সোমবার, ১৩ Jul ২০২৬, ০৬:৫১ পূর্বাহ্ন

২০ পরিবারকে গোপনে সহায়তা, চা বিক্রেতাকে ইউএনওর ধন্যবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : করোনাভাইরাসের হটস্পট হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় শহীদুল ইসলাম নামে এক চা দোকানদার দম্পতির জমানো অর্থ দিয়ে অসহায় ২০ পরিবারকে গোপনে খাদ্যসামগ্রী দিয়ে ব্যাপক আলোচনায় এসেছে।

তাদের এ মহানুভবতার খবর পেয়ে শনিবার বিকালে ফতুল্লার পশ্চিম সস্তাপুর এলাকায় এ পরিবারটিকে ধন্যবাদ জানাতে ছুটে আসেন জেলার আলোচিত সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা বারিক। ওই দম্পতির জন্য সঙ্গে নিয়ে যান কিছু ফল।

শহীদুল ইসলাম কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার গুনাইনগাছ দক্ষিণপাড়া গ্রামের জয়নাল মিয়ার ছেলে। বর্তমানে তিনি ফতুল্লার পশ্চিম সস্তাপুর এলাকার শাজাহান মিয়ার বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস করে কাদির মিয়ার জমিতে চা দোকান দিয়ে ব্যবসা করেন।

ইউএনও নাহিদা বারিক জানান, একজন চা বিক্রেতা প্রতিবেশীর খাবারের কষ্ট সইতে না পেরে স্বামী-স্ত্রীর জমানো টাকা দিয়ে ২০টি পরিবারে খাবার পৌঁছে দিয়েছে। বিষয়টি শুনে অবাক হয়েছি।

খবর নিতে তার দোকানের কাছে এসে পরিবারের হাতে কিছু উপহারসামগ্রী দিয়ে এসেছি, আগামীতে তাদের খাদ্যসামগ্রী শেষ হয়ে গেলে এবং যে কোনো সমস্যায় সরাসরি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছি।

তাদের ৯ বছরের সন্তান রেজাউলকে অর্থের অভাবে স্কুলে ভর্তি করতে পারছে না। আমি তাদের বলেছি– স্কুল খোলা হলে তাদের সন্তানকে আমি স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেব।

এদিকে উপহার পেয়ে খুশি শহীদুলের পরিবার ইউএনও নাহিদা বারিকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

শহীদুল জানান, আমি অত্যন্ত গরিব। চা দোকানটাই আমার আয়ের একমাত্র উৎস। লকডাউনের কারণে আমার উপার্জন প্রায় বন্ধ, আমি অভাবের মধ্যেই বড় হয়েছি।

অভাব ও অনাহার কাকে বলে আমি জানি। স্ত্রী ও ৯ বছরের শারীরিক প্রতিবন্ধী একমাত্র ছেলে রেজাউলকে নিয়ে আমার একটা ছোট সংসার।

এভাবে চলতে থাকলে আগামী ১৫ দিন পর আমার চুলা জ্বলবে কিনা সন্দেহ। তবু আশপাশের অনাহারি মানুষের জন্য বিবেকের তাড়নায় আমি গোপনে এ কাজটি করেছি; কারও বাহবা পাওয়ার জন্য নয়।

পরে তা জানাজানি হয়ে গেলে ইউএনও এসে ধন্যবাদ জানিয়ে গেছেন। এতেই আমি খুশি। আমাকে আল্লাহ দেখবেন।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com