সোমবার, ১৩ Jul ২০২৬, ০৯:১৮ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আইসোলেশনে ভর্তি রংপুরের সেই শ্রমজীবী ব্যক্তির শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি এখন আর নেই। চার দফা নমুনা পরীক্ষায় তিন দফা করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসার পর চতুর্থ দফায় করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট এসেছে। বুধবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) ল্যাবে চতুর্থ নমুনা পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, রংপুরের ৫০ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে ১ এপ্রিল শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে (আইসোলেশন ওয়ার্ড) রেফার্ড করা হয়। সংশ্লিষ্ট আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) শফিক আমিন বলেন, ওই ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকার আইইডিসিআরে পাঠানো হয়। গত ৪ এপ্রিল আইইডিসিআর ওই ব্যক্তি করোনা পজেটিভ নিশ্চিত করে। এরপর থেকে তিনি বগুড়ার আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন।
তিনি বলেন, গত দুই সপ্তাহে আরও তিন দফায় ওই ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করে রামেক ল্যাবে পাঠানো হয়। এর মধ্যে দুই দফায় করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসলেও তৃতীয় দফার নমুনা পরীক্ষায় রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। বিষয়টি বুধবার সন্ধ্যায় আইসোলেশন ওয়ার্ড কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার আবারও নমুনা সংগ্রহ করে রামেক ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে। এবার করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট আসলে তাকে আইসোলেশন থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, এর আগে হাসপাতালে ওই ব্যক্তির সংস্পর্শে থাকা তার স্ত্রী, বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের প্রধানসহ ১৬ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী, শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বগুড়া পর্যন্ত বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স চালকের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তবে সকলের শরীরে করোনার উপস্থিতি মেলেনি। উল্লেখ্য, করোনা সংক্রমিত ওই ব্যক্তি ঢাকার কাওরান বাজারের সবজির আড়তের শ্রমিক। গত ২৯ মার্চ রাতে তিনি ট্রাকে কাওরান বাজার থেকে রংপুরের উদ্দেশে রওনা দেন। ওই ট্রাকে আরও ২০-২৫ ব্যক্তি ছিলেন। পথে জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট শুরু হলে করোনা আতঙ্কে ওই ব্যক্তিকে ভোররাতে মহাস্থান বাসস্ট্যান্ডে নামিয়ে দেয়। দীর্ঘ সময় পর পুলিশের সহযোগিতায় তাকে প্রথমে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই দিন চিকিৎসার পর তাকে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আইসোলেশনে পাঠানো হয়।
নগরকন্ঠ.কম/এআর