সোমবার, ১৩ Jul ২০২৬, ০৫:৫০ অপরাহ্ন

বৃষ্টিতে হাওরে জলাবদ্ধতা, পাকা ধান নিয়ে বিপাকে ছাতকের কৃষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস আতঙ্কে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। তার ওপর দুদিনের টানা অতিবৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি আর প্রবল বজ্রপাতে দিশেহারা সুনামগঞ্জের কৃষকরা।

গত বছর অকাল বন্যায় হাওরডুবির পর এবারও যদি সোনার ফসল ঘরে না ওঠে তবে কৃষকদের অকূলে ভাসতে হবে। এ দিকে করোনাভাইরাস অন্যদিকে বজ্রপাত আতঙ্কে ধান কাটার জন্য শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। আর এ সবের মধ্যে হাওরে জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকদের পাকা ধান। সেই ধান কাটতেও পারছেন না কৃষকরা।

সরেজমিন দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের জল্লার হাওরের কৃষক রিপন আহমদ জানান, দুই-তিনদিনের অতিবৃষ্টিতে হাওরের অন্তত ১০টি গ্রামের কৃষকের পাকা ধানের জমিতে হাঁটু পানি রয়েছে। বিকালে বৃষ্টির কারণে পাকা ধান তলিয়ে সর্বনাশ হচ্ছে।

কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, হাওরবাসীর কাছে এখন আতঙ্কের আরেক নাম করোনাভাইরাস ও বজ্রপাত। শনিবার সুনামগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় বজ্রপাতে ৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এ দিকে বৃষ্টির কারণে হাওরের অধিকাংশ জায়গায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে ধান কাটা। শ্রমিক সংকটতো রয়েছেই।

শনিবার উপজেলার বিভিন্ন হাওরে গিয়ে দেখা যায় ধান কাটার শ্রমিক নেই বললেই চলে। হাওরজুড়ে হা-হুতাশ আর কৃষকের মুখে শঙ্কার আর্তি। গত বছরের মতো এবারও ফসলহানি হলে কোথায় যাবে তারা, কী খেয়ে বাঁচবে পরিবার- এমন ভাবনায় হাজার হাজার কৃষকের এখন কপালে ভাঁজ।

এ ব্যাপারে ছাতক উপজেলার ইউএনও গোলাম কবির জানান, গত ১৪ এপ্রিল থেকে কৃষকদের আগাম সর্তকবাতা পৌঁছে দেয়া হয়েছে। ১৭ এপ্রিল থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করে হাওরের সব বোরো পাকা ধান কেটে ফেলার জন্য কৃষকদের বলা হয়েছি।

এ ছাড়া আগামী দুই-তিনদিন সুনামগঞ্জসহ আশপাশের হাওর অঞ্চলে ২৫ থেকে ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে পার্শ্ববর্তী ভারতের আসাম ও মেঘালয় এলাকায় বৃষ্টিপাত এবং নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে।

এ ব্যাপারে উপজেলার ছাতক কৃষি কর্মকর্তা তৌহিদ হোসেন খানের সঙ্গে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com