রবিবার, ১২ Jul ২০২৬, ০৩:০৩ পূর্বাহ্ন

রেলের ইঞ্জিন বদলে বাঁচানো হলো পাখি

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : করোনার কারণে দেশজুড়ে যাত্রীবাহী রেল চলাচল বন্ধ। দেশের কয়েকটি রুটে পণ্যবাহী লাগেজ ট্রেন সীমিত আকারে চলছে। পার্বতীপুর রেলস্টেশনে তেমনই একটি পণ্যবাহী লাগেজ ট্রেনের জন্য ইঞ্জিন চালু করতে গিয়ে গলদঘর্ম হতে হয়েছে সংশ্লিষ্টদের।

ইঞ্জিনের ত্রুটি খুঁজতে গিয়ে দেখা যায় ইঞ্জিনে শালিক পাখি বাসা বেঁধেছে। শুধু তাই নয়, বাসায় দুটি ছানাও রয়েছে। ঘটনাটি ঊর্ধ্বতনদের জানানো হলে তাদের নির্দেশে অন্য একটি ইঞ্জিন নিয়ে লাগেজ ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে যায়।

পার্বতীপুর লোকোশেডের ইনচার্জ কাফিউল ইসলাম বলেন, গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ৬৫০৭ নম্বর ইঞ্জিন স্টার্ট দিতে গিয়ে তার মধ্যে পাখির বাসা দেখতে পওয়া যায়। করোনার কারণে লোকোশেডে কয়েকটি ইঞ্জিন দীর্ঘদিন পড়ে ছিল। এই ফাঁকে সেখানে হয়তো পাখি বাসা বেঁধেছে। কয়েকদিন আগে ডিম পেড়ে ছানাও ফুটেছে। ছানাগুলো এখনো উড়তে শেখেনি।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেদিন পঞ্চগড় অভিমুখী পণ্যবাহী স্পেশাল লাগেজ ট্রেনের জন্য ৬৫০৭ নম্বর ইঞ্জিনটি চালু করা হচ্ছিল। কিন্তু বারবার চেষ্টা করে সেটি চালু হচ্ছিল না। মেকানিকরা সমস্যা খুঁজতে গিয়ে ভেতরে মা-শালিকসহ দুটি ছানা দেখতে পান। মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে মা পাখিটি উড়ে যায়।

বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হলে তারা নির্দেশ দেন পাখির ছানাগুলো বড় হয়ে উড়তে না-শেখা পর্যন্ত যেন ওই ইঞ্জিন চালু করা না হয়। নির্দেশ মেনে পরে ৬৫০৭ নম্বর ইঞ্জিনের পরিবর্তে ৬৫১৫ নম্বর ইঞ্জিন নিয়ে লাগেজ ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে যায়।

পাখির প্রতি এমন মহানুভবতার কথা ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি প্রশংসিত হয়। কাফিউল ইসলাম বলেন, আল্লাহ পাখির ছানাগুলো বাঁচিয়ে রাখার জন্যই ওই ইঞ্জিন চালু করেননি। কেননা ইঞ্জিনটি চালু হলে গরমে পাখির ছানা দুটোর মৃত্যু অবধারিত ছিল।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com