কেউ খোঁজ নেয়নি ময়মনসিংহের দলিল লেখকদের

কেউ খোঁজ নেয়নি ময়মনসিংহের দলিল লেখকদের

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : ‘আমরা ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক। সমাজের ছোট থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের নাগরিকদের আমরা সেবা দিয়ে থাকি। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রাজস্ব আহরণের বড় অংকের একটা রাজস্ব সরাসরি আমরা আহরণ করে থাকি, ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা রাজস্ব আসে আমাদের মাধ্যমে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ জেলায় রাজস্ব আহরণের এমন দ্বিতীয় কোন দপ্তর নেই। দলিল লেখকরা সরকারি কোনো বেতন ভাতা পান না। আজ প্রায় ৫০ দিন যাবত দলিল লেখকদের সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ। দেশের এই সংকটময় সময়ে আমাদের কথা কেউ একটিবারের জন্য মনেও করেননি। বিগতদিনে দেশের এই উন্নয়ন যাত্রায় আমাদের কি কোনো ভূমিকা ছিলোনা?’

এমনি ভাবে নিজেদের কষ্ট ও ক্ষোভের কথা জানিয়ে নিজের ফেইসবুক ওয়ালে পোস্ট দেন ময়মনসিংহ সদর দলিল লেখক সমিতির ফরিদ আহমেদ স্বপন।

দলিল লেখক স্বপন রাইজিংবিডিকে বলেন, আমাদের মধ্যে ৩০-৪০জন দলিল লেখক ছাড়া প্রায় সবাই খুব কষ্ট করে জীবনযাপন করে। দলিল লিখেই তাদের জীবন চলে। করোনার জন্য দীর্ঘদিন যাবৎ অফিস বন্ধ।

জানা যায়, ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে তালিকাভুক্ত ৩৬২ জন দলিল লেখক কর্মরত আছেন। ময়মনসিংহ জেলায় ১৫টি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রায় ২২০০ দলিল লেখক রয়েছে। এক্সট্রা মোহরার বা নকলনবিশ রয়েছে প্রায় ৭০০।

দলিল লেখক বা নকলনবিশ কারোরই নেই কোন মাসিক বেতন। দলিল লেখকরা দলিল লিখে দাতা বা গ্রহীতার কাছ থেকে মজুরি নেন। নকলনবিশরা নকল লিখে পৃষ্ঠা প্রতি সম্মানি পান।

দলিল না থাকলে থাকেনা তাদের কোন আয়। করোনাভাইরাসের প্রভাবে প্রায় দুই মাস যাবৎ বেকার বসে আছেন দলিল লেখক ও নকলনবিশরা। এ অবস্থায় অনেকে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

জেলার তারাকান্দা সাব রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সমিতির সভাপতি বিল্লাল হোসেন বলেন, অধিকাংশ দলিল লেখকরা সমাজের মধ্যবিত্ত শ্রেণির লোক। অভাবে পরে কারো কাছে কিছু চাইতে পারেনা। ফলে তারা খুব কষ্টে জীবনযাপন করছে।

ময়মনসিংহ জেলা এক্সট্রা মোহরার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সোহেল আকন্দ জানান, বর্তমানে আমাদের নকলনবিশরা কর্মহীন হয়ে গেছে। অনেকেই খুব কষ্টে জীবন যাপন করছে। সরকারের কাছে দাবী জানাই আমাদের এই দূর্দিনে, যাতে কিছু সাহায্য পাওয়া যায়।

ময়মনসিংহ সদর সাব রেজিস্টার খন্দকার মেহবুবুল ইসলাম বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী দলিল লেখকদের কোন সহযোগিতা করার সুযোগ আমাদের নেই। নকলনবিশদের কাজের বাইরে কোন বিল আমারা দিতে পারিনা। নকলনবিশদের কিছু বকেয়া বিল যা এই সময়ে আমরা পরিশোধ করে দিয়েছি।’

ময়মনসিংহ জেলা রেজিস্ট্রার সরকার মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘অফিসিয়ালি তাদের জন্য করার কিছু নেই। তবে আমরা জেলা ও সাব রেজিস্টার এসোসিয়েশনের মাধ্যমে আইজিআর মহোদয়কে অবগত করেছি। সেখান থেকে কোন নির্দেশনা পেলে কিছু করা যাবে। তাছাড়া জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথে কথা বলে স্থানীয়ভাবে তাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি।’

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান বলেন, করোনার প্রভাবে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। জেলা রেজিস্ট্রারের সঙ্গে কথা বলে দলিল লেখক ও নকলনবিশদের সহায়তা করা হবে।
নগরকন্ঠ.কম/এআর

কোন কমেন্ট নেই

উত্তর দিন