মঙ্গলবার, ১৪ Jul ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণের ঝুঁকি মোকাবিলায় গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের আরো চার জেলা লকডাউন করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এগুলো হলো—কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী ও গাইবান্ধা জেলা। এছাড়া পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা লকডাউন এবং মুন্সীগঞ্জে আন্তইউনিয়ন যোগাযোগ বন্ধ করা হয়েছে।
নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, গতকাল শুক্রবার বিকালে জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে জেলার সকল প্রবেশ পথ বন্ধ করে দেওয়া হলো। জেলা থেকে কেউ বের হতে বা ঢুকতে পারবেন না। এই নির্দেশনা জেলা শহর থেকে বিভিন্ন উপজেলায় যাতায়াতের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত কাঁচাবাজার ও মুদির দোকান খোলা থাকবে। প্রত্যেক জেলাবাসীকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দোকান থেকে জিনিসপত্র ক্রয় করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের পর জেলার সকল এলাকায় সব দোকান বন্ধ থাকবে। শুধু ওষুধের দোকান খোলা থাকবে।
চাঁদপুর প্রতিনিধি জানান, বৃহস্পতিবার বিকাল সোয়া ৩টার দিকে জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান অনলাইনে একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে চাঁদপুর অবরুদ্ধ (লকডাউন) ঘোষণা করেছেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, এ জেলায় জনসাধারণের প্রবেশ ও প্রস্থান নিষিদ্ধ করা হলো। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সড়ক ও নৌপথে অন্য কোনো জেলা হতে কেউ এ জেলায় প্রবেশ করতে বা এ জেলা হতে অন্য কোনো জেলায় গমন করতে পারবেন না। জেলার অভ্যন্তরে আন্তউপজেলা যাতায়াতের ক্ষেত্রেও একইরূপ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ হবে। সকল ধরনের গণপরিবহন, জনসমাগম পূর্বের ন্যায় বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি পরিষেবা যেমন চিকিৎসা, খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ ও সংগ্রহ ইত্যাদি এর আওতাবহির্ভূত থাকবে। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ ৯ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টা হতে কার্যকর হবে। আদেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকি মোকাবিলায় কুমিল্লা জেলাকে লকডাউন (অবরুদ্ধ) ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও করোনা প্রতিরোধ সংক্রান্ত জেলা কমিটির সভাপতি মো. আবুল ফজল মীর স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। শুক্রবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত লকডাউন বলবৎ থাকবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, শুক্রবার থেকে এ জেলায় জনসাধারণের প্রবেশ ও প্রস্থান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জাতীয় ও আঞ্চলিক সড়ক-মহাসড়ক ও নৌপথে অন্য কোনো জেলা থেকে কেউ এ জেলায় প্রবেশ করতে কিংবা এ জেলা থেকে অন্য কোনো জেলায় গমন করতে পারবেন না। জেলার অভ্যন্তরে আন্তউপজেলা যাতায়াতের ক্ষেত্রেও একই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। এসব আদেশ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার পর্যন্ত কুমিল্লার দুটি উপজেলায় দুই শিশুসহ তিন জনের করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে। এছাড়া কুমিল্লার দুই ব্যক্তি ঢাকায় অবস্থানরত অবস্থায় মারা গেছেন।
গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মতিন শুক্রবার বেলা ১টায় গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে গাইবান্ধা অবরুদ্ধ (লকডাউন) ঘোষণা করেন। জেলায় গত ২২ মার্চ আমেরিকা প্রবাসী মা ও ছেলের করোনা ভাইরাস পজিটিভ ধরা পড়ে। এই ঘটনার পর থেকে জেলাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জেলাবাসীর দাবির মুখে জেলাকে লকডাউন করা হলো। আদেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, জেলায় আন্তইউনিয়ন যোগাযোগ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার এই আদেশ জারি করেছেন।
নগরকন্ঠ.কম/এআর