হবে। এজন্য সিটি করপোরেশন অনেক আগে অধিগ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট জমির মালিকদের চিঠি দিয়েছে।’

গতকাল সরজমিনে দেখা গেছে, ডিএনসিসির ৩ নম্বর ওয়ার্ডে খালটি অবস্থিত। খালটি বাউনিয়া খালের একটি অংশ। এটি বাইশটেকি ও প্যারিস রোড, অ্যাভিনিউ-৫ হয়ে মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের মধ্য দিয়ে রূপনগর খালের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। ওই এলাকার সাংবাদিক প্লট, ভাসানটেক ও বাইশটেকির প্রবাহ এ খালের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই ওই এলাকার সব সুয়ারেজের পানি নিষ্কাশন এ খাল দিয়েই হয়। গবেষকরা জানিয়েছেন, খালটি ২০-২৫ ফুট থাকার কথা, বর্তমানে খালটি পাঁচ-সাত ফুট, আবার কোথাও দুই-তিন ফুট পাওয়া যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাইশটেকি খালের চারপাশে সিটি করপোরেশন রাস্তা নির্মাণ করেছে। সর্বশেষ গত বছর ৪০ ফুটের একটি রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ১০ নম্বর সেকশনের ব্লক ডিতে গত বছর এ রাস্তা নির্মাণ করে ডিএনসিসি। এলাকার প্রবীণরা জানান, এখানে ৪০ ফুট রাস্তা নির্মাণের কথা চলছে। খালের ওপর যাদের বাড়িঘর আছে, সেগুলো ভেতরে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। খাল উন্নয়নের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ করতে বাড়ি বাড়ি চিঠিও দেয়া হয়েছে।

বাইশটেকি খাল নিয়ে ডিএনসিসির পরিকল্পনা জানতে চাইলে সংস্থাটির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ ফিদা হাসান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌আমরা খালটিকে আসল রূপে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। খালটি প্রকৃত রূপে ফিরিয়ে আনতে বেশ সময় লাগবে। আমরা ময়লা পরিষ্কার করছি, আবার ময়লা ভেসে উঠছে। ব্যাপক কর্মযজ্ঞ শেষে খালটিতে নৌকা চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। এ খাল ব্যবস্থাপনার জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। বিশেষ করে ময়লা-আবর্জনা যাতে না ফেলে এজন্য আমরা খালটিকে সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসব। খালটির পাশে সাইড ওয়াক তৈরি করা হবে।’

ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘একসময় এটি পুরোটা ঝিল ছিল। পরবর্তী সময়ে খালটি ধীরে ধীরে দখল হতে থাকে। আগে খালটি ওয়াসার অধীনে ছিল। আমরা হাতে পেয়েছি মাত্র তিন বছর হলো। এখানে যে-ই দখলদার হোক, তাকে সরে যেতে হবে। মেয়র এ বিষয়ে খুবই কঠোর। আশা করছি, এবারের উদ্যোগে নগরবাসী ভালো কিছু পাবে।’

সিটি করপোরেশনের রাস্তা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডিএনসিসির অঞ্চল-২-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘‌এ খালে যে ধরনের দখল আছে, ধীরে ধীরে সেগুলো অপসারণ করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে।’

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় এ খালের প্রশস্ততা ছিল বিশাল। এটি বাউনিয়া খালের একটি শাখা। এ খাল দিয়ে একসময় বড় বড় ব্যবসায়িক নৌকা চলাচল করত, জেলেরা এ খাল থেকে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

খালটি সরু নালায় পরিণত হওয়ার ইতিহাস সম্পর্কে নগরবিদ ও স্থপতি মো. ইকবাল হাবিব বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌পুরো এলাকা একসময় নিচু ভূমি ছিল। বর্ষায় এখানে পানি জমত। বর্ষা শেষে এখানে চাষাবাদ হতো। ২০০০ সাল থেকে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ এখানে ঢুকে বিভিন্ন কৌশলে নিম্নভূমি ভরাট করে প্লট বানিয়ে বরাদ্দ দেয়া শুরু করে। যখন মানুষ এখানে বসবাস শুরু করে, তখন সিটি করপোরেশন রাস্তা বানিয়েছে। কিছু রাস্তা গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ বানিয়েছে। পরবর্তী সময়ে সিটি করপোরেশন সেটি দেখভাল শুরু করে।’

খাল পরিষ্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার বলেছি হঠাৎ হঠাৎ পরিষ্কার অভিযানের নামে অপরিকল্পিত কাজ না করে যথাযথ সমীক্ষা যাচাই করে ব্লু নেটওয়ার্ক তৈরি করা হোক। খাল যে রকম ছিল সে রকম ফিরিয়ে আনা সবার আগে জরুরি। যদি তা না করা যায়, তাহলে কয়দিন পরপর খাল পরিষ্কার করা হবে ঠিকই, কিন্তু এর সুফল জনগণ পাবে না।’

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com