শুক্রবার, ০৩ Jul ২০২৬, ০৬:৩৬ অপরাহ্ন

নতুন করোনাভাইরাস ৩০ বার নিজেকে পরিবর্তন করেছে!

তথ্য ও প্রযুক্তি ডেস্ক, নগরকন্ঠ.কম : চীনের একটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন করোনাভাইরাসটি কমপক্ষে ৩০ বার নিজেকে পরিবর্তন করেছে। ভাইরাসটি মিউটেশন (জিনগত পরিবর্তন) ঘটিয়ে অন্তত ৩০টি স্ট্রেইন সৃষ্টি করেছে বলে গবেষণায় বলা হয়েছে।

গবেষক দলটির মতে, এই গবেষণার ফলাফল প্রমাণ করছে যে, চিকিতসা কর্মকর্তারা এই ভাইরাসের ব্যাপক পরিবর্তন ক্ষমতাকে গুরুত্ব দিয়ে আসেননি। ভাইরাসটির বিভিন্ন স্ট্রেইন অঞ্চল ভেদে আলাদা আলাদ প্রভাব ফেলছে। স্ট্রেইন আলাদা হওয়ায় বিশ্বের কিছু অংশে ভাইরাসটি আরো মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। যা সামগ্রিক নিরাময় তৈরি করার ক্ষেত্রে অসুবিধা বাড়াচ্ছে।

গবেষণাটি করেছেন চীনের চেচিয়াং প্রদেশের হংজ়ৌ শহরে অবস্থিত ঝিজিয়াং ইউনিভার্সিটির প্রফেসর লি লানজুয়ান এবং তাঁর সহকর্মীরা। গবেষকরা হংজ়ৌর ১১ জন করোনা রোগী থেকে সংগৃহীত স্টেইন বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, এগুলো কতটা সক্রিয়ভাবে সংক্রামিত করতে পারে এবং আক্রান্ত কোষগুলোকে ধ্বংস করতে পারে। এ সময়ে গবেষকরা ৩০টির বেশি স্ট্রেইন শনাক্ত করেন, যার মধ্যে ১৯টি এতোদিন অজানা ছিল।

গবেষণাপত্রে প্রফেসর লি লিখেছেন, ‘সার্স-কোভ-২ ভাইরাসটি কোভিড-১৯ রোগের যথেষ্ট পরিবর্তন করতে সক্ষম মিউটেশন ক্ষমতা অর্জন করেছে।’

গবেষক দলটি আবিষ্কার করেছে, কিছু মিউটেশন ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনে কার্যকরী পরিবর্তন আনতে পারে। স্পাইক প্রোটিন হলো এমন একটি প্রোটিন, যা করোনাভাইরাস নিজেকে মানুষের কোষের সঙ্গে সংযুক্ত করতে ব্যবহার করে।

কোভিড-১৯ স্ট্রেইন সংক্রামিত কোষগুলো বিভিন্ন রূপান্তর বহন করে, যার মধ্যে সবচেয়ে আক্রমণাত্মক স্ট্রেইনগুলোকে দুর্বলতম স্ট্রেইনের চেয়ে ২৭০ গুণ বেশি ভাইরাল লোড তৈরি করতে দেখা গেছে। আক্রমণাত্মক স্ট্রেইনগুলোকে দ্রুত কোষ ধ্বংস করতে দেখা গেছে।

গবেষণার ফলাফলে লি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ‘ভাইরাল স্ট্রেইনগুলোর প্রকৃত বৈচিত্র্য এখনো অনেকাংশে অপ্রত্যাশিত।’

দ্য জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই গবেষণা করোনাভাইরাসের চিকিত্সার উপর ভবিষ্যতের প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ সারা বিশ্বে বিভিন্ন স্ট্রেইন পাওয়া গেছে।

ভাইরাসটির বিভিন্ন মিউটেশন সংক্রমণ কারণে বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে বেশি মৃত্য ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে করোনায় এখন পর্যন্ত মারা গেছে ৪২ হাজার ৩৩৫ জন এবং আক্রান্ত হয়েছে ৭ লাখ ৮৭ হাজার ৩৭০ জন। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত নিউইয়র্কের পূর্ব উপকূলে করোনাভাইরাসটির প্রবণতা ইউরোপের মতো দেখা গেছে। অন্যদিকে পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে মিল দেখা গেছে চীনে পাওয়া স্ট্রেইনের সঙ্গে।

করোনাভাইরাসকে এখনো পর্যন্ত একটি রোগ হিসেবে বিশ্বব্যাপী হাসপাতালে চিকিতসা করা হয়েছে এবং স্ট্রেইন নির্বিশেষে রোগীরা একই চিকিতসা পেয়ে থাকেন।

ঝিজিয়াং ইউনিভার্সিটির গবেষক দলটি পরামর্শ দিয়েছে, অঞ্চল ভেদে স্ট্রেইন শনাক্ত করার মাধ্যমে ভাইরাসটির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পদ্ধতির পরিবর্তন করা যেতে পারে।

বিজ্ঞানীরা বলেন, ‘ওষুধ ও ভ্যাকসিনের বিকাশের জরুরি হলেও সম্ভাব্য সমস্যাগুলো এড়াতে জমে থাকা মিউটেশনগুলোর প্রভাব বিবেচনায় নেয়া উচিত।’

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com