মঙ্গলবার, ১৪ Jul ২০২৬, ০২:২৬ পূর্বাহ্ন

পা কেটে মিছিল: মোবারকের মৃত‌্যু, এলাকায় উত্তেজনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের থানাকান্দি গ্রামে পা কেটে নেওয়া সেই মোবারক মিয়া (৪৫) মারা গেছেন।

ঘটনার তিন দিন পর মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাত দেড়টায় ঢাকা মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত‌্যু হয় তার। মোবারক থানাকান্দি গ্রামের মধু মিয়ার ছেলে।

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রনোজিত রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে মোবারকের মৃত্যুর খবরে এলাকায় উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নিহত মোবারক মিয়ার স্ত্রী সাবিয়া আক্তার সাংবাদিকদের জানান, মোবারক ঢাকায় রিকশা চালাতেন। করোনা পরিস্থিতির কারণে তিনি গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন।

গত রোববার (১২ এপ্রিল) দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে তিনি নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে অবস্থান করছিলেন। পরে বিরোধী পক্ষের লোকজন ঘরের দরজা-জানালা ভেঙ্গে দিলে তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। সেসময় তাকে এলোপাতাড়ি কোপায় এবং শরীর থেকে পা বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।

সাবিয়া আক্তার বলেন, ‘গ্রামের কোনো ঝগড়া বা দলাদলিতে জড়িত ছিলেন না আমার স্বামী। মৃত্যুর আগে কারা তাকে কুপিয়েছে- তাদের নাম বলে গেছেন। তার বক্তব্য মোবাইলে ভিডিও করে রেকর্ড করা হয়েছে।’

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রনোজিত রায় বলেন, ‘পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রনে আছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় ৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এস.আই মোজাম্মেল হোসেন বাদি হয়ে ১০৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো সাত/আটশ’ লোককে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মোবারকের মৃত‌্যুতে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্ততি চলছে।

প্রসঙ্গত, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জিল্লুর রহমানের সাথে একই ইউনিয়নের থানাকান্দি গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা আবু কাউসার মোল্লার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।

গত রোববার (১২ এপ্রিল) আবারো উভয় পক্ষের দাঙ্গাবাজরা দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে থানাকান্দি গ্রামে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। দফায় দফায় হওয়া সংঘর্ষে তিন পুলিশ সদস্যসহ উভয়পক্ষের কমপক্ষে ৩০ জন আহত হন।

সংঘর্ষ চলাকালে চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমানের পক্ষের মোবারক মিয়ার পা কেটে নিয়ে যায় কাউছার মোল্লার লোকজন। পরে তারা কাটা পা নিয়ে ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান দিয়ে এলাকায় মিছিল করে।

এ ঘটনায় পুলিশ উভয় পক্ষের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com