সোমবার, ১৩ Jul ২০২৬, ০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন

বোরো ধান নিয়ে নানামুখী সংকটে কৃষক

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় এ বছর বোরো ধান নিয়ে নানামুখী সংকটে পড়েছেন কৃষকরা। আধা পাকা ধানে ব্লাস্ট রোগ ও মাজরা পোকার আক্রমণ রীতিমতো ভাবিয়ে তুলেছে তাদের। এছাড়াও বৈরি আবহাওয়ার পাশাপাশি শ্রমিক সংকটের শঙ্কাতো রয়েই গেছে।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে তাড়াশ উপজেলায় ২২ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে বিরি ধান ২৮, বিরি ধান ২৯, বিরি ধান ৩৬, মিনিকেট, কাটারিভোগসহ বিভিন্ন জাতের বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেশীগ্রাম ইউনিয়নের চারমাথা এলাকা, বারুহাস ইউনিয়নের কাজিপুর-আসানবাড়ি এলাকা, তাড়াশ পৌর শহরের ভাদাশ ও কহিত গ্রাম এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ব্যাকটেরিয়াজনিত ব্লাস্ট রোগে ধানের শীষের গোঁড়া গিট, পাতাসহ শাখা-প্রশাখা দুর্বল হয়ে ধান চিটা হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও মাজরা পোকা ধান গাছের কান্ডের ভেতর থেকে খাওয়া শুরু করে গোড়া খেয়ে কেটে ফেলেছে। এতে ডিগ পাতা মরে সম্পূর্ণ শীষ শুকিয়ে সাদা হয়ে গেছে।

একই সঙ্গে তালম ইউনিয়নের কোলামুলা, চক কোলামুলা, বড়ই চরা, গাবরগাড়ী, খোষালপুর ও রানী হাট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গত বুধবার দিবাগত রাতের শিলা বৃষ্টিতে বেশিরভাগ জমিতে ধান গাছের মাথা থেতলে গেছে। আর পাকা ও আধা পাকা জমির ধানের শীষ থেকে অধিকাংশ ধান ঝরে পড়ে গেছে।

কৃষক শাহালম প্রামানিক, আবদুল হালিম, আব্দুল জলিল, আলতাব হোসেন, আবদুল হক মন্ডল প্রমূখ জানান, ৮/১০ দিনের মধ্যে পুরো দমে ধান কাটা শুরু হয়ে যাবে। এরই মধ্যে জমিতে ব্লাস্ট রোগের প্রাদুর্ভাব ও মাজরা পোকার আক্রমণ দ্রুত এক জমি থেকে অন্য জমিতে ছড়িয়ে পড়ছে। এসব কারণে ধানের শীষ মরে চিটা হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া শিলা বৃষ্টি রয়েছেই। রোগ বালাই, পোকা-মাকড়ের আক্রমণ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ব্যাপক ফলন বিপর্যয়ের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

তারা আরো জানান, মৌসুমি কৃষি শ্রমিকরা যানবাহন সংকট ও করোনা ভীতির মধ্যে ধান কাটার জন্য আসতে অনিহা প্রকাশ করছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত জাহান বলেন, কৃষি শ্রমিকরা আসার সময় স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রত্যয়ন সঙ্গে নিয়ে আসবেন। আর সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করবেন। এটা নিশ্চিত করতে আট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে। থানা পুলিশকেও বলা হয়েছে তাদের নির্বিঘ্নে যাতায়াতের ব্যবস্থা করতে।

এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লুৎফুলন্নাহার লুনা দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, যে সকল কৃষক কৃষি অধিদপ্তরের মরামর্শ না নিয়ে নিজের ইচ্ছায় বোরো জমিতে বালাই নাশক প্রয়োগ করেছেন মূলত তাদের জমিতেই ব্লাস্ট রোগে দেখা দিয়েছে। তবে মাজরা পোকার আক্রমণ নেই বললেই চলে। তারপরও এসবের প্রতিকার ও প্রতিরোধে তারা পাঠ পর্যায়ে সার্বক্ষণিক কাজ করে চলেছেন।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com