সোমবার, ১৩ Jul ২০২৬, ০৪:১৩ অপরাহ্ন

আপিল বিভাগের নির্দেশের পরও ক্ষতিপূরণ পাননি রাজিবের দুই ভাই

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : দেশের সবোর্চ্চ আদালত আপিল বিভাগের নির্দেশের পরও এখন পর্যন্ত একটি টাকাও ক্ষতিপূরণ পাননি দুই বাসের রেষারেষিতে প্রাণ হারানো রাজিব হাসানের দুই ভাই। আপিল শুনানির পূর্বে স্বজন পরিবহনকে এক মাসের মধ্যে ১০ লাখ টাকা দিতে নির্দেশ দিয়েছিলো সবোর্চ্চ আদালত। কিন্তু ইতিমধ্যে ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো একটি টাকাও দেয়নি স্বজন পরিবহন কর্তৃপক্ষ।

এ প্রসঙ্গে স্বজন পরিবহনের কৌসুলি অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম বাবুল ইত্তেফাককে জানান, আমরা দুই লাখ টাকা জোগাড় করেছি। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে ওই টাকাও দিতে পারছি না। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজিবের মেজ খালা খাদিজা বেগম লিপি। তিনি বলেন, মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে স্বজন পরিবহন কর্তৃপক্ষের উচিত ছিলো আদালতের বেধে দেয়া সময়ের মধ্যে টাকা দেওয়া কিন্তু তারা সেটা করেনি। এখন সাংবাদিকদের বলছে দুই লাখ টাকা জোগাড় করেছে। এটা আইওয়াশ ছাড়া কিছুই নয়।

তিনি বলেন, রাজিবের মৃত্যুর পর অনেকেই সাহায্যের কথা বলেছিলেন, কিন্তু এখন কেউ আর খবরও রাখে না।

২০১৮ সালের ৩ এপ্রিল ঢাকার কারওয়ান বাজার এলাকায় বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনের দুটি বাসের রেষারেষিতে হাত হারান তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী রাজিব হাসান। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় দায়েরকৃত রিট মামলায় হাইকোর্ট রাজিবের দুই ভাইকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দেয়। রায়ে বলা হয়, দুটি বাসের চালকের অসুস্থ প্রতিযোগিতার কারণেই ওই দূর্ঘটনা ঘটে। এ কারণে ২৫ লাখ টাকা করে দুই পরিবহন কোম্পানিকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে হবে। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে ওই দুই পরিবহন সংস্থা। আপিল বিচারাধীন থাকাবস্থায় গত বছরের ১৩ অক্টোবর আপিল বিভাগ স্বজন পরিবহনকে এক মাসের মধ্যে ১০ লাখ টাকা দিতে নির্দেশ দেয়। কিন্তু ওই নির্দেশের পর এখন পর্যন্ত কোন টাকা পাননি রাজিবের দুই ভাই।

স্বজন পরিবহনের আইনজীবী জানান, কোম্পানির যারা মালিক ছিলেন তাদের বেশিরভাগই গাড়ি বিক্রি করে দিয়েছেন। এখন কোম্পানির ৬-৭ জন পরিচালক রয়েছেন, যাদের আর্থিক সঙ্গতি রয়েছে তারা দুই লাখ টাকা জোগাড় করছেন। এখন তো সব কিছু বন্ধ। নইলে বাকি টাকা জোগাড় করার সকল চেষ্টা অব্যাহত থাকত। তিনি বলেন, আদালত টাকা দেওয়ার জন্য আরো ছয় মাস সময় দিয়েছে।

বিআরটিসির আইনজীবী মো. মনিরুজ্জামান জানান, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিচারাধীন রয়েছে। আদালত খোলার পর হয়ত মামলাটির শুনানি হতে পারে।

প্রসঙ্গত রাজিবের দুই ভাই ঢাকার একটি মাদ্রাসায় পড়েন। করোনা ভাইরাসের কারণে মাদ্রাসা বন্ধ। তাই তারা পটুয়াখালীর বাউফলে নানা বাড়িতে অবস্থান করছেন।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com